সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
'জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব চাই'
প্রকাশ: ০৬:৪১ pm ১৬-০৮-২০১৫ হালনাগাদ: ০৬:৪১ pm ১৬-০৮-২০১৫
 
 
 


বিশেষ সাক্ষাতকার: জাতীয় সংসদে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব দাবি করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত। সম্প্রতি দেশের একটি প্রথম সারির দৈনিকের সাথে এক সাক্ষাতকারে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ভালো নেই। তাদের ওপর ভয়ভীতি, অত্যাচার-নির্যাতন চলছে। বিশেষ করে, ২০১২ সালের শুরু থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি একাত্তরের মতোই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলা করেছে। সে সময়ে সরকার, প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে যে প্রতিরোধ ও প্রতিকার আশা করেছিলাম, সেটি পাইনি। নীলফামারীতে আসাদুজ্জামান নূর কিংবা দিনাজপুরে ইকবালুর রহিমের মতো দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া কেউ আক্রান্তদের রক্ষায় এগিয়ে আসেননি।

বিএনপি-জামায়াত কোণঠাসা থাকা সত্তেও এখন কারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত কোণঠাসা, এ কথা ঠিক। কিন্তু সাম্প্রতিক ব্লগার হত্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরই বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে। আর এর সঙ্গে মৌলবাদী জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী জড়িত।

বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পত্তি দখলের সঙ্গে কয়েকজন সাংসদ-মন্ত্রীও জড়িত আছেন বলে যে খবর বের হয়েছে- এটাকে অত্যন্ত দুঃখজন বলেন তিনি। তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকতে সেই দলের সাংসদ ও প্রভাবশালীদের দ্বারা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর বা সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটছে। আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। আসলে সাতচল্লিশের পর থেকেই সংখ্যালঘু নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়া চলে আসছে।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা সংখ্যালঘুদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৯০, ১৯৯২ ও ২০০১ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ভয়াবহ হামলা হয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিএনপির ছত্রচ্ছায়ায় জামায়াতে ইসলামী এ কাজটি করেছে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে। তাদের যে রাজনৈতিক দর্শন, সেখানে সংখ্যালঘুদের জায়গা নেই। উদ্বেগের বিষয় হলো, সংখ্যালঘুদের ওপর এই যে নির্যাতন চলছে, এর বিচার হচ্ছে না। বলা যায়, দায়মুক্তির সংস্কৃতি চলছে।

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ফরিদপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রতিবাদ  কর্মসূচি পালন করেছে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, দিনাজপুরের ঘটনাটির কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি। গাইবান্ধার সাংসদ ও হুইপ মাহবুব আরা গিনি কিন্তু স্বীকার করেছেন, সেখানে রামকৃষ্ণ মিশনের জমির গাছ কেটে দেয়াল দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুরের ঘটনায় স্কুলশিক্ষকদের ও হিন্দু নেতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছে। পিরোজপুর নিবাসী জগন্নাথ হলের ছাত্রদেরও সাংসদের পক্ষে মানববন্ধনে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। তাঁরা যাননি।
তিনি আরও বলেন, ফরিদপুরের ঘটনায় মন্ত্রীর পক্ষে বিবৃতিতে যাঁরা সই দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকে পরে ঢাকায় পালিয়ে এসেছেন। তাঁরা স্বেচ্ছায় সই দেননি, দিতে বাধ্য হয়েছেন। মন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, বাড়িটি তাঁর দখলে আছে। আমরা বলেছি, জোরপূর্বক বায়না দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, ন্যায্যমূল্যে কিনেছেন। কিন্তু বাড়িটিতে যে মন্দির ছিল, সেটি ধূলিসাৎ করা হয়েছে। আর বাড়ির মালিক অরুণ গুহ মজুমদার, যাঁকে মন্ত্রী ১৭ বছর আগলে রাখলেন, যিনি জীবনে কখনো ফরিদপুরের বাইরে যাননি, তিনি কেন বাড়িটা বিক্রি করেই ভারতে চলে গেলেন? আসলে তিনি যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বলে পরিচিত আওয়ামী ওলামা লীগ সমাবেশ করে বলেছে, ‘পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় সংখ্যালঘুদের পদায়ন করা হয়েছে। এতে সংখ্যাগুরু মুসলমানরা বঞ্চিত হচ্ছেন।’ এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজনকে প্রধান বিচারপতি পদে বসানো হয়েছে। অথচ ভারতে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি থেকে অনেক উচ্চপদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা আসীন ছিলেন এবং আছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে যেমন এটি হয়েছে, তেমনি প্রধান বিচারপতি যেদিন পদায়ন পেয়েছেন, সেদিনই ওলামা লীগ সমাবেশ করে এর বিরোধিতা করেছে। এখন তারা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। আবার এই সংগঠনের সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও যান। যে কথাগুলো মৌলবাদী ডানপন্থীরা বলতে পারছে না, ওলামা লীগ সেটিই বলছে।

তিনি বলেন, তাদের এসব তৎপরতা মৌলবাদীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পাঁচ দফা চুক্তির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়, যাতে শরিয়াহ আইন চালুর কথা বলা হয়েছিল। এখন আওয়ামী লীগকেই পরিষ্কার করতে হবে, তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, না ওলামা লীগের দাবি অনুযায়ী ধর্মরাষ্ট্র? দুটো তো একসঙ্গে চলে না। ৬৮ বছর ধরেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত। মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের উপযুক্ত পদ দেওয়া হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের আমলে যখন যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে (সব ক্ষেত্রে নয়) সংখ্যালঘুদের পদায়ন করা হচ্ছে, তখনই অন্ধকারের শক্তি শোরগোল তুলছে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটেছে পঁচাত্তরের পর সামরিক শাসনামল থেকে। এটি সংখ্যালঘু নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়া, যা এখনো চলছে। ১৯৭৪ সালের ২৩ মার্চ পার্লামেন্টে আইন করে অর্পিত সম্পত্তি আইন রহিত করা হলেও পঁচাত্তরের পর জিয়াউর রহমান সেটি পুনরুজ্জীবিত করেন। এরপর থেকে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, জমিজমা দখল ও উৎখাতের ঘটনা বাড়তে থাকে। আর এই দখল প্রক্রিয়ায় বিএনপি, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ—সব দলের নেতারাই আছেন। অর্পিত সম্পত্তি দখল নিয়ে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের বই-ই তার সাক্ষী।

সরকারি হিসাবে আজ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের হার ৯.৭ শতাংশ। তবে পাকিস্তান আমল থেকে সংখ্যালঘুদের হার কম দেখানো হচ্ছে। পাহাড়েও একই ঘটনা ঘটছে। ২০০৮ সালে যখন নির্বাচন হয়, তখন দেখা যায়, নতুন ভোটারদের ৭০-৮০ শতাংশই সংখ্যালঘু। জোট সরকারের আমলে তাদের ভোটার করা হয়নি, যদিও ১ কোটি ২০ লাখ ভুয়া ভোটার বানানো হয়েছিল।  

গত ১০ বছরে নয় লাখ হিন্দু কমেছে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোক যেখানে বেড়েছে, সেখানে হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণটি পরিষ্কার। জোট আমলের মতো না হলেও সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের ঘটনা এখনো ঘটছে। কারণ নিরাপত্তাহীনতা। এটি চলতে থাকলে যে আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ হয়েছে, সেই আদর্শ থাকবে না, তাই আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি, যেখানে সব ধর্মের ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সম–অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবে।

বিএনপি-জামায়াতকে আপনারা সাম্প্রদায়িক দল মনে করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কতটা আন্তরিক?- এমন প্রশ্নের উ্ত্তরে তিনি বলেন, আসলে বিএনপি-জামায়াত শুরু থেকেই পলিটিকস অব এক্সক্লুশন (বাইরে রাখার রাজনীতি) করে এসেছে। অনেকে বিএনপি ও ভারতের বিজেপির রাজনীতিকে এক করে দেখছেন। কিন্তু বিজেপি তাদের মুখপাত্র করেছে একজন সংখ্যালঘুকে (এম জে আকবর)। বিএনপি কি তা করবে? করবে না। আমরা দুঃখের সঙ্গে বলছি, বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত কোনো দলই সংখ্যালঘুদের সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। কেউ ভেবে দেখেনি সংখ্যালঘুরা হারিয়ে যাচ্ছে কেন? এই সমস্যাটি নিয়ে পার্লামেন্টেও কখনো আলোচনা হয়নি।

এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীনদের ওপর সংখ্যালঘুরা ভরসা রাখতে পারছে না বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, তারা (সংখ্যালঘুরা) ভরসা রাখতে পারছে না। তবে রাখতে চাইছে। এ কারণেই আমরা বলতে চাই যে সংখ্যালঘুদের নিছক ভোটার হিসেবে দেখবেন না। তারাও যাতে মানবিক মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে, সেদিকে নজর দিন।

তবে, বিএনপি-জামায়াত আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যেভাবে সোচ্চার হয়, এখন সেভাবে সোচ্চার নয়- এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, কথাটি ঠিক নয়। আমরা বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ করছি। সভা-সমাবেশ করছি। কিন্তু গণমাধ্যমে সেসব খবর তেমন আসে না। সংখ্যালঘুদের দাবিদাওয়া নিয়ে আমরা আগামী ২৭ নভেম্বর বেলা একটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক লাখ লোকের মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সমাবেশ থেকে আমরা কেবল প্রতিবাদই জানাব না, সংখ্যালঘুদের পক্ষে জাতীয় ঐকমত্যের দাবি পেশ করব।

সে দাবি নামা সম্পর্কে  তিনি বলেন, ১৯৫৪ সালে ৩০০ আসনের ৭২টি ছিল সংখ্যালঘুদের। সত্তরের নির্বাচনেও সংখ্যালঘুদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে সংসদে ও দলীয় কাঠামোয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব কমতে থাকে। তাই আমরা সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দাবিকে সামনে নিয়ে আসব। জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদে সংখ্যালঘুদের আসন সংরক্ষিত থাকতে হবে। তবে সেটি পৃথক নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, যুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেভাবে নারী কমিশনারদের ভোট নেওয়া হয়, সেভাবেই সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হয় না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমরা কোনো দলের ভোটব্যাংক হতে চাই না। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের পলিটিকস অব এক্সক্লুশনই আমাদের ওদিকে ঠেলে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ অন্তত পলিটিকস অব ইনক্লুশনের বা অন্তর্ভুক্তির রাজনীতির কথা বলে। আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায্য অধিকার নিয়ে থাকতে চাই। কারও করুণাপ্রার্থী হতে চাই না।

সংখ্যালঘুদের ওপর এ পর্যন্ত যেসব অত্যাচার, নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে বলতে গেলে হয়নি। গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী ও জ্ঞানজ্যোতি ভান্তের ঘাতকেরা ছাড়া কেউ শাস্তি পায়নি। ২০০২ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে যে ১১ জন সংখ্যালঘুকে পুড়িয়ে মারা হলো, তারও বিচার হয়নি। রামুর ঘটনায়ও কেউ শাস্তি পায়নি। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত তাণ্ডবের পরিপ্রেক্ষিতে সাহাব উদ্দিন কমিশন গঠিত হয়। ওই কমিশন কতিপয় সুপারিশসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের কাছে রিপোর্ট জমা দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। সরকার দোষীদের বিচার করার কথা বললেও আজ পর্যন্ত কারও বিচার হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হলে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এক হয়ে যায় এবং তথাকথিত শান্তি সভা করে আক্রান্তকে মামলা করতে নিবৃত্ত করে। থানা-পুলিশও নিষ্ক্রিয় থাকে। তিন প্রশ্ন রেখে বলেন, এভাবে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসন এককাট্টা হলে সংখ্যালঘুদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কী করার আছে?

তিনি আরও বলেন, এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ২০০৯ সালের সরকারে সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে একাধিক পূর্ণ মন্ত্রী থাকলেও এই সরকারে একজনও পূর্ণ মন্ত্রী নেই। যদি আড়াই কোটি মানুষকে বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে অন্তত পাঁচজন পূর্ণ মন্ত্রী থাকার কথা। এটি হচ্ছে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য। এ প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মন্ত্রিত্ব হারানোকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করি। তিনি একজন দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান। শেয়ারবাজারসহ নানা কেলেঙ্কারি ও দলের বিচ্যুতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে এসব কথা গিয়েছে, তাঁরাই তাঁকে সরানোর জন্য কল্পকাহিনি সাজিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, 
রানা দাশগুপ্তের জন্ম ১৯৪৯ সালে, চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং আইন ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর চট্টগ্রাম-এর অন্যতম ট্রাস্টি রানা দাশগুপ্তের উল্লেখযোগ্য বই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের তথ্য ও দলিল, কমেন্ট্রি অনদ্য আর্মস অ্যাক্ট, ল অন এক্সপ্লোসিভস। 

-প্রথম আলো’র সৌজন্যে

এইবেলা ডটকম/ আই
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71