eibela24.com
বুধবার, ০৫, আগস্ট, ২০২০
 

 
অসুস্থ সন্তানকে বাঁশের স্ট্রেচারে নিয়ে ১৩শ' কি.মি'র পথে পরিবার ...
আপডেট: ১০:১১ pm ১৬-০৫-২০২০
 
 


লকডাউনে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় না খেয়ে দিন পার করছিল একই পরিবারের ১৭ সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি ফেরার টাকা না থাকায় পায়ে হেটে ১৩ শ কিলোমিটার পথচলা শুরু করেন তারা। ৮০০ কিলোমিটার পারি দেয়ার পরই পায়ে চোট পায় এক সন্তান, চিকিৎসা করানোর টাকা না থাকায়, নিজেরা বাঁশ ও খাটিয়া দিয়ে স্ট্রেচার বানিয়ে তার উপর ওই কিশোরকে শুইয়ে হাঁটতে শুরু করেন । টানা ১৫ দিন হেঁটে কানপুর পৌঁছান তারা। ওই অসহায় পরিবারটি পাঞ্জাবের লুধিয়ানা মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রাউলি যাওয়ার জন্য পথ চলতে শুরু করেছিলেন। 

একটি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, লুধিয়ানাতে দিনমজুরের কাজ করতেন ওই পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু লকডাউন কাজ বন্ধ হয়ে যায় তাদের। টাকা না থাকায় পরিবারে দেখা দেয় খাদ্য সংক ট। ফলে হেঁ’টেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তারা। সেইমতো ১৫ দিন আগে হাঁটা শুরু করেন। কিন্তু পথেই গুরুতর চোট পায় ওই কিশোর। তাঁকে নিয়ে ফিরতে হবে, তাই নিজেরা স্ট্রেচার বানিয়ে তার উপর ওই কিশোরকে শুইয়ে হাঁটতে শুরু করেন।

টানা ১৫ দিন হেঁটে কানপুর পৌঁছান তাঁরা। পরে স্থানীয় পুলিশ তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন।

জানা গেছে, লুধিয়ানা থেকে সিংগ্রাউলির দূরত্ব প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার ১৫ দিনে পেরিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পথে কোনও দিন তাঁদের খাবার জুটেছে, কোনদিন আধপেটা খেয়েই ফের হেঁটেছেন। এরপর এদিন কানপুর পুলিশের চোখে পড়ে কাউকে কাঁধে নিয়ে হেঁটে চলেছেন বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করতেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, ১৫ দিন ভালো
করে খেতে পাননি তাঁরা। অনেকের জুতাও নেই। ফলে খালি পায়েই পেরিয়েছেন এই দীর্ঘ পথ। এরপর অবশ্য কানপুর পুলিশের তরফে তাঁদের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের জুতাও কিনে দেয় পুলিশ। এরপর বাড়ি ফেরার জন্য ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়। তাতেই বাকি পথ পাড়ি দেবেন তাঁরা।

নি এম/