রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
"নববর্ষের বর্বরতা বন্ধ হবে কবে?"
প্রকাশ: ০৫:৫৮ am ১৪-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৫৮ am ১৪-০৪-২০১৭
 
 
 


দীনেশ বৈদ্যঃ স্বাধীনতা পূর্ব বাংলাদেশের কথা। সে সময়েরও পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালি সংস্কৃতিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল।

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রতিবাদে ১৩৭৫ বঙ্গাব্দে (১৯৬৫ সালে) রমনা পার্কে পহেলা বৈশাখ উদাযাপনের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। রবি ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানের মধ্যে দিয়ে স্বাগত জানায় বৈশাখকে। ঠিক সেদিন থেকেই বাধা উপেক্ষা করে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। সেই ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে।

১৯৭২  সালের পর থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশে,  বাংলা নববর্ষ জাতীয় উৎসব হিসেবে স্বীকৃত হয়। ১৯৮০ সালে এই উৎসবকে আরো এক ধাপ বাড়তি রংয়ের ছোঁয়া দিতে প্রচলন হয়েছে বৈশাখী শোভাযাত্রার। অার  কেন যেন সেই মঙ্গল শোভাযাত্রার উপর মাঝে মাঝে অমঙ্গল ভর করছে। যা অামাদেরকে রীতিমত ভাবনায় ফেলছে। যার পরিনতি এতোই ভয়াবহ অাকার ধারন করছে, যেখান থেকে বেরিয়ে অাসতে না পরলে একদিন হয়ত বাঙালির এই সংস্কৃতি বিলীন হতে বসবে।

শুধু বাংলা নববর্ষই নয়, ইংরেজি নববর্ষকে ঘিরেও অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা অামাদের দেশে ঘটে চলছে। উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মডেল কন্যা বাঁধনকে বিবস্ত্র করে কতিপয় বখাটে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। এরপর থেকে থার্টি ফার্স্ট নাইটে টিএসসি এলাকায় জনসমাগম বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।যদিও সেদিন ইংরেজি নববর্ষ ছিলো, তার পরও হায়নার দল তাদের একটু  সাসলাতে পারেনি সেদিন।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অারও ১ জন মারা যান। আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। যার সুস্থু বিচার অাজও নিস্পত্তি হয়নি ।যা এখনও প্রতিটা মুহুর্ত অামাদেরকে ভাবনায় ফেলে দেয়। অামার প্রশ্ন হলো কেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসন তার বিচার করতে এত দিনেও পারল না?তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

গত বছর বর্ষবরনে নারী নির্যাতনের  ভিডিও ফুটেজটি অামি টেলিভিশনে দেখেছি।একজন নির্যাতিত নারী তার ফেইজবুক স্টাটাজে লিখেছেন অাজকে অমার উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে, তার বর্বরতা ১৯৭১ সালের নির্যাতনকে হার মানিয়েছে। অামি ন্পষ্ট বলতে পারি বর্ষবরনের মত একটা সার্বজনিন অনুষ্ঠানকে যারা মেনে নিতে পারেনা, তারাই বিভান্ন ধর্মিয় অনুন্ঠানে হামলা চালায় ।

তদেরকে দ্রুত বিচারের অাওতায় অানা উচিত ছিলো। গত বছরের দুস্ককৃতিকারিদের বিচার যদি তিন মাসের মধ্যে নিস্পত্তি করা যেত, তবে এবছর নিরাপত্তা নিয়ে এত ঊৎকন্ঠিত হওয়া প্রয়োজন হত না। এখন সময় এসেছে, সরকার সহ প্রশাসনকে বিষয়টি  অালাদা ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার।

 

এইবেলাডটকম/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71