বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
 "আত্ত্বসমালোচনা"
প্রকাশ: ০৭:২৬ pm ৩০-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:২৬ pm ৩০-০৫-২০১৭
 
 
 


শ্যামল কুমার রায়: অনেকদিন যাবৎ বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব বলছেন বর্তমান আওয়ামীলীগ নিয়ে কিছু লিখার জন্য। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দকে অনুরোধ করব কষ্ট হলেও লেখাটা পড়ার জন্য এবং পড়ে অবশ্যই কমেন্ট করবেন

দেশে এখন রাজনিতীর সমালোচনা নেই, নেই বলেই রাজনিতী দিনদিন দুর্বল হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের নেতারা এটা বুঝতে চান না।

বাংলাদেশে অন্যান্য দল ক্ষমতা হারালে শুধু ক্ষমতাহীন দলে পরিণত হয় কিন্তু আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতা হারায় তখন দলতো ক্ষমতা হারায়ই জনগনের উপরে ও নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

ভবিষ্যতে যদি আওয়ামীলীগ কখনো ক্ষমতা হারায় তবে দলের সাথে জাতিকেও আরেকবার মূল্য দিতে হবে। এখন প্রশ্ন কেন? এর থেকে বের হবার উপায় ই বা কি? প্রথম উত্তরটা হ'ল মুসলিমলীগের নেতৃত্বে অবিভক্ত ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিমলীগ থেকে আওয়ামীলীগ এর সৃষ্টি।

যদিও আওয়ামীলীগ পরবর্তীতে একটা মাল্টিক্লাশ পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে অর্থাৎ বহু শ্রেণির মানুষের রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে আত্ত্ব প্রকাশ ঘটেছে।

মুসলিমলীগের নেতৃত্ত্বে পাকিস্তান সৃষ্টির অল্প কিছুদিনের মধ্যেই খোদ মুসলিমলীগ থেকেই কিছু নেতৃবৃন্দ পাকিস্তান ও মুসলিমলীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নেয়।

মুসলিমলীগ এটাকে ভাল নজরে নেয় নাই। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালেও আওয়ামী মুসলিমলীগ পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রতিষ্ঠত হয় নাই।

এই দলের দার্শনিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান(পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও জাতির জনক) আওয়ামী মুসলিমলীগকে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে মুসলিম শব্দ বাদদিয়ে দলের নামকরণ করেন আওয়ামীলীগ।

এ সময় বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল কংগ্রেস ও কম্যুনিস্ট পার্টি থেকে অনেককেই আওয়ামলীগের রাজনিতীতে সামিল করেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অনেক মেধাবী প্রক্তন ছাত্রনেতাদের আওয়ামলীগে সক্রিয় করতেও সক্ষম হন।

ধীরে ধীরে ক্রমশই শক্তিশালী জনপ্রিয় দলে পরিণত হতে থাকে আওয়ামীলীগ। একসময়ে পূর্ব পাকিস্তানে সকল শ্রেণি ও পেশার মাণুষের অধিকার আদায়ের একমাত্র রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসাবে মাল্টিক্লাশ পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে জনসাধারনের মাঝে ব্যপক সাড়া পায়।

এ সুযোগে মুসলিমলীগ থেকে কিছু কট্টরপন্থীরা ও আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করতে থাকে এবং পরবর্তীতে পার্টির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত হতে থাকেন। ৬২ র শিক্ষা আন্দোলনের পর থেকে ৬৯ এ ছাত্রদের এগারো দফা আন্দোলন পর্যন্ত সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সকল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ছাত্রলীগ নিউক্লিয়াস গ্রুপের নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

৬ দফা প্রশ্নে আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধুর সাথে একমত হতে না পারলেও ছাত্রলীগ এর আপোষহীন নেতৃত্বের চাপে শেষ পর্যন্ত একমত হতে বাধ্য হন। স্বাধীনতার প্রশ্নে ব্যাপক জনমতের চাপে ষড়যন্ত্রকারী কিছু আওয়ামীলীগ নেতা দলের মধ্যে সুযোগ নেয়ার অপেক্ষায় ঘাপটিমেরে থেকে যায়।

পাকিস্তানের সুরু থকেই মুসলিমলীগের কাধে ভর দিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের তত্ত্বাবধানে ইসলামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান রক্ষার নামে জোরে সোরে তৎপরতা চালাতে থাকে। এরাই আওয়ামীলীগকে কখনো ভারতের দালাল, কখনো আবার পাকিস্তান ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে থাকে।

বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষরযন্ত্র মামলার প্রতিবাদে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের গণঅভ্যুত্থান আইয়ুব খানের পতন হলে নতুন সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৭০ সালের এর ৭ই ডিসেম্বর পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দেন। মুসলিমলীগ ও তার শরিক ইসলামপন্থী দলগুলো ইয়াহিয়া ও ভুট্রোকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, নির্বাচনে মুসলিম লীগের জয় সুনিশ্চিত। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার হারা শোষিত বঞ্চিত মানুষের মনের মধ্যে স্বপ্নে আকাঙ্ক্ষিত ছিল স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে কৃষকরাজ শ্রমিকরাজ সরকারের।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সেই লক্ষ ও আদ্র্শের উপর ভিত্তি করেই সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্ত্বদান আর ২ লক্ষ মাবোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পর ক্রমশ দলের মধ্যে ঘাপটিমেরে থাকা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুর অধিক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে, একশ্রেণীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতারা রাতারাতি ব্যপক বাড়ী ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চর দখলের মত লুটপাট ও দখল করে।

এ নিয়ে প্রগতিশীল আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ এর মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ও স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য প্রকট আকার ধারনের মধ্যদিয়া মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি দ্বিধা বিভক্ত হয়ে গেলে ষড়যন্ত্রকারীদের ষোলকলা পূর্ন হতে থাকে। এখানেই যুদ্ধাত্তোর বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ এর রাজনীতির বড় ব্যর্থতা। আওয়ামীলীগ এর উচিৎছিল স্বাধীন বাংলাদেশে সরকার গঠনের আগে আওয়ামীলীগে শুদ্ধি অভিযান চালানো।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আওয়ামীলীগ এর শরিকদলগুলোর নেতাদেরকে আওয়ামীলীগে টেনে না এনে শরিকদলগুলোকে অধিক শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেয়া। প্রয়োজনে জাসদকে আওয়ামীলীগ এর সমপর্যায়ের দলে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া। তা নাকরে আওয়ামীলীগ আত্ত্বঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ৭৫ সালে মাত্র সারে তিন বছরের মাথায় জাতি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হারায়।

দীর্ঘ ২১ বৎসর জাতিকে অনেক চরা মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে আজ আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত কিন্তু গভীর উদ্বেগ এর সাথে লক্ষ করছি যে, আওয়ামীলীগকে কোন অদৃশ্য শক্তি এখনো সেই পুরনো ভুল পথের দিকেই ক্রমাগত নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রমান পাঠ্যপুস্তকের সিলেবাস পরিবর্তন করে হেফাজতের সুপারিশ অনুযায়ী সিলেবাস পরিবর্তন করা।

ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী ফ্রন্টসহ ইসলামপন্থী দলগুলোকে আওয়ামীলীগ জোটে নেওয়া, বাঙ্গালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিজ্য সংকুচিত করার প্রয়াশ, ভাস্কর্য অপসারণ।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমন, মঠ মন্দির ভাংচুরসহ হত্যা ধর্ষনেরমত মানবাধিকার বিপর্যয় ব্যপকহারে বৃদ্ধি পাওয়া আওয়ামীলীগ এর জন্য শুভ লক্ষণ নয়।


এর থেকে উপায় পেতে হলে অবশ্যই আওয়ামীলীগকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে প্যারালাল রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামীলীগ এর মধ্যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে লুটপাটকারী ও দলের ভাবমুর্তি নষ্ট হয় এমন নেতাকর্মীদের দল থেকে বহিস্কার করতে হবে।

আওয়ামীলীগ এর ভোটব্যাংক বলে খ্যাত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে কমপক্ষে ২০% সকল পর্যায়ে নেতা নির্বাচিত করতে হবে। সকল সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা। যে কোন ধরনের অপরাধ শৃষ্টিকারীদেরকে দ্রুততম সময়ে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।

প্রত্যেক জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিতে প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক উপযুক্ততার ভিত্তিতে অর্ন্তভুক্ত করে আওয়ামীলীগ এর নীতি,নৈতিকতা ও আর্দশ সর্ম্পকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দলের প্রতি কমিটেড নেতা ও কর্মী বাছাই করা এবং সময়মত তাদের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দেয়া।

কেন্দ্রে মনিটরিং সেল গঠন করে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা ও প্রয়জনীয় ব্যবস্থা নেয়া। এই কাজগুলো করতে পারলে আওয়ামীলীগ লক্ষ্য অনুযায়ী উন্নত দেশের টার্গেটে পৌছাতে পারবে। নয়তো দলের সাধারণ সম্পাদক মহোদয়ের আতংকিত সুরের ধনি প্রতিধ্বনিত হয়ে এক সময় তা মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। 
 

লেখক:  শ্যামল কুমার রায়, প্রধান সমন্বয়ক ‘‘বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট’’ ও  প্রাক্তন ছাত্রলীগ কর্মী।

 

এইবেলাডটকম/পিসিএস 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71