শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
শনিবার, ৩১শে শ্রাবণ ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
আমার জীবনের গল্প: যশোদা জীবন
প্রকাশ: ০২:২৫ pm ১১-০৬-২০২০ হালনাগাদ: ০২:২৫ pm ১১-০৬-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


হটাৎ করে একদিন এনসিআর থেকে জানালো কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস্টার স্টেলিওস ফ্রাগস বাংলাদেশে একদিনের জন‍্য আসবেন, উদ্দেশ্য আমার সাথে মিটিং করা। NCR একটি গ্লোবাল কোম্পানি যার হেড কোয়ার্টার আটলান্টা ইউএসএ। আমেরিকার টপ ফিফটি কোম্পানি মধ্যে একটি NCR। পৃথিবীর সকল দেশেই ব‍্যাংকিং সেক্টরে NCR তাদের ব‍্যবসা আছে। NCR কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট আসবে শুনে আমি তো ভিশন আনন্দিত। সংকিত এই ভেবে যে, টেকনোমিডিয়ার অফিসটা পল্টন টাওয়ারে ছোট্ট একটা পরিসরে। কি ভাবে তাকে আমার এই ছোট্ট অফিসে নিয়ে আসবো। আমি জানি না উনি কবে আসবেন। হটাৎ করে সকালে আমার অফিসে উপস্থিত, বলা নাই, কওয়া নাই, আমি যার জন‍্য অপেক্ষা করছি কয়েকদিন ধরে, আর সে কিনা আমার অফিসে? স্টেলিওস ফ্রাগস আমার সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে এসেছে সুদূর আমেরিকা থেকে। হাতে তুলে দিলো NCR এর সকল ডিপার্টমেন্টের বাংলাদেশ ব‍্যবসা করার সমঝোতার দলিল যা আমাকে আর এক ধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। NCR এর অনেকগুলো ডিভিশন, এসএমডি, ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট আরো অনেক। NCR এর সব গুলো দার বাংলাদেশের জন‍্য উন্মোক্ত করে দিলো- এখন আমার পেমেন্ট সিস্টেম, ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসে আর কোন বাধা রইলো না। এখানে আমি উল্লেখ করতে চাই, NCR আশির দশকে সরাসরি ব‍্যবসা করতো। ঢাকাতে NCR এর অফিস ও ছিলো, পরবর্তীকালে আবতাব উল ইসলাম যিনি IOE কোম্পানির ম‍্যানেজিং ডিরেক্টর, সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ব‍্যাংকের সন্মানিত পরিচালক, তিনিই NCR এ বাংলাদেশে কাজ করতেন সিইও হিসাবে পরিবর্তিতে লিডস করপোরেশন দায়িত্ব নেন, যেহেতু লিডস করপোরেশন ভালো করতে পারছে না সেজন্য NCR আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন। NCR আমাকে SMD তে ভালো করতে দেখে অন‍্য ডিভিশনের পূর্ন স্বাধীনতা দিয়ে দেয়। আমার প্রথম পদক্ষেপ ডাচ বাংলা ব‍্যাংক লিমিটেড এর ফাইনান্সিয়াল ডিভিশনের ATM সরবরাহ এবং সেবা দান করা যা আমি প্রথম ওডারটি অত‍্যান্ত সফলতার সাথে সম্পূর্ণ করি যা বাংলাদেশ মার্কেটে মাইল ফলক হিসাবে ATM এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে সফলতা গল্পে নতুন এক মাইলফলক যোগ হলো। বাংলাদেশের মানুষ তখনও ভালো ভাবে ATM ব‍্যবহার করতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ বোধ করত না এবং অনেকেই এর ব্যবহার জানতো না। শুরুর দিকে বেশিরভাগ কাস্টমার ATM ব্যবহার শিখিয়ে দিতে হতো। আমি যখন ডাচ বাংলা ব্যাংকের সাথে কাজ শুরু করি তখন তাদের একাউন্টের সংখ‍্যা মাত্র ৫৪,০০০ হাজার আর এখন তাদের কাস্টমারের সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন। ডাচ বাংলা ব‍্যাংকের টোটাল জার্নিতে আমি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যে কোন নতুন প্রযুক্তি এ‍্যাডপ করতে একটুতো সময় লাগবেই, তবে আমরা এমন এক জাতি, যে কোন নতুনত্বকে আয়ত্বে আনতে যে কোন দেশের মানুষের চেয়ে একধাপ এগিয়ে আছি, যদি না কোন ইনোভেশন এর ইন্সট্রুমেন্ট গুলো সঠিক সময়ে হাতে পাওয়া যায়। আমি দৃঢ় প্রত‍্যয়ের সাথে বলতে পারি, আমাদের যুব সমাজের যে মেধা আছে আর তা যদি ব‍্যবহার করার উপযুক্ত পরিবেশ থাকতো তাহলে বিশ্বের যে কোন দেশের যুব সমাজ থেকে বাংলাদেশের যুব সমাজ একধাপ এগিয়ে থাকতো। আমি প্রযুক্তিগত বিদ‍্যায় পরদর্শী না তবে আইডিয়া, ইমপ্লিমেন্টেশন কারো থেকে কম নয়। টেকনোলজিতে কোন কিছুই অসম্ভব নয়, শুধু বিশ্বাস করতে হবে তারপর এগিয়ে যেতে হবে বাস্তবায়নের দিকে। যত প্রকারই কঠিন কাজ হোক না কেন তা সহজ সরল ভাবে ভাবতে হবে। কঠিন কাজ গুলো জীবনের সাথে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে মিলিয়ে নিতে হবে তাহলে তা দৈনন্দিন জীবনের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে চলা যাবে। আমাদের পূর্ব পূরুষেরা যা করে গেছে তাই আমাদের করতে হবে এটা কোন কথা হতে পারে না।

আধুনিক প্রযুক্তির সাথে জীবনকে খাপখাইয়ে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। সর্বদাই মনে রাখতে হবে, অতীত, যা চলে গেছে। আগামীকাল নতুন সূর্যদ্বয়ে আমাদের জন্য নতুন কিছু অপেক্ষা করছে। এটা মেনে নিতে শিখতে হবে- জীবনের আস্বাধন জীবন থেকেই নিতে হয়, সময় কে কাজে লাগাতে হয় এমনি ভাবে যেমনটি প্রতিমুহুর্তে তুমি অক্সিজেন নিচ্ছো, এই অর্থ থেকে তেমনি সময়ের ব‍্যবহার করতে হবে প্রতি মিলি সেকেন্ডে। যে কাজটা এখন করা দরকার সেটা কেন আমি পরে করবো বলে ফেলে রাখবো? আমরা সবাই জানি, সময়ের এক ফোটা অসমের দশ ফোটার সমান। তাইতো সময় আমাকে শিখিয়ে দিয়েছে প্রযুক্তি ব‍্যবহারের উত্তম সময় এখনই। আগামী দিনগুলোতে ব্যাংকিং গ্রাহকদের কত সহজে সেবা প্রদান করা যায় সেই জায়গাটা নিয়ে আমি ভাবছি, বাংলাদেশের মানুষের ব‍্যাংকে গচ্ছিত অর্থ যেনো সহজ ভাবে, সময় অপচয় না করে ঘরে বসে পেতে পারে। আমার কাজ করতে হবে এই জায়গা যেখানে জনগণের হক ঝামেলা বিহীন প্রাপ্তিতে রূপান্তরিত হয়। ব‍্যবসা-বানিজ‍্য মানুষ করে, আমিও করি, আমার চিন্তা ভাবনায় সবসময় কাজ করে এই ব্যবসা-বাণিজ্য যেন হয় মানুষের মঙ্গলের জন্য, কল্যাণের জন্য এবং আমাদের আগত প্রজন্ম যেন এই সুফল ভোগ করতে পারে। যে কোন ব‍্যবসা-বানিজ‍্য করতে গেলে মানুষ লাভটা দেখবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্ত মনে রাখতে হবে ঐ লাভে অন‍্য জনের যেনো মস্ত বড় ক্ষতি না হয়। একজন ব্যাংকের গ্রাহক যদি তার গচ্ছিত অর্থ তোলার জন‍্য কোন ব‍্যাংকের শাখায় যায় তার কতোটা সময় অপচয় হয়, এক পাতা চেকের মূল‍্য কতো? প্রতিটি লেনদেনের ব‍্যাংকের খরচ কতো? সব মিলিয়ে যা হয় তার তিন ভাগের এক ভাগ খরচ হয় যদি ATM এর মাধ্যমে তার লেনদেনটি সম্পন্ন করে। আমি ATM ব্যবহারের বহুমুখী সুবিধা বোঝাতে সক্ষম হলাম ডাচ বাংলা ব্যাংকে।

আমার সফলতার গল্পে পরিপূরক হয়ে জরিয়ে আছে এ.কে.এম মোহাম্মদ শিরিন, আমাদের শিরিন ভাই- ব‍্যবস্হাপনা পরিচালক, ডাচ বাংলা ব‍্যাংক লিমিটেড। তার সাথে আমার সম্পর্ক কবে হয়েছিল তা আমি একবারেই ভুলে গেছি। পরিচয় হয়েছিল শিরিন ভাই তখন বেসিক ব‍্যাংকে চাকরি করে, তারপর ডাচ বাংলা ব‍্যাংকের হেড অব আইটি, ডিএমডি, আর এখন তিনি এমডি। বাংলাদেশে তিনিই একজন সফল ব‍্যাক্তি যিনি আইটি প্রোফেশনে থেকে ব‍্যাংকের এমডি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন এবং পুনরায় ঐ একিই পদে বহাল রয়েছেন। তার বর্ণাঢ্য জীবন সম্মন্ধে বলতে গেলে হয়তো একটি বই লেখা যাবে। তার সততা, দৃঢ়তা, সচ্ছতা যদি কারো মধ্যে থেকে থাকে শতভাগ, আমি চোখ বুজে বলবো আমার দেখা শিরিন ভাই। শিরিন ভাই এর মাধ্যমে পরিচয় হয় শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাহের সাথে তিনি ডাচ বাংলা ব‍্যাংকের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান। উনার সংস্পর্শে আমি যতোবারই গিয়েছি, মনে পরে না আমি শুন‍্য হাতে ফিরেছি। দাম দস্তর সব সেই ঠিক করে দিয়েছে, কখনও লাভ বা কখনও লোকসান। লোকসান গুনেছি বহুবার। আমার জীবনে সফলতার পিছনে তার অবদান আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। আজকে ডাচ বাংলা ব‍্যাংকের সিংহভাগ ATM মেশিন গুলো আমার কোম্পানি টেকনোমিডিয়া লিমিটেডের দেওয়া এবং রক্ষনাবেক্ষন টেকনোমিডিয়া লিমিটেডেরই করতে হয়। নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করলাম, পর্যায় ক্রমে ডাক পড়লো সিটি ব‍্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব‍্যাংক, ট্রাস্ট ব‍্যাংক, পূবালী ব‍্যাংক, চাটার্ড ব‍্যাংক, ব্রাক ব‍্যাংক, ইউনাইটেড কমার্সশিয়াল ব‍্যাংক, রুপালী ব‍্যাংক, ওয়ান ব‍্যাংক, প্রিমিয়ার ব‍্যাংক, ঢাকা ব‍্যাংক, বাদ রইলো না এইচএসবিসি ব্যাংক, প্রাইম ব‍্যাংক, হাবিব ব‍্যাংক, বাকী ছোট-বড় ব্যাংক মিলে প্রায় সব জায়গা থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের প্রায় ৮০℅ ATM আমার কোম্পানি টেকনোমিডিয়া লিমিটেডেরই দেখভাল করতে হয়। প্রতিদিন প্রায় ১১ লক্ষ‍ লেনদেনের সাথে আমি অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জরিত কিন্ত কখনোই থেমে থাকে নাই আমার নতুনত্বের ভাবনা আর ব্যাংকিং প্রযুক্তি নিয়ে ভাবনায় কোন শেষ নেই নাই আমার। সততা মানুষ কে কখনও মহত্বের দিকে নিয়ে যায় হাত বাড়িয়ে দেয় সফলতার। আমি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ট‍্যাক্স এবং ভ‍্যাটের সঠিক প্রাপ‍্যটা জমা দিয়েছি জাতীয় রাজস্ব কোষাগারে যথা সময়ে। আমি সর্বদা মনে রাখতাম, সৎ পথের এক টাকা অসৎ পথের একশো টাকার মূল্য কেও হার মানায়। আমার কোন ব‍্যক্তিগত খরচ যাতে ট‍্যাক্সের পরে হয় সেটাও আমি নিশ্চিত করে চলতাম। নিশ্চিত করে চলতাম এই ভেবে যে, আমাদের দেশের সরকার প্রধান একদিন হয়তো আমাকে মূল‍্যায়ন করবেন এ দেশের উন্নয়নের একজন অংশীদারি যোগ্য নাগরিক হিসাবে।

মানুষের সফলতা এবং আভিজাত্য একে অপরের পরিপূরক। আমি একদিন গাজীপুর থেকে ফিরছিলাম, উত্তরায় এসে আমার গাড়িটি বন্ধ হয়ে যায় আর স্টার্ট নিচ্ছে না। ড্রাইভারকে বললাম গাড়ি ঠিক করে চলে এসো। পাসেই ছিলো ফোর্ড গাড়ির শোরুম, আমি হাটতে হাটতে গাড়ি শোরুমে গেলাম, কেনোফার সহ লম্বা একটি গাড়ির দেখে আমার পছন্দ হলো, ম‍্যানেজার কে চিনে ফেললাম আমি। ম‍্যানেজার গাড়ির দামও সহনশীল বললো, ম‍্যানেজার বললো পছন্দ হলে নিয়ে যান টাকা পরে দিলেও চলবে। আমি আর অপেক্ষা করলাম না- গাড়িটির লোভ ও সামলাতে পারছিলাম না আমি। তাই গাড়িটি নিয়েই বাসায় আসলাম। আমেরিকান গাড়ি বলে কথা। সোমা নামলো নিচে। অন‍্য ফ্লাটের লোকও নামলো নিচে, গাড়িটি কোন অবস্থাতেই পার্কিং করতে পারছি না, লম্বা গাড়ি হওয়ার কারনে। বাদ সাধলো বাসায় সোমা, সোমা বললো এতো লম্বা গাড়ি কিনলে কে? উত্তর দিলাম ইয়ার্কি করে- বললাম একটি টাকার গাছ লাগিয়েছি, প্রতিদিন সকালে গাছ থেকে টাকা পড়বে ওগুলো কুড়িয়ে আনতে হলে এই গাড়িটিই দরকার। কী উত্তর দেবো আমি অনুপস্থিত ভাবে কিছুটা ইয়ার্কি ফাজলামি করে বলে ফেললাম কথাটা। পরের দিন সকালে গেলাম ডাচ বাংলা ব‍্যাংকের ফাউন্ডার চেয়ারম্যানের অফিসে, শিরিন ভাই ওখানে ছিলেন। উনারা বসে আলাপ করছিলেন একে অপরের সাথে ATM এ ক‍্যাস লোডিং নিয়ে, এক গ্রুপফোর'কে নিয়ে তারা যন্ত্রণায় আছে, হটাৎ করে চেয়ারম্যান বলে ফেললো কিছু কাজ জীবনকে দিয়ে দাও। গ্রুপফোর'কে যে দামে ঐ একই রেটে দিয়ে দাও। শিরিন ভাই আমাকে বললো জীবন, এই কাজ করার জন‍্য কোন কোম্পানি আছে? আমার মূখদিয়ে হটাৎ করে বের হয়ে গেলো- আছে শিরিন ভাই, কোম্পানির নাম "মানিপ্লান্ট" যেটা নিয়ে গতকাল সন্ধায় সোমার সাথে ইয়ার্কি করেছিলাম। শিরিন ভাই বললো তারাতারি অফার লেটারটা পাঠিয়ে দেন। আমি সাথে সাথে অফিসে এসে লেটারহেড প‍্যাড বানালাম "মানিপ্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড" এবং অফার লেটারটি পাঠিয়ে দিলাম। কয়েক দিনের মধ্যে আমি কাজও পেয়ে গেলাম, পরে আমরা ফরমালিটিস করেছি কোম্পানির প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের। এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে মানিপ্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড ATM বুথ সহ ব‍্যাংকের টাকা সরবরাহের কাজ অত‍্যান্ত সুনামের সাথে করে যাচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে প্রতিনিয়ত আমার মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড এর সেবা নিতে আমাদের সাথে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ব‍্যাংক। চলবে....

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71