মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
মঙ্গলবার, ৭ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
'হরি বল্' কীর্তনানুষ্ঠানে, জীবনকালে, মরণকালে, শ্মশানঘাটে কেন উচ্চারণ করা হয়?'
প্রকাশ: ০৯:৩৯ pm ১৮-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৩৯ pm ১৮-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


'হরি' বলতে যিনি হরণ করেন। আমাদের জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধিময় মহাদুঃখ যিনি চিরতরে হরণ করে সচ্চিদানন্দময় পরম গতি দান করেন, তিনিই হরি।

'হরি বল্' বা হরিবোল কথাটিতে সবাইকে 'হরি' বলতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কলিযুগে পাবনাবতারী শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু নির্দেশ দিয়েছেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ সর্বদাই হরিনাম কীর্তন করতে হবে। কারণ হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তনই কলিযুগের বদ্ধ জীবের একমাত্র ধর্ম, একমাত্র উদ্ধারের পথ। হরিনামই শান্তির পথ। এই মনুষ্য-জীবন হরিভজনের জন্যই নির্ধারিত। শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে

নৃদেহমাদ্যং সুলভং সুদুর্ল্লভং
প্লবং সুকল্পং গুরুকর্ণধারম্।
ময়ানুকূলেন নভস্বতেরিতং পুমান্
ভবাব্ধিং ন তরেৎ স আত্মহা॥

"এই মনুষ্যদেহটি সকল ফলের মূল; অতএব আদ্য, সুলভ ও সুদুর্লভ। এটিই পটুতর নৌকা। শ্রীগুরুই এর কর্ণধার। কৃষ্ণকৃপারূপ অনুকূল বায়ুর দ্বারা পরিচালিত এরূপ নৌকা লাভ করেও যিনি এই সংসার সমুদ্র পার হতে চেষ্টা না করেন, তিনি আত্মঘাতী।"

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জড়জাগতিক বিষয়ে মোহাচ্ছন্ন মানুষ হরিনাম কীর্তনের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। সে সারা জীবন হাবিজাবি পরিকল্পনায় কাটিয়ে বার্ধক্যে হতাশগ্রস্ত অবস্থায় এই সংসারকে সম্পূর্ণ অসার মনে করে ভগবানের কথা হয়তো স্মরণ করতে পারে। মরণকালে সুকৃতিমান ব্যক্তি হরিনাম স্মরণ করে থাকে।

যখন লোক শব দাহ করতে শ্মশানে যায়, তারা 'হরি বল্' রব করে, কারণ তখন স্মরণীয় এই যে, আমাদের সকলের এই প্রিয় জড় শরীরটি যে কোনও মুহূর্তে ছেড়ে দিতে হবে। যদি জীবন সার্থক করতে হয় তবে 'হরি বল্', হরিনাম কীর্তন করা উচিত। এই জন্ম-মৃত্যুর দুঃখময় ভবচক্র থেকে চিরতরে উত্তীর্ণ হতে হলে হরিনাম কীর্তনে সদা যুক্ত থাকা উচিত। অত্যন্ত বুদ্ধিমান না হলে কেউ হরিভজন করে না,
যজন্তি হি সুমেধসঃ। 
সুমেধাগণই ভজন করেন।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71