eibela24.com
শুক্রবার, ১৪, আগস্ট, ২০২০
 

 
আমার জীবনের গল্প: যশোদা জীবন
আপডেট: ০৯:৩৬ pm ৩০-০৫-২০২০
 
 


জীবন একটা প্রবাহমান ধারা আর এই ধারায় কখনও উথান আবার কখনও বা পতন, আমার বেলায় এর ব‍্যতিক্রম না কখনই। প্রয়োজনের তাগিদে ফিরে আসতে হলো ঢাকায়, পরের দিন অফিসে গেলাম, দেখা করলাম অফিসের কলিগদের সাথে, কেমন যেনো একটা স্মেল পাচ্ছি, কারো কারো আন্তরিকতা যেনো কমতি দেখা যাচ্ছে, বুঝা যাচ্ছে অফিসের একটা পরিবর্তন, যদিও আমার একটা অন‍্যায় হয়ে গেছে, আমি ১৫ দিন ছুটি নিয়ে, ইন্ডিয়াতে এক মাস কাটানো হয়ে গেছে আমার। বোরহান ভাই একটু রাগারাগি করবে এটাইতো স্বাভাবিক, কিন্ত ঘুর্নাক্ষরে বুঝতে পারি নাই যে বোরহান ভাই আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দিবে আর বোরহান ভাই সেটাই করলেন। আমাকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন কাল থেকে আপনার অফিসে আসার দরকার নাই। উনার কথা শুনে আমার মাথায় বজ্রঘাতের মতো যেন বজ্রপাত ভেঙ্গে পড়লো। তাৎক্ষণিকভাবে হাজার চিন্তা মাথায় এসে ভর করলো। দুশ্চিন্তা আমাকে এমন ভাবে আকরে ধরলো যেনো এর চেয়ে আর খারাপ কাজ হতে পারে না। বোরহান ভাই এর প্রতি আমার আগে কোন খারাপ ধারনা ছিলো না, কিন্তু এই ঘটনার পর তাকে ভালো মানুষ হিসাবে মুল‍্যায়ন করতেও কষ্ট হচ্ছে। মনের অজান্তে যেন একটা অভিশাপই দিলাম। ঠিক করলেন না বোরহান ভাই, ঠিক করলেন না, কষ্টে বের হয়ে গেলাম ডেস্কটপ টাওয়ার থেকে। বিয়ের এক মাসের মধ্যে যদি কারো চাকরি চলে যায় একমাএ সেই বুঝতে পারে তার মানুষিক অবস্থা। তাইতো আমি ধর্য‍্য, বুদ্ধি এবং বিচক্ষনতা দিয়ে ভাবতে থাকলাম এখন আমার কি করা উচিৎ? যদিও ডেস্কটপ থেকে যে বেতন পেতাম প্রতি মাসে তার বেশী খরচ হতো, ব‍্যবসা বা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা আমার কিছুটা ছিলো। কিছু কিছু মহামানবদের কথা অথবা সাহিত্যবিদের কোন না কোন কথা মনে রাখতাম, মনে রাখতাম বললে ভুল হবে, ধারন করতাম আমার অন্তরে। যেমন ডেল কার্নেগী বলেছেন, যেকোনো জটিল সমস‍্যা হউক না কেন তার কম পক্ষ‍্যে তিনটি সমাধানের পথ আছে। মনে মনে ভেবে নিলাম আমারও এই সমস্যার একাধিক সমাধান আছে শুধু ভেবে বের করতে হবে। প্রথমত আমার শুভাকঙ্খীদের সাথে শেয়ার করলাম, স্বপ্ন দেখালো সবাই নতুন কোন চাকুরীর খোঁজ করতে, শেয়ার করলাম আমার শশুরের সাথে, উনি বললেন, তুমি আসলে কি করতে চাও, চিন্তা করার আগেই উত্তর দিলাম- ব‍্যবসা করতে চাই, আর আইটি সেক্টরেই ব‍্যবসা করতে চাই, উনি বললেন তাহল শুরু করো, চিন্তা করে ফেললাম টেকনোলজিতে একা স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়া যায় না, এতে কোন না কোন মিডিয়ার দরকার হয়, তাই কম্পানির নাম মনে মনে সিলেক্ট করলাম টেকনো + মিডিয়া = টেকনোমিডিয়া লিমিটেড। আর.জে.এস.সি তে এপ্লাই করলাম। পেয়ে গেলাম কোম্পানির নাম। করে ফেললাম রেজিস্ট্রেশন, কোম্পানির টিআইএন নম্বর আর ভ‍্যাট রেজিস্ট্রেশন পেতে সমস্যা হলো না। পরিকল্পনা এবং কাজের গতি এক সাথে শুরু করলাম, শশুর আমাকে ব‍্যবসা করার জন‍্য ১৫ লক্ষ‍্য টাকা দিলেন, বলে দিলেন ব‍্যবসা করে এটা ফেরত দিতে হবে। চ‍্যালেন্জ গ্রহন করলাম মনে মনে, এলিফেন রোডে অফিস নিলাম। সুন্দর করে ডেকোরেশন করলাম, শুরু করলাম কম্পিউটারের ব‍্যবসা।

আমার ব‍্যবসা শুরুটা হলো ক্লোন কম্পিউটার দিয়ে, সাথে করলাম সাইবার ক্যাফে। শুরু হলো আমার ব‍্যবসা জীবন। আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলাম, ব‍্যবসা এবং চাকরি কখনওই এক না। ব‍্যবসায়িক সফলতা বা প্রতিকূলতা একে অপরের পরিপূরক। কখনও খুব ভালো কখনো বা খারাপ এই ভাবেই চলছে আমার ব‍্যবসা, এদিকে ছোট ভাই সুদর্শন ও আমার কাছেই থাকতো, এলাকা থেকে আরো দুই একজন ডেকে আনলাম তাপস এবং অপুকে। ওরা আমার গ্রামের ছেলে। ২৩০ এ‍্যালিফ‍্যান্ট রোড আমার কম্পিউটারের অফিস। এদিকে আমার শশুর ইস্কাটন গার্ডেনে একটি ফ্লাট কিনে রেখেছিলেন, উনি আমাদের ঐ ফ্লাটে উঠতে বললেন। তাই আমি শান্তিবাগের বাসা ছেরে দিয়ে ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় উঠে পরলাম। ঢাকার শহরের বাসার মোট খরচের অর্ধেকের বেশিই লেগে যায় বাসা ভাড়া। সোমাও চলে আসলো ইন্ডিয়া থেকে, দুই জন মিলে বাসার দৈনন্দিন এবং ফার্নিচার গুলো কিনে ফেললাম, ফার্নিচার বলতে ঐ জাহাজ ভাঙ্গারি ফার্নিচার, তুলনা মূলক ভাবে দাম কম, আমাদের রিকসায় ঘুড়া, পাবলিক বাসে উঠা, এটা যেন আমাদের দৈনন্দিন ব‍্যাপার, সোমাও আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হতে লাগলো। এভাবেই চলতে থাকলো আমাদের সময়, ছোট ভাই সুদর্শন তখন আমাদের সাথেই থাকে। ও ইতিমধ্যে একজন পূনাঙ্গ হার্ডওয়ার ইন্জিনিয়ার হয়ে গেছে। কম্পিউটারের যেকোন হার্ডওয়ারের সংক্রান্ত সমস‍্যা ও সমাধান করতে পারে। এদিকে আমার কম্পিউটারের দোকান আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করলো, ছোট ছোট সরকারের টেন্ডার পার্টিসিপেট করা শুরু করলাম, তখন প্রায় সবাই ক্লোন কম্পিউটার ব‍্যবহার করতো, ক্লোন কম্পিউটার সরকারি অফিস গুলো ব‍্যবহার করতো। ফরিদপুরের অনেকেই জেনে ফেলল আমার কম্পিউটারের ব‍্যবসার কথা। ফরিদপুরের অনেক অফিসও আমার কাছ থেকে কম্পিউটার কিনে নিতো। নিতো বদরপুরের মৎস্য অফিস থেকে, ঐ অফিসে ছোট ছোট টেন্ডার হতো, ফরিদপুরের বরকত, রুবেল আর একটা কালো ছেলে আমি ওর নামটা ভুলে গেছি, ওরা সবাই আমাকে সাহায্য করতো, অনেকবার আমি ঐ মৎস্য ভবনের অফিসে গেছি। অনেকেই আমাকে সাহায্য করতো বাকীতে কম্পিউটার কমপোনেন্ট গুলো দিতো আমি বিক্রি করে তাদের টাকা পরিশোধ করতাম। সেইফ আইটি লিমিটেড, কম্পিউটার সোর্স, স্মার্ট টেকনোলজি তাদের মধ্যে অন‍্যতম।

আমার কম্পিউটারের ব‍্যবসা এভাবেই বছর কেটে গেলো, কম্পিউটারের ব‍্যবসা খারাপ না, চলছে এক প্রকার, ইতিমধ্যে লক্ষ্য করলাম একটি টেন্ডার আহবান করা হয়েছে এলজিইডি ডিপার্টমেন্ট থেকে। এলজিইডির চিপ ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী, উনার ছেলে কম্পিউটারের ব‍্যবসা করে। এলজিইডিতে একক ভাবে ব‍্যবসা করে সেই, যাহোক টেন্ডার দিলাম, লোয়েষ্ট ও হয়ে গেলাম আমি। এলজিইডির চিপ ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেবের ছেলে সেকেন্ড লোয়েষ্ট বিডার। এদিকে ছাত্রদলের সভাপতি লাল্টু কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেবর ছেলেকে সাপোর্ট দিচ্ছে। নেতাদের শেল্টারে আমাকে খুব জটিল সমস্যায় পড়তে হলো, আমাকে কিছু টাকা নিয়ে টেন্ডার থেকে সরে যেতে বলছে এলজিইডির চিপ ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেবের ছেলে সাথে তার কিছু পালিত নেতা, আমার বন্ধু বাবুল ও অনেক চেষ্টা করছিল কাজটি আমি যেনো পাই, পরে জটিল সমস্যা দেখে বাবুলই আমাকে বলছিল টেন্ডার থেকে সরে যা, ওরা কিছু টাকা দিতে রাজী আছে। টেন্ডারের মাধ্যমে কম্পিউটার সাপ্লাই দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে আমি রাজি হই নাই ওদের প্রস্তাবে, পরে কম্পিউটার সাপ্লাই দেওয়ার কাজ আমাদের দুজনের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিলেন এলজিইডি। প্রতি কোম্পানি ১০০০ টি কম্পিউটার সাপ্লাই দিবে, কার্যাদেশ নিলাম আমি। ব‍্যাংকে লোন করালাম, বিদেশ থেকে আমদানি করে প্রতি জেলায় জেলায় কম্পিউটার সাপ্লাই দিলাম। তিন মাসের মধ্যে কম্পিউটার সাপ্লাই কাজ শেষ করলাম। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আমি User Acceptance Testing (UAT) করে এসে যখন আমি বিল সাবমিট করলাম তখন শুনলাম প্রজেক্টে ফান্ড নাই। আমার অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী বাজেটের জন‍্য। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আমার, তদবির, দোরঝাপ, কোনটাই বাদ রাখলাম না আমি। ডিপার্টমেন্টের কিছু করার নাই, ফান্ডে টাকা না থাকলে যা হয়, সরোজ বাবু এ‍্যাডিশনাল চিপ ইন্জিনিয়ার সেও আমার জন‍্য চেষ্টা করছে কিন্ত কোন লাভ নাই। অপেক্ষা আর অপেক্ষা...

পৃথিবীর একটা চিরচারিত নিয়ম আছে, যে কোন সমস্যা বা বিপদ একা আসে না, সাথে নিয়ে আসে সঙ্গ, সাথী আমার তার ব‍্যাতিক্রম হলো না। কম্পিউটারের ব‍্যবসাটাও হটাৎ করে থমকে দাড়ালো, এদিকে আমার অনেক পরিচিত লোক, যারা আমার কাছ থেকে কম্পিউটার পাইকারি ক্রয় করতো, তারা কিছু টাকা বাকী রাখতো, সে সংখ্যাটা দিন দিন অনেক বড় অংকের হয়ে গেছে, তাগাদা দিলেও মিলেনি অর্থের সারা। এক পর্যায়ে ঐ বাকীর খাতাটা অনাদায়ী রয়ে গেলো আমার। একটু হতাশা, একটু দুশ্চিন্তা যেনো বাসা বাঁধতে থাকলো। সময় চলছে ঠিক আমার প্রতিকূলে, আমার ছোট ভাই সুদর্শন প্রতিদিন অফিস খুলতো এসে, আর কাজ শেষে ঐ অফিস বন্ধ করে বাসায় যেতো। সুদর্শন ইতিমধ্যে কম্পিউটারের ট্রাবল স‍্যুটিং থেকে শুরু করে সার্ভিস কল গুলো ঐ মেইনটেইন করতো। আমি অনেটাই স্বস্তিতেই থাকতাম, ওই ঠিক ভাবে অফিস চালাচ্ছে। কিছু অনিয়ম যে হতো না তা বলা যাবে না, আমাদের এলাকা থেকে অপু নামের যে ছেলেটাকে এনেছিলাম, ও ছেলেটার অনিয়মের কথা সুদর্শন আমাকে প্রায়ই বলতো, এক বার তো হাতে নাতেই ধরে ফেললাম, তারপর অপুকে না করে দেওয়া হয়েছিল। নগদ টাকার ব‍্যবসায়ে কোন না কোন অনিয়ম ধরা পরে। তাই সব সময় মনে মনে ভাবতাম, আমি যেন কর্পোরেট ব‍্যবসা করতে পারি যেখানে নগদ লেনদেন কম হয়। সব সময়ই ব‍্যাংকিং চ‍্যানেলে লেনদেন আমি কমফোর্ট অনুভব করতাম। পরিকল্পনা করতাম নতুন কিছু করার, কম্পিউটার হার্ডওয়ারের ব‍্যবসাটি আমাকে যেনো মোটেই স‍্যুট করছে না। এদিকে সোমা কখনই জানতে চাইতো না আমার ব‍্যবসার সমন্ধে যদিও সে আমার লিমিটেড কোম্পানির একজন পরিচালক। ব‍্যবসা বানিজ‍্য সমন্ধে তার কিউরিসিটি আগা গোরাই কম, নাই বললেই চলে। আর্থিক ব‍্যাপারে তার কোন মাথা ব‍্যাথা নাই। আমার শশুর শাশুড়ি এসে মাঝে মধ্যে আমার শ্বশুরবাড়ি নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যেতো, তাদের আন্তরিকতা ছিলো এক অনন্য উদাহরণ। কখনো নারায়ণগঞ্জের বাসায় ভালো রান্না হলে শশুর, শাশুড়ি টিফিন ক্যারিয়ারে করে নিয়ে আসতো আমাদের জন্য। বাসায় কাজের লোকও পাঠিয়েছে একাধিকবার। শশুর প্রায়ই বাসায় শাশুড়ির কাছে আলাপ করতো- জীবন ব‍্যবসায় ভালো করতে পারছে না- চিন্তা যেনো উনাদেরো হতো।

দুশ্চিন্তা আমাকে আকরে ধরছে মনে হয়, মনটা সব সময় মনমরা হয়ে থাকতো, পরের দিন সকালে আমি আর সুদর্শন এক সাথে অফিসে গেলাম, ও অফিস খুললো, নরমালি সুদর্শনের সাথে এক সাথে কখনই অফিসে যাওয়া হয় না, ঐ দিন কেন যেনো একসাথে অফিসে গেলাম, সারাদিন অফিসেই থাকলাম, মনে একটা অশ্বস্তি কাজ করছিলো। সুদর্শনের চেহারার মধ্যে সকাল থেকে ফুটেছিলো কালো ছায়া যা আমি আগে কখনোই দেখি নাই। আকাশটা ছিলো মেঘলা, সারা দিনে কয়েকবার বৃষ্টি হয়ে গেলো, মনটা উরু উরু করছে, ভীষন খারাপ লাগছে, অশ্বস্তি, বুকের মধ্যে যেন এক প্রকার চিন চিন ব‍্যাথা অনুভব করছি, সুদর্শনরে বললাম চল ভাই- বাসায় চলে যাই, ও বললো চল তাহলে, অফিস ঐ বন্ধ করলো, তালাগুলো দিয়ে চেক করলো দুই তিন বার, অফিস থেকে হেটে কাঁটাবন মোড় পযর্ন্ত গেলাম ও আমার পাসে পাসে হেটে চললো, কাঁটাবন মোড় থেকে রিক্সা নিলাম, পরিবাগ মোর পর্যন্ত। দুভাই এক রিক্সায়, ঝির ঝির বৃষ্টি পরছে তাই রিক্সার হুটটি টেনে দিলাম। আমার দুই একটা কথা হলো ওর সাথে পৌছে গেলাম পরিবাগ, দুই ভাই এক সাথে রাস্তার মধ্যে এসে দাড়ালাম তখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। এরইমধ্যে বাংলামোটরের জ্যাম ছেড়ে দিলো দেখা যাচ্ছে- দেখা যাচ্ছে অনেক দুরে গাড়ি গুলো আসছে। আমি এক পা আগে আর সুদর্শন একপা পিছনে, বাকি রাস্তা ক্রস করছিলাম, ফিরে তাকিয়ে দেখি ও নাই। ইতিমধ্যে একটি বাস ওর উপর দিয়ে চলে গেছে, আমি দৌড়ে যেয়ে ওকে বুকে জরিয়ে ধরে রাস্তার মধ্যে বসে পড়লাম, এক মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবী থমকে গেল, নির্বোধের মতো হাউমাউ করে কাঁদছি, আমি দিশেহারা হয়ে গেলাম। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না আমি, বুকের মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে এই বুঝি নিঃশ্বাস বের হয়ে যায়। এই সুদর্শন, এই ভাই কথা বলছিস না কেন? রাস্তার মধ্যে ভাইকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে চিৎকার, আহাজারি আর আর্তনাদ করতে করতে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকলাম...

আমার চোখের জল ছল ছল করছে, হাত অবশ হয়ে আসছে, আমি সত্যি আর লিখতে পারছিনা। চলবে....

নি এম/