রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৮ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
"সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এবারের বাজেট"
প্রকাশ: ০৯:৩৫ am ১৯-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৩৫ am ১৯-০৬-২০১৭
 
 
 


শ্যামল কুমার রায়: বাজেট হল রাষ্ট্রের এক বছরের আয় ব্যায়ের ফিরিস্তি বা খাতওয়ারী অর্থ বরাদ্দ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা প্রকল্প আকারে খরচের হিসাব বিবরন বা financial year closing statements. বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের চাহিদাপত্রের আলোকে আয়ের সামর্থের বিবেচনায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, হুউর্দ্ধতন আমলাগন সরকার প্রধানের রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে বাজেট এর লক্ষমাত্রা স্থির করা হয়ে থাকে।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন বাজেটকে তারা যদি সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের আয়না বা দর্পন হিসাবে বিবেচনা করে প্রনয়ন করতে পারেন তখন বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে জনগনের আর্থসামাজিক উন্নয়নের তারতম্য পরিমাপ করা যায়। বাজেটের ফাঁকফোকর দিয়ে রাজনৈতিক অদুরদর্শীতার কারনে যদি কোন বুমেরাং বা ভুল সিদ্ধান্তের কর্মসূচী অন্তর্ভুক্তি হয়ে যায় তাহলে সরকারকে কখনো কখনো জনরোষ এর সম্মুখীন হতে হয়।

জনরোষ দুভাবে হতে পারে এক সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতায় ব্যপক জনগনকে সম্পৃক্ত করে রাজপথ উত্তপ্তের মাধ্যমে অথবা নিরব ঘাতকের মত সুযোগ বুঝে ভোটের মাধ্যমে জনরোষের প্রকাশ ঘটিয়ে। দেশে রাজনীতির মাঠে বা পার্লামেন্টে কোথাও সেই অর্থে বিরোধীদল বা সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকান্ড অন্তত জনস্বার্থে আছে এটা বলার কোন অবকাশ নাই। এবারের বাজেটের সবল দিক ও দুর্বল দিক যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে পরিস্কার বুঝাযাচ্ছে যে বাজেটের সবলদিকের চেয়ে দুর্বলদিকের প্রচার অনেক বেশী হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে মুহুর্তে দেশে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র এক থেকে দেড় বছর বাকি তখন এ ধরনের একটা বাজেট উত্থাপন করে সারাদেশে শ্রমজীবী ও নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষদের মনে এক ধরনের সরকার বিদ্বেষী মনোভাবকে সরব করে তুলেছে।

দুদিন আগে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরী পার্লামেন্টে তার বাজেট বক্তৃতায় বয়সের ভারে নুহ্য অর্থমন্ত্রীকে তুলোধুনো করেছন। মতিয়া চৌধুরীরা এদেশের জনগনের রাজনৈতিক পালস(নারী) বুঝেন। দেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৪৬ বৎসর কিন্তু জাতির বড়ই দুর্ভাগ্য যে, এ দীর্ঘ সময়েও কেবল মাত্র শহীদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ ব্যতিত এযাবৎ কালে অর্থনীতিবিদ কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অর্থমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হয় নাই। এটা অবশ্যই আমাদের সরকারমুখি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় ধরনের দেউলিয়াপনা।

বর্তমান সরকারের অনেক সফল কার্যক্রমের সফল অর্জন রয়েছে, কিন্তু সেগুলো মানুষ জানেনা বা জানার সুযোগ পাচ্ছে না। ভোটের ময়দানের জনগনের মাঝে সরকারের সফল কার্যক্রমের সুফলগুলো প্রচারনার জন্য তুলে ধরার দায়িত্বে নিয়োজিত রাজনৈতিক মুল সংগঠনের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের বিশাল কর্মী বাহিনী রাজনীতিকে কেবলমাত্র ব্যাক্তিস্বার্থে পুজিকরে দুহাতে বৈধ অবৈধ যে কোন উপায়ে টাকাপয়সা কামানোর ধান্ধায় মগ্ন।

অনেক ক্ষেত্রে এই অবৈধ টাকা কামানোর প্রতিযোগিতায় সংগঠনের অভ্যন্তরে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার দ্বন্দ্বে মারামারি ও হত্যাকান্ডেরমত ঘটনা অহরহ ঘটছে। ফলে এ ধরনের কর্মকান্ডে সরকারের দলীয় জনপ্রিয়তা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। কৃষিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন রাষ্ট্র যেখানে দুর্নীতিবাজদের লুটকরা হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির দায়িত্ব নিতে পারে সেখানে একলাখ টাকা ব্যাংকে আমানতকারীদের উপর ৮০০ শতটাকা আবগারি ট্যাক্স আদায় করা জলন্ত অগ্নিপিন্ডে একটু ঘি ঢালা ছাড়া আর কিছুই না।

বাজেটে এ ধরনের আয়ের খাত সরকারের জনপ্রিয়তাকে কতদূর নামিয়ে নিয়ে যাবে সেটা যারা হিসাব করতে পারে না তাদেরমত অর্থনীতিবিদ পন্ডিতদের মন্ত্রী সভাথেকে দ্রুত সরানো না হলে সরকারকে খেসারত দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী কোন আক্কেলে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলতে পারলেন যাদের একলক্ষ টাকা ব্যাংকে আছে তারা বেশ সম্পদশালী। দেশের মানুষ এই ধরনের বক্তব্যকে জনগনের সাথে মশকারী করাছাড়া অন্য কিছু ভাবে না।

কোন সরকারকে জনপ্রিয় হতে খুব বেশী মন্ত্রী বা মন্ত্রনালয়ের প্রয়োজন হয় না, পলিটিকাল ডেডিকেটেড অর্থমন্ত্রী, আইন ও বিচার মন্ত্রী, একনিষ্ঠ দক্ষ প্রশাসন মন্ত্রী ও সরাষ্ট্র মন্ত্রী। এই চারটি মন্ত্রনালয় যদি সঠিকভাবে সঠিক ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালনা করা যায় তবে যে কোন অবস্থা থেকেও ঘুড়ে দাঁড়ানো সম্ভব। কিন্তু জনগনকি সে লক্ষণ দেখতে পাচ্ছে? রাজস্ব ট্যাক্স দেয়া এবং আদায়করা দুটোই নৈতিকতার সাথে নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হওয়া উচিৎ। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেদেশের মানুষ ৪০ লক্ষ টাকা দামের গাড়ী ব্যবহার করেন তার মানসিকতা হলো ফেরীঘাটে টোল দিয়ে যাওয়া মানে নিজেকে ছোট মনে করা, সেই দেশে কর আদায় ও নাগরিক সুবিধা প্রদানেরমত দায়িত্বশীল জায়গাগুলোকে যেনতেনভাবে দেখাটা আর্দশ বা উন্নত রাষ্ট্রের পরিপন্থি। কথাটা এজন্য বলছি আমি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যখন চাকরী করি তখন আমার বার্ষিক মুলবেতন ৬০ হাজার টাকা অতিক্রম করাতে আমারমত সবাই বাধ্যতামুলক ভাবে ইনকামট্যাক্স দিতাম, কিন্তু অর্থ বৎসর শেষে যখন সনদ আনতে যেতাম তখন সনদের জন্য এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হত।

আমি একজন ট্যাক্সপেয়ী চাকরীজীবী হিসাবে গর্ববোধ করতাম এবং বছরশেষে সনদ আনতে যেয়ে যখন একহাজার টাকা ঘুষ দিতে হত তখন নিজেকে বেশ অপরাধী মনে হত। তাই মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করে কর আদায়ের নীতিমালা প্রনয়নের আগে মানুষের মনথেকে এই অপরাধবোধ দূর করার কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? জার্মান সরকার একবার তার নগরবাসীর ট্যাক্স এক টাকা কমিয়ে দেয়ায় নগরবাসী রাস্তায় নেমে ঐ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছিল, নগরবাসীর বক্তব্য ছিল হোল্ডিং ট্যাক্স একটাকা কমিয়ে দেয়ার ফলে তাদের নাগরিক সুবিধা সরকার কি ভাবে অব্যহত রাখবে। ঢাকা শহরের মানুষেরাও হোল্ডিং ট্যাক্স দেয় কিন্তু নাগরিক সুবিধা কি পায় তারা? সিটি কর্পোরেশন এর ক্লিনার ড্রেন পরিস্কার করে ড্রেনের পাশে ময়লা স্তুপ করে রেখে যায় এই ময়লা গাড়ীর চাকার ঘষায় রৌদ্রে শুকিয়ে পাউডার হয়ে বাতাসে চলন্ত মানুষের নাকেমুখে গিয়ে শেষ হয়।

রাস্তায় বেড়িয়ে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়। এই যখন অবস্থা তখন মানুষ সুযোগ খুজতে থাকে কি করে ট্যাক্সের তালিকা থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়। ঢাকা শহরে ফুটপাতে যে হকারটি ব্যবসা করে তাকে দৈনিক ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা সরকারী দলের নেতা ও পুলিশকে চাদা দিতে হয়। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে সবিনয়ে জানতে চাই এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি? আমার ঐ হকার ভাই যদি পুলিশ ও দলীয় নেতাকে চাদা দিতে না হত তবে সরকারকে প্রতিজন হকার বছরে কমপক্ষে ত্রিশ হাজার টাকা করে ট্যাক্স দিতে পারত।

এই চাঁদাবাজি ব্যবস্থা সারাদেসে চলমান। দেশের কোন সরকার যদি নাগরিক সুবিধা ও রাষ্ট্রের সুশাসন নিয়ে ভাবতো তাহলে পাচ বছরেই অনেক পরিবর্তন সাধিত করা সম্ভব। ভ্যাট বানিজ্যের মাধ্যমে কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর অসাধু ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দিয়েছেন। আর বারতি টাকা পরিশোধের খড়্গ চাপিয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষের উপরে। উৎসে কর সর্বোচ্চ ৫% সর্ব নিন্ম ১/২% নির্ধারণ করে ক্ষেত্রভেদে এই কর শহর থেকে মফঃসলের গুদারাঘাটের মাঝি পর্যন্ত প্রয়োগ করা যায়। এই বিশাল অর্থ কালেকশনের জন্য বিরাট কিছুর দরকার নেই,শুধু ইউনিয়ন পরিষদে ৫-৭ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিলেই এই বিশাল কাজটি করা সম্ভব। কাজেই ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করতে হলে কর বা রাজস্ব আদায়ের হার বৃদ্ধি না করে রাজস্ব আহরনের এরিয়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করে মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি ও নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করা দরকার সবার আগে।

দেশের মানুষকে বোঝা হিসাবে নাদেখে মানুষ সব সম্পদের চেয়ে দামি সম্পদ এই ভাবনা থেকে এ সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্র তৈরী ও ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী দেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছর আর অবসরে যাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এই অবসরপ্রাপ্ত চাকরীজীবীরা তাদের বয়স, শারিরীক শক্তি ও পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে সঞ্চয় পত্র ছাড়া অন্যকোন পেশার সাথে মানিয়ে চলা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়াও সকলের পক্ষে সঞ্চয় পত্রের স্কীমে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

যেমন আমি একজন ট্যাক্সপেয়ী চাকুরীজীবী হয়েও সঞ্চয় পত্র স্কীমে যেতে পারি নাই। আমারমত লক্ষ লক্ষ চাকুরীজীবী আছে যাদের কোন সঞ্চয়পত্র নেই। কাজেই সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর উপর নজর দিলে এটাও বুমেরাং হবে বলে মনেকরি। আমাদের এতদুর্ভাগ্য যে, আমরা একজন অর্থনীতিবিদ পেয়েছিলাম যার ছোটবেলা অর্থের অভাবে জামাকেনা সম্ভব ছিলনা, ছিলনা খাবারের সচ্ছলতা, পড়াশুনার পয়সার জন্য যাকে মাঠে ছাগল চড়াতে হতো, এই রকম একজন বাস্তববাদী ও গরীবের অর্থকষ্ট অনুভব করা মানুষ ডঃ আতিয়ার রহমানের মত আর্দশবান অর্থনীতির শিক্ষককে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংকের গর্ভনর করেও ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্র। অর্থমন্ত্রী প্রায়ই বলেন শেয়ার বাজারের লুটেরাদের ও ব্যাংকের টাকা লুটেরাদের নাম তিনি জানেন কিন্তু তারা এতটাই প্রভাবশালী তাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিতে ভয় পান।

ভয় পাবেনইবা না কেন! মুহিত সাহেব সারা জীবন বিশ্বব্যাংক আর আইএমএফ নামক প্রতিষ্ঠানে গোলামী করে এসেছেন। আইএমএফ বিশ্বব্যাংকের কাজ হচ্ছে গরীবকে আরও গরীব কর এবং ধনীকে আরও ধনী কর। তা নাহলে ডঃ ইউনুসেরমত ব্যক্তিরা গরীবের সম্পদ শোষন করে বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারেন নাই, হয়েছেন আমেরিকানদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মুহিত সাহেরা তাই ডঃ আতিউর রহমানদের মত ত্যাগী লোকদের সড়িয়ে দিয়ে ডঃ ইউনুস সাহেবদের প্রশংসায় মাঝে মাঝে পঞ্চমুখ হয়ে উঠেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে কেন ভূলে যান তিনি সামরিক বা কোন ফ্যাসিবাদী সরকারের অর্থমন্ত্রী নন, তিনি জনগন নির্ভরশীল একটি গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সরকারের অর্থমন্ত্রী, বাজেটে সবার আগে দেশ এবং দেশের জনগনের স্বার্থকে বিবেচনায় আনতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অকৃতিম বন্ধু ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন দেশ চালাতে অভিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন হয় না, দেশ চালাতে দরকার দেশ প্রেমিক লোকের।

তাই সবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এই অনুরোধ রাখবো যাদের দায়িত্ব অবহেলার কারনে অসময়ে হাওরের বাধ বা উপকূলীয় বেড়ীবাধ ভেঙ্গেগিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে বা বছরের অধিকাংশ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পড়ে ও এডিপি'র প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি পরিলক্ষিত হয় তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

লেখক: শ্যামল কুমার রায়, প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

 

এইবেলাডটকম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71