eibela24.com
শুক্রবার, ৩০, অক্টোবর, ২০২০
 

 
বদলাচ্ছে ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি
আপডেট: ১০:২৬ pm ৩১-০৭-২০২০
 
 


বদলে যাচ্ছে ভারতের পড়াশোনার রকমসকম ও বদলাচ্ছে জাতীয় শিক্ষানীতি। কেরানি তৈরি করা নয়, প্রকৃত শিক্ষায় গুরুত্ব। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাবোধে। সেদেশের জিডিপির ৬% শিক্ষাখাতে খরচ (বর্তমানে প্রায় ৪%) করা হবে। 

১) কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নাম বদলে নতুন নাম দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রক।
২) প্রাথমিক শুধু নয়। ১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষার অধিকার। মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব।
৩) ক্লাস ৩, ৫, ৮ এ স্কুলের পরীক্ষা। ১০, ১২ বোর্ডের পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা, রেজাল্টের ধরণ সব পাল্টে যাবে।
৪) মাধ্যমিক পরীক্ষার গুরুত্ব আর থাকছে না। ১০+২ সিস্টেম উঠে যাচ্ছে। 
৫) স্কুল শিক্ষাটা হবে, ৫ (একদম প্রাথমিক শিক্ষা) + ৩ (গ্রেড ৩-৫)+ ৩ (গ্রেড ৬-৮) + ৪ (গ্রেড ৯-১২)
অর্থাৎ ক্লাস সিক্স পর্যন্ত বেসিক এডুকেশন চলতে থাকবে। ক্লাস ৬ থেকে ৮ সাবজেক্টিভ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর ক্লাস ৯ থেকে ১২ উচ্চ শিক্ষার বুনিয়াদি শিক্ষা। ক্লাস ১২-এ ,আলাদা কোনও স্ট্রিম থাকছে না। 
৬) শিক্ষাক্ষেত্রে জাতিভেদ উঠে যাচ্ছে অর্থাৎ সায়ান্স পড়লেই আর্টসের সাবজেক্ট নিতে পারবে না, সে ব্যাপারটায় পরিবর্তন হচ্ছে। সেই আদিম পদ্ধতির সায়ান্স- আর্টসের দূরত্ব কমছে।
৭) আলাদা করে সায়ান্স, আর্টস, কমার্স থাকছে না। কেউ ফিজিক্স নিয়ে পড়ার সাথে সাথে ফ্যাশন টেকনোলজি নিয়েও পড়তে পারে।
৮)  ক্লাস ৬ থেকেই ভোকেশনাল ট্রেনিং। এমনকি ১০ দিনের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও থাকবে। ধরা যাক, কেউ ইলেক্ট্রিকের কাজ শিখতে চায়।সে ক্লাস সিক্স থেকেই শিখতে পারে।
৯) ই-লার্নিং বিষয়ে জোর দিচ্ছে ভারত সরকার। ৮টি ভাষায় আপাতত অনলাইনে পড়াশোনা চলবে।
১০)  ক্লাস ৬ থেকেই কম্পিউটার কোডিং শেখা যাবে। বিজ্ঞানবোধকে বাড়ানোর চেষ্টা চলবে।
১১)  ক্লাস ৫ পর্যন্ত মাতৃভাষা শেখা বাধ্যতামূলক। এরপর তা হবে ঐচ্ছিক।
১২)  ৩ ভাষার ফর্মুলা থাকছে (মাতৃভাষা, ইংরেজি এবং সাথে অন্য কিছু হতে পারে যেমন সংস্কৃত, হিন্দিসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষা)।
১৩) পরীক্ষার রেজাল্ট আগে যেরকম হতো, তাতেও বদল আসছে। মুখস্ত করে উগড়ে দিয়ে নম্বর তোলার ফান্ডা পাল্টাচ্ছে, শিক্ষার্থীর দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৪) ৪ বছর পর্যন্ত অনার্স করা যাবে। এরপর ১ বছর পোস্ট গ্রাজুয়েশন
১৫) বিশ্বের সেরা ১০০টা ইউনিভার্সিটি এদেশে তাদের ক্যাম্পাস খুলতে পারবে।
১৬) এম. ফিল উঠে গেল।
১৭) ইউনিভার্সিটিগুলোতে ভর্তির একটাই কমন ব্যবস্থা থাকবে তা হলো এন্ট্রান্স টেস্ট।
১৮) উচ্চশিক্ষায় এন্ট্রি বা এক্সিটে অনেক অপশন থাকছে। যেমন ৪ বছরের গ্রাজুয়েশন। কেউ মনে করলেন, ১ বছর পর আর পড়বেন না। তাহলে তাঁকে ওই ১ বছরেরই সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। ২ বছর হলে অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা। ব্যাচেলর ডিগ্রি ৩ বছরে। আর পুরো কমপ্লিট করলে, ব্যাচেলর উইথ রিসার্চ। আগে এক বা দু বছর পর গ্রাজুয়েশন ছেড়ে বেরোলে কিস্যু হতো না। টুয়েলভ পাশ হয়েই থাকতে হতো।
১৯) সর্বোপরি অতি থিওরি মূলক আদিম শিক্ষানীতির পরিবর্তে প্রাক্টিক্যাল উৎপাদন মুখি শিক্ষানীতিতে পরিচালিত হতে যাচ্ছে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা।

নি এম/