বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০
বৃহঃস্পতিবার, ১৮ই আষাঢ় ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
করোনায় এ এক অন্যরকম যোগী আদিত্যনাথ !
প্রকাশ: ০৪:৫৩ pm ০৭-০৫-২০২০ হালনাগাদ: ০৪:৫৩ pm ০৭-০৫-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে যোগী আদিত্যনাথ কে আমি চিনতাম না। প্রথম দর্শনে মনে হয়নি যে লোকটা অংকে বিএসসি এবং চার বারের সাংসদ। উত্তরপ্রদেশের আইন-কানুনের পরিস্থিতি, সমাজ ব্যবস্থা, রাজনীতি, জাতপাত, কুসংস্কার, এমন অগণিত সমস্যা জর্জরিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া আর কাঁটার মুকুট পড়া সমার্থক।

করোনা বিধ্বস্ত ইতালি, স্পেন, ইংল্যান্ড, এমনকি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের জনসংখ্যা একজায়গায় করলেও উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার সমান হয় না। উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২৩ কোটি। এমন একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হিসেবে করোনা মোকাবিলা করা কতটা কঠিন তা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এই লোকটি বিস্ময়করভাবে এমন কিছু কাজ করেছে যা ভারতবর্ষের বুকে নজির সৃষ্টি করবে। খুব সহজেই যে উত্তরপ্রদেশ করোনা আক্রান্তের তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারত, তারা কিন্তু নিজেদেরকে সপ্তম স্থানে রেখেছে। যোগী জি লকডাউন শুরু হবার আগেই ৬১১ কোটি টাকার ফান্ড ঘোষণা করেন। ১৫ লক্ষ কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, ১.১৬ কোটি হকার, ৮৩ লক্ষ পেনশনভোগীদের একাউন্টে সরাসরি সরকারি অনুদান পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। "টিম ১১" নামে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেন। বিভিন্ন বিভাগের উচ্চপদস্থ আমলারা রয়েছেন এই দলে। প্রতিদিন মুখ্যমন্ত্রীকে করোনা মোকাবিলার বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং নীতি নির্ধারণ করেন এই "টিম ১১" । প্রতি জেলাস্তরেও গঠিত হয়েছে এই টাস্কফোর্স। বাড়ি বাড়ি খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো, অভুক্ত ও গৃহহীনদের দেখভাল করা, ওষুধের সুবন্দোবস্ত করা, লকডাউন সঠিকভাবে বলবৎ করা এবং মিডিয়াকে সঠিক খবর পৌঁছানো এই টিম এর মূল দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগে প্রত্যেক ব্যক্তিকে দুটি করে মাস্ক দেবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। লকডাউন এর পর প্রথম কয়েক দিন সবার বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়েছিল ইউপি পুলিশ। তারপর রেশন ব্যবস্থাকে সুচারু রূপে কার্যকর করা হয়।

করোনার এই লড়াইয়ে আদিত্যনাথ এর নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে আরো কয়েকটি কারনে। দিল্লি রাজ্য সরকারের পরিবহণ দফতরের এক অফিসারের ভুল তথ্যের ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক দলে দলে বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করে। এই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় দেখে সবাই আঁতকে ওঠে। আদিত্যনাথ তখন শুতে যাবেন, এমন সময় ফোন করে থাকে এই ঘটনা জানানো হয়। তৎক্ষণাৎ সমগ্র প্রশাসনকে সক্রিয় করেন তিনি এবং ২২০০ বাস পাঠিয়ে তিন লাখের বেশি শ্রমিক রাজ্যে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন। তারপর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। স্কুল কলেজগুলোতে এদেরকে পুলিশি পাহারায় কোয়ারেন্টাইন করে রাখা ব্যবস্থা করা হয়। ১৩৩০ জন তাবলীগী জামাতের সদস্যকে খুঁজে বের করে তাদেরকেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। 

এই পদক্ষেপগুলি যদি যোগীর মানবিক মুখ হয়ে থাকে, তাহলে ডাক্তারদের যারা পাথর ছুঁড়ে ছিল, তারা যোগীর রুদ্ররূপ দেখেছে। অন্যায় এবং অন্যায়কারীর সাথে কোনরকম আপস উত্তরপ্রদেশে করা হবে না, এটা উনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। গেরুয়া বসনধারী বলে অনেকের ধারণা উনি হয়তো রাজ্যের বাণিজ্যিক বা ব্যবসায় উন্নতি নিয়ে সচেতন না। জেনে রাখুন ইতিমধ্যে একশর বেশি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সাথে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। তাদেরকে চীন ছেড়ে ইউপিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশও করেছে। গত ২০শে এপ্রিল দিল্লির এইমস হাসপাতালে যোগীজির বাবা পরলোকগমন করেন। শেষবারের মতন দেখা করার ইচ্ছা থাকলেও রাজ্যের মানুষ যে দায়িত্ব তার কাঁধে দিয়েছেন সেই দায়িত্ব থেকে এক মুহূর্তের জন্যও তিনি সরতে পারেননি বা সরতে চান নি। বাবাকে শেষবারের জন্য আর দেখা হয়ে ওঠে নি। এই হল গেরুয়া বসনধারীর মাহাত্ম্য।

আর একটা ঘটনা বলে শেষ করব। রাজস্থানের কোটা থেকে প্রায় ১১ হাজার ছাত্রকে রাজ্যে ফিরিয়ে এনেছিলেন যোগী। রাজ্যে ফেরার পর তাদের নিয়ে তিনি ভিডিও কনফারেন্সিং করছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কুশল জিজ্ঞেস করা, স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেওয়া, পড়াশোনার জন্য উৎসাহিত করা... এই ধরনের কথাবার্তা চলছিল ভিডিও কনফারেন্সে। হঠাৎ এক ছাত্রকে তিনি বলে বসলেন, "তুমিতো বাসের ভাড়া দাও নি"। ছাত্রছাত্রীরা সবাই হতবাক হয়ে যায়। সেই সঙ্গে হকচকিয়ে যায় আমলারাও। সবাই তখন চুপ করে রয়েছে। যোগী জি আবার বললেন, "ভালো করে পড়াশোনা করো আর দেশের নাম উজ্জ্বল করো। এটাই তোমার ভাড়া।" গেরুয়া বসনধারী এই লোকটি স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথেই চলছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজের সবটুকু নিয়োজিত করেছেন। এর থেকে বড় অনুপ্রেরণাদায়ক মুখ্যমন্ত্রী আর কেই বা হতে পারেন ?

ভারতবর্ষ কি তবে তার মোদি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ঠিক করেই রেখেছে ? উত্তরটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকটি বছর!

 নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71