রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২০
রবিবার, ২২শে চৈত্র ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
চলেন আমরাও প্রতিবাদে নামি
প্রকাশ: ১০:২৯ am ২৬-১২-২০১৯ হালনাগাদ: ১০:২৯ am ২৬-১২-২০১৯
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রতিবাদে ভারত জ্বলছে। সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ করছেন। একটা অসভ্য বর্বর আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবে, এটাই শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের ধর্ম। এ ক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য। পাকিস্তানের মত একটা বর্বর চিন্তার রাষ্ট্রের সঙ্গে বাঙালী থাকবে না বলেই সশস্ত্র লড়াই করে বিশ্বের মানচিত্রে একটা নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। যে রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিলো শুধু জাতীয়তাবাদ। বাঙালী জাতীয়তাবাদ। সংবিধানে প্রতিষ্ঠা হয় চারটি মূলনীতি। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। পৃথীবির শ্রেষ্ট চারটি মতবাদ সংযোজন করে, চেতনায় ধারন করে প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ধংস করে দেয়া হয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জেনারেল জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পরিবর্তন করে ফেলেন সংবিধানের মৌল কাঠামো। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনির মাধ্যমে পাকিস্তানী কায়দায় ফের ধর্মকে টেনে আনেন রাষ্ট্রপরিচালনায়। লুপ্ত হতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। পরাজিত শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

জেনারেল জিয়াকে হত্যার পর ক্ষমতা দখলে নেন আরেক জেনারেল এরশাদ। স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ধর্মকে আরো নানা আকারে ব্যবহার করতে থাকেন। এর মধ্যে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে অন্য সব ধর্মকে দ্বিতীয় শ্রেণির করেন। অন্য ধর্মের মানুষদের রাষ্ট্রিয় মর্যাদার হানি ঘটান। দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে ফেলেন।

স্বৈরশাসক এরশাদের এই কুকর্ম ধুলিসাৎ করে দেয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশের মানুষ যতটুকু প্রতিবাদি হওয়ার কথা ছিলো ঠিক ততটুকু হতে পারে নি বা হয় নি। আজ নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রতিবাদে ভারতবর্ষের আপামর জনতা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে তাদের সুস্থ চিন্তার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে যখন রাষ্ট্রধর্ম করা হয় তখন কিন্তু এ নিয়ে তেমন প্রতিবাদ হয়নি। প্রগতীশীল কিছু মানুষ ও রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করেছিলেন।

এরশাদের অষ্টম সংশোধনিতে দুটি অংশ ছিলো। ১. রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা আর ২. হাইকোর্টের ৬টি বেঞ্চ ঢাকার বাইরে স্থানান্তর। আমরা দেখলাম দেশের বড় আইনজীবিরা দ্বিতীয় অংশটি অর্থাৎ হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থানান্তরের প্রতিবাদ করলেন এবং এর বিরুদ্ধে রিট করলেন। হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থানান্তর অবৈধ ঘোষণা করলো কিন্তু রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে নিশ্চুপ রইলো। এর পরের ইতিহাস সবাই জানেন।

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করে ৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতি ফেরত এনেছে। কিন্তু রাষ্ট্রধর্মের অংশটি নিয়ে অজানা ভয়ে কথা বলছে না। এটা যেমন ছিলো তেমনি রয়ে গেছে। ধর্মকে রাষ্ট্রের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে রাষ্ট্রচিন্তাকেই হেয় করা হয়েছে। একবিংশ শতাব্দিতে জ্ঞান বিজ্ঞানে মানুষ যখন সুপারসনিক গতিতে আগাচ্ছে তখনো আমরা ফিরে যেতে চাচ্ছি মধ্যযুগীয় সময়ে। আমাদের পাশের দেশ নেপাল ২০১৫ সালে সংবিধান সংশোধন করে সংবিধান থেকে ধর্মকে বাদ দিয়ে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে। একটা আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলছে তারা। আর আমরা সেই তিমিরেই রয়ে গেছি।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের পক্ষে কোনো যুক্তি খাটেনা। কোনো সুস্থ মানুষ এর পক্ষে দাঁড়াতে পারে না। আইন করে কোনো একটি ধর্মের মানুষের প্রতি বৈষম্য কোনো সভ্যতার মধ্যে পড়ে না। আর এজন্যই ভারত বর্ষের সুস্থ চিন্তার মানুষ মাঠে নেমেছে। প্রতিবাদের আগুনে জ্বলে ওঠেছে। খুশি হতাম যদি একই ধরনের প্রতিবাদ হতো বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হরণের প্রতিবাদে। ৩০ বছর আগের একটি অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আইনের প্রতিবাদ এখন হতে পারবে না তা তো নয়। নামেন না বাংলার সুস্থ চিন্তার মানুষগণ, প্রতিবাদে নামেন বাংলার দামাল ছেলেরা। ৩০ লক্ষ প্রাণ বিসর্জন দিয়ে পাওয়া এই দেশটি হওয়ার কথা ছিলো ধর্ম বর্ণের বৈষম্যহীন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার লক্ষ্য ছিলো একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের। চলেন সবাই মিলে ফিরিয়ে আনি সেই উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে।

সূএ: তার নিজস্ব ফেজবুক থেকে

নি এম/শংকর মৈত্র

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

Editor: Sukriti Kr Mondal

E-mail: info.eibela@gmail.com Editor: sukritieibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71