বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
"প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা ও রাষ্ট্রের করনীয়"
প্রকাশ: ০৯:৪৭ pm ১৬-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৪৭ pm ১৬-০৬-২০১৭
 
 
 


শ্যামল কুমার রায়:  ভূ-প্রাকৃতিক ভাবে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিপজ্জনক বা Danger Zone এ অবস্থিত একটি দেশ।

আমাদের দক্ষিণে সুবিশাল বঙ্গোপসাগর এবং উত্তরে সুবিশাল হিমালয় পর্বত, এর মাঝে তিনদিক থেকে ভারতীয় সীমানাঘেরা পঞ্চান্ন হাজার একশত ছাব্বিশ বর্গমাইল আয়তনের ক্ষুদ্রদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত শত নদ নদীর দেশ এই বাংলাদেশের কুড়ি বর্গমাইল পাহাড় ও টিলাপাহাড় বাদদিলে বাদবাকি সবটুকু আয়তনই একসময় প্রবাহমান জলাশয় ছিল।

রাহুল সংস্কৃত্যায়নের গঙ্গারিদ্ধি থেকে বঙ্গদেশ বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী হাজার বছরধরে হিমালয় পর্বতের বিশাল বরফগলা জলরাশি উজান থেকে এই অববাহিকা অঞ্চল অতিক্রম কালে উজানের জলের স্রোতের সাথে বালিকণাসহ বিভিন্ন গাছপালা ঘুর্নায়মান আকারে বঙ্গোপ সাগরে প্রবাহিতকালে সময়ের ব্যবধানে প্রথম তিনকোণাকৃতি ব-দ্বিপ আকারের স্থল বা মাটির সৃষ্টি হয় বলে এ মাটির নাম ব-দ্বিপ থেকে বঙ্গদেশ, বঙ্গদেশ থেকে পূর্ববঙ্গ পূর্ববঙ্গ থেকে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। আয়তনের দিক থেক ক্ষুদ্র হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এই বাংলাদেশ।

সাইক্লোন, বন্যা, নদীভাঙ্গন, ভুমিকম্প, খড়া, শৈত্যপ্রবাহ ও মহামারীরমত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এই জনপদের মানুষ দুঃখ বেদনা,হাসিকান্নার জরাক্লিষ্টে ঔপনিবেশিক কালথেকে বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠীর দমনপিড়ন এর মধ্যদিয়ে বহু আঞ্চলিক বাংলা ভাষাভাষি এক শংকর প্রজাতির বাঙ্গালি জাতিগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে।

সভ্যতার ক্রমবিকাশমান কাল হতে কখনো বিদেশি লুণ্ঠনকারীদের আক্রমন থেকে নিজেদের সম্পদ ও দেশ মাতৃকাকে রক্ষাকল্পে অথবা কখনো বিদেশী ধর্মের আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষাকল্পে সুদীর্ঘকাল বহু লড়াই সংগ্রামে সাগর সমান রক্তস্রোতের বিনিময়ে আজকের আধুনিক বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ বিশ্বের বুকে এক সভ্যতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ বলেছে মহান স্রষ্টা কোটি কোটি বৎসর পূর্বে পৃথিবীকে একটা জলন্ত অগ্নিকুন্ড আকারে সৃষ্টিকরে ধীরে ধীরে তা শীতল করে পঞ্চভুত সৃষ্টির মাধ্যমে জীবের বা প্রানের সঞ্চার ঘটিয়েছেন।

পঞ্চভুত মানে আগুন,বাতাস,জল, মাটি ও চন্দ্রসূর্যের তাপ। বিজ্ঞান বলেছে সূর্য্য থেকে একখন্ড আগুন ছুটে পড়ে গিয়ে মহাকর্ষণ শক্তির টানে মহাশুন্যে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুর্নায়মান একটি গ্রহের নাম এই পৃথিবী। পৃথিবী সৃষ্টির অনাদিকাল থেকে লক্ষকোটি বৎসরের ব্যবধানে শীতল হতে হতে এখানে প্রানের সৃষ্টি হয়েছে।

পবিত্র ধর্ম ইসলাম বলেছে মহান স্রষ্টা এই পৃথিবীতে আঠার হাজার মকলুকাত বা প্রানি সৃস্টি করে সুজলা সুফলা এক বাগানের রুপ দিয়েছেন। মহান স্রষ্টা সতের হাজার নয়শত নিরানব্বই প্রকারের প্রানি সৃস্টি করে উপলব্ধি করেছিলেন এই সুন্দর বাগানের রক্ষণাবেক্ষণকারী বা কেয়ারটেকার কে হবেন, তাই স্রষ্টা তার আপন মহিমায় এই সুন্দর সৃস্টিকে তার পক্ষ হয়ে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য সর্বশেষ আশ্রাফুল মকলুকাত হিসাবে সৃস্টির সেরাজীব মানুষকে সৃস্টি করে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন।

মানুষকেই কেবলমাত্র বিবেক এবং বুদ্ধি নামক দুটি বিশেষ গুণাবলী দিয়ে সৃস্টি করেছন স্রষ্টার পক্ষে তার এই মহান সৃস্টিকে অনাদিকাল সৃজনশীল ভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য। মহান স্রষ্টা মানুষ সৃস্টির বহুকোটি বৎসর পূর্বে ঐশতত্ত্ব বা ধর্মতত্ত্ব ও স্বর্গরাজ্য সৃস্টিকরে তার নিজের কাছে রেখেদিয়েছিলেন।

মানুষ যাতে বিবেকবুদ্ধি হারিয়ে অন্যান্য জীবজন্তুরমত হিংস্র হয়ে সৃষ্টির বিনাশ না করে এজন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবতার বা তার দুত হিসেবে নবী পয়গম্বরদের মাধ্যমে পৃথিবীতে যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থসমুহ প্রেরণ করেছেন। প্রতিটি ধর্মের মুলবানী হচ্ছে সৃষ্টিকে ভালবাস। সৃষ্টি প্রেমের নামই স্রষ্টা প্রেম।

অর্থাৎ স্রষ্টার সৃষ্টিকে যিনি ভালবেসেছেন তিনি সৃষ্টিকর্তার সান্যিধ্য লাভ করেছেন। আবার সকল ধর্মে বলা আছে সীমা লংঘনকারীকে স্রষ্টা কখনো ক্ষমা করেন না।

আমরা কি জানি কতটুকু সীমানা লংঘন করলে স্রষ্টা আমাদের ক্ষমা করবেন না। এখন বিজ্ঞানের যুগে মানুষ রকেটে চড়ে কোটি কোটি মাইল পাড়ি দিয়ে মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছে, তাতেও কি সীমা লংঘন হচ্ছে? স্রষ্টা তার ঐশ বানীর মাধ্যমে বলেছেন প্রতিটি মানুষ যে যার ধর্মকুলে জন্ম গ্রহণ করেছেন ঐ ধর্মীয়গ্রন্থ হলো তার সীমানা অর্থাৎ ধর্মীয় বিধান যদি কোন ব্যক্তি সঠিকভাবে পালন বা মেনে না চলেন তবে ঐ ব্যক্তি সীমা লংঘনকারী।

আজকের পৃথিবীতে মানুষ ধর্মীয় বাগাড়াম্বর নিয়ে যতটুকু ব্যতিব্যস্ততা হচ্ছে তদ্রুপ সৃষ্টিনাশ কাজেও যেন ততখানি উম্মাদনায় মেতে উঠছে, যা প্রকৃত কোন ধর্মেই সমর্থন করে না। যাহোক আমি ধর্মতত্ত্ব বির্তকে বা সেই দিকে যাব না তাছাড়া আজকের লেখার বিষয় ও সেটি নয়। স্রষ্টার সৃষ্টি রহস্য নিয়ে মহাকাশ ও ভু-বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত গবেষণামুলক অনুসন্ধান কাজ করে চলেছেন।

ভু-বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর অভ্যন্তর কেন্দ্রে পাঁচ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। Geo Science বা ভু-বিজ্ঞানে মাটির স্তর বা গঠন সর্ম্পকে ও মাটির অভ্যন্তরে তেল গ্যাস জলসহ সোনারুপা,হিরক, লৌহ, প্লাটিনাম,পারদের মত বহু মহামুল্যবান খনিজ সম্পদ দ্বারা পরিপূর্ন রয়েছে।

আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের সহায়তায় মানুষ প্রতি নিয়ত তা সন্ধান ও আহরণ করে চলেছে। পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগে ভু-গঠন প্রণালীতে উল্লেখিত বস্তুসমুহ ছাড়াও ছোট,বড়,মাঝারি সাইজের অসংখ্য প্লেট বা Disc এর সমন্বয়ে গঠিত। পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের নামানুসারে সাতটি continental disc বা প্লেটের সাথে sub continental disc বা উপমহাদেশীয় প্লেটের ফাকে ফাকে অগনিত বিভিন্ন সাইজের প্লেটগুলো প্রতিনিয়ত ঘুর্নায়মান অবস্থায় সক্রিয় রয়েছে।

একটি প্লেট থেকে আরেকটি প্লেটের দুরত্বকে ফল্ট বা ফালি বলা হয়। এই ঘুর্নায়মান অবস্থায় একটি প্লেট যখন আরেকটি প্লেটের সাথে স্পর্শ বা টক্কর লেগে যায় তখন ভুমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এই ভূ-কম্পন যদি সাগর বা মহাসাগরের তলদেশে হয় তখন এই ভূ-কম্পনের ফলে সুনামি হয়।

ভুমিকম্পকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে, কারণ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার পূর্বে বা পরে কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা ভয়াবহতা হতে পারে সে সর্ম্পকে পূর্বাভাস বা সময়ক্ষন নিরুপন করা যায় কিন্তু ভুমিকম্প আঘাত হানার পূর্বে এ ধরনের কোন সংকেত বা পূর্বাভাস দেয় না।

তবে ভুমিকম্প বিশেষজ্ঞগন মনে করেন বড় ধরনের কোন ভুমিকম্প কোথাও আঘাত হানার পূর্বে ঐ অঞ্চল বা জোনে ঘনঘন হালকা ও মৃদু ভূ-কম্পন হবে।

উপমহাদেশীয় বা ইন্ডিয়ান প্লেটের অবস্থান বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি অর্থাৎ মেঘালয়ের রাজধানী শিলংএর ডাউকি টাউন পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৮৯৫ সালে মেঘালয়ের ডাউকিতে ভয়াবহ ভুমিকম্প হয়েছিল যার তান্ডবের প্রভাব তৎকালীন এই বঙ্গদেশেও পড়েছিল।

ভুমিকম্পের তান্ডবে মেঘালয় পাহাড় খন্ড বিখন্ডে বিভক্ত হয়ে বহু ঝরনা বা পাহাড়ি নদীর সৃষ্টি হয়ে জীবন ও সম্পদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। পৃথিবী যখন উত্তপ্ত ছিল তখন ঘনঘন ভুমিকম্পের ফলে পাহাড়, নদী, সাগর, মহাসাগর সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত আগুনের পৃষ্ঠদেশ এর উপরে বসবাস করছে।

এই আগুন পৃষ্ঠদেশ থেকে কোথাও অনেক গভীরে কোথাও কমগভীরে। ভুমিকম্পের হাত থেকে কিছুটা রক্ষাপেতে হলে মানুষের প্রথম করনীয় হচ্ছে পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ ও বায়ুমন্ডল যাতে অধিক উত্তপ্ত না করা হয় সেদিকে দায়িত্বশীল হওয়া। এমনিতেই আগুনের উপর বসবাস করছি তার উপরে প্রতিনিয়ত মানুষ মাটির নীচের জল টেনে তুলছে, বিভিন্ন খনিজ ধাতু ও তেল গ্যাস মাত্রাতিরিক্ত উত্তোলন করেই চলছে, দেশে দেশে যুদ্ধবিগ্রহে রাসায়নিক ও পারমানবিক গোলাবারুদের আগুনে পৃথিবীর পৃষ্ঠের আবরণকে উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক করে তুলছে। গাছপালা বনভুমি নির্বিচারে ধংস করে চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে কোন দেশ তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে মোট আয়তনের ১/৪ ভাগ বা ২৫% আয়তন বনভুমি থাকতে হবে। নতুবা ঐ দেশ বা অঞ্চল প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে দুর্যোগাক্রান্ত এলাকায় পরিনত হবে। কিন্তু জ্ঞানপাপিরা কে শোনে কার কথা, সৃষ্টি ও সভ্যতার এইসব জাতীয় শত্রুদের দমনে আইন ও বিচারালয় যেন নির্বিকার।

ক্ষুদ্র এই বাংলাদেশের প্রায় সবটুকু আয়তন এক সময় জলমগ্ন ছিল। জলের মধ্যে মাটি জমতে জমতে একসময় এটি সমতল দেশ হিসেবে আত্ত্বপ্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু স্রষ্টার কি অপারলীলা বঙ্গদেশকে ঘিরে সৃষ্টি করেছেন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন যাতে এ অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত থেকে ভারসাম্য রক্ষা পায়।

মানুষ সুযোগ পেলে সেই সুন্দরবনকেও এখন রাতারাতি গাছপালা কেটে বিরানভুমি করতে ভয় পায় না। তাই স্রষ্টা আর কত সহ্য ও ক্ষমা করবে আমাদের। নদী খাল বিল জলাধার এমনকি স্বাভাবিক পানি প্রবাহের গতিপথকে বাধাগ্রস্ত ও ভরাট করে সর্বত্র অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড় বন কেটে উজার করে নগরায়ন ও বসতিস্থাপন করে চলেছে।

এর ভয়াবহ বিরুপ প্রতিক্রিয়া থেকে কে আমাদের রক্ষা করবে? ডিপ টিউবওয়েল ইরিগেশনের নামে প্রতি বৎসর মাটির নীচের পানির স্তর শুকিয়ে বিপজ্জনক করে তুলছে, ফলে আর্সেনিক contamination দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করার ফলে আর্সেনিকোসিস রোগের প্রার্দুরভাব সকল জেলাতে ছড়িয়ে পড়ছে।

যার এখনো কোন পর্যাপ্ত চিকিৎসা আবিস্কার হয় নাই। দেশের ৬১ টি সমতল জেলার প্রায় ৪৫০টি উপজেলায় বিল্ডিংকোড নেই, ফলে মানুষ জানেনা কোন এলাকার মাটির ভারবহন ক্ষমতা কত টন বা কোন এলাকায় কত তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ করা যাবে। যেহেতু রাষ্ট্রীয় ভাবে এর কোন বিধি বিধান নেই তাই যার যেমন খুশিমত ভবনাদি নির্মাণ করে চলেছে।

তিস্তা,গঙ্গার পানির ন্যাহ্য হিস্যা নিয়ে যতটা সোচ্চার তার শতভাগের একভাগ ও যদি আমাদের ভরাট হয়ে যাওয়া নদনদী গুলো ড্রেজিং করে নাব্যতা সচল রাখাযেত এবং পদ্মা,মেঘলা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র বেসিনগুলো সচল করে বর্ষা মৌসুমের পানি ধরে রাখার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেয়াযেত তাহলেও আমরা কিছুটা রক্ষা পেতে পারতাম। ভৌগলিকগত কারণে বিশ্বের অধিকাংশ সাইক্লোন বা ঘুর্নিঝড় আমাদের বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়, যার ৯০ ভাগ সাইক্লোন সাগরেই দুর্বল বা ধংস হয়ে যায়।

অবশিষ্ট ১০ ভাগের অর্ধেক সাইক্লোন আঘাত হানে। সাইক্লোনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির শিকার হয় নারী ও শিশুরা জলোচ্ছাস এর কারণে। আমাদের উপকুলীয় ও দ্বীপ জেলাগুলোকে প্রযুক্তিগত ভাবে যদি উপযুক্ত করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করাযেত তবে প্রতিবছর সাইক্লোনের হাতথেকে খুব সহজেই নারী শিশুদের জীবন রক্ষা পেত।

পার্বত্য জেলাগুলোতে সেটেলার বাঙ্গালিরা অব্যাহতভাবে পাহাড় ও বন কেটে সমতল করে সেখানে দীর্ঘ বসতি জনপদ বিস্তৃত করে চলছে।

পাহাড়ে পাহাড়িদের মানায়, অশিক্ষিত শ্রমজীবী মানুষেরা পাহাড়ের গায়ে বসবাসের নিয়মকানুন যেমন জানে না তেমনি মানুষ যেদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তা রক্ষা করার দায়িত্ব বা নিয়মনীতিমালা বা আইনের প্রয়োগ কোথায়।

গেল সপ্তাহের সাইক্লোন মোরার প্রভাব কাটতে না কাটতেই অতিবর্ষনে পাহাড়ি ভুমি ধসে দেরশতাধিক মানুষের জীবনহানী কি মর্মান্তিক, এরমধ্যে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া সামরিক বাহিনীর ৪ জন কর্মকর্তার মৃত্যু আরো মর্মান্তিক। তাই এতসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর কবল থেকে জীবন রক্ষাকল্পে চাই কঠোর আইনের প্রয়োগ ও টেকসই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট ঘোষনা পত্রের আলোকে যা পবিত্র সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে, সমমর্যাদা, সমঅধিকার, সুশাসনের কথা।

কাজেই যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা না হবে ততদিন বিভিন্ন দুর্যোগে হাবুডুবু খেয়ে ধর্মের মুল চেতনা ও শিক্ষাথেকে দূরে সরেগিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা সম্ভব হবেনা বলে মনে করি।

তাই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া রাজনৈতিক শক্তির জোট যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠত তখন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনাপত্র ও দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নই সৃষ্ট সমস্যাবলীর একমাত্র সমাধান, গোটাজাতি ও তাই প্রত্যাশা করে।

 

লেখক:  শ্যামল কুমার রায়, প্রধান সমন্বয়কারী,  বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

 

এইবেলাডটকম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71