শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০
শুক্রবার, ১৯শে আষাঢ় ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
ঠাকুরগাঁয়ে দেহব্যবসায় রাজি না হওয়ায় স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া
প্রকাশ: ০৯:২৩ pm ১০-০৩-২০২০ হালনাগাদ: ০৯:২৩ pm ১০-০৩-২০২০
 
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
 
 
 
 


তিন সন্তানের মাকে (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা করার কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল স্বামী আমিরুল। আর সঙ্গে ছিল যৌতুকের দাবি। কিন্তু এতে রাজি হননি ওই গৃহবধূ। এজন্য স্ত্রীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে আসছিল পাষণ্ড স্বামী।

শেষ পর্যন্ত কথা না শোনার অভিযোগ তুলে শনিবার অনেকটা বিবস্ত্র করে বাড়ির বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পাষণ্ড স্বামী ওই গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করে দেয়।

মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গীতে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ এখন প্রাণভয়ে তিন সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ননদের বাড়িতে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা হলে পুলিশ ডাঙ্গী বাজার এলাকা থেকে স্বামী আমিরুলকে গ্রেপ্তার করে।

প্রতিবেশীরা জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই গৃহবধূর। তিন সন্তান নিয়ে সংসার। স্বামী আমিরুল কবিরাজি করে আসছেন। সংসারে অভাব-অনটনে প্রায় সময়ই স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করে আমিরুল।

শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে দেহব্যবসা করারও কু-প্রস্তাব দেয় বলেও অভিযোগ। এতে রাজি না হলে চলে নির্মম নির্যাতন। ঘরের ভেতরে আটকে অনেকটা বিবস্ত্র করে পেটায় পাষণ্ড স্বামী। ফলে চাইলেও এলাকার কেউ গৃহবধূকে বাঁচাতেও পারে না।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ, কয়েকদিন থেকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চলায় অন্য পুরুষের সঙ্গী হতে। এ নিয়ে শনিবার বালিয়াডাঙ্গীতে ননদের বাড়িতে বিচার দিতে যান। সেখান থেকে আমিরুল জোর করে বাড়িতে এনে হাত-পা বারান্দার পিলারের সঙ্গে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরে গ্লাসে করে মলমূত্র মুখের ভেতর ঢেলে দেয়।

স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে আমিরুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গত দুই বছর আগে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিচার দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

আমিরুলের ভাগ্নে মিজানুর রহমান বলেন, মামির ওপর প্রায়শই নির্যাতন চালান মামা। আমরা নিষেধ করলেও মানেননি।

প্রতিবেশী হালিমা বেগম বলেন, ‘গত শনিবার বিকেলে আমিরুল তার স্ত্রী রোজিনার মাথা ন্যাড়া করে সেটা মোবাইলে রেকর্ড করছিল। আর বলছিল- বল, আমার মাথা আমি নিজে নিজে ন্যাড়া করেছি। দরজা লাগানো ছিল বলে ভেতরে কেউ যেতে পারিনি। ছিদ্র দিয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পরে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ এখন আমিরুলের বোনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

অভিযুক্ত আমিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71