মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৯শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো টিটু রায়কে
 পুলিশের সাম্প্রদায়িক ভূমিকা
প্রকাশ: ১২:১৮ pm ২৩-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:১৮ pm ২৩-১১-২০১৭
 
দৈনিক সংবাদ’র সম্পাদকীয়
 
 
 
 


ফেসবুকে অবমাননাকর স্ট্যাটাস ‘ব্যবহার’ করার তথাকথিত অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া টিটু রায়কে দু’দফা ৮ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা নিয়ে দিনভর নানা নাটক করেছে রংপুরের পুলিশ। গতকাল সংবাদ-এ প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বেলা ১১টায় অত্যন্ত গোপনে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে টিটু রায়কে আদালতে এনে ৪ তলার একটি কক্ষে রাখা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে টিটু রায়কে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যায় পুলিশ।

টিটু রায়ের দ্বিতীয় দফার ৪ দিনের রিমান্ডের শেষ দিন। স্বাভাবিকভাবেই তাকে আদালতে নিয়ে আসার কথা। এই কারণে সকাল থেকে তার পক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, রংপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ব্লাস্টসহ কয়েকটি সংগঠন ৭ সদস্যের আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুত করেছিল, তারা সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ছিল ওকালতনামায় তার স্বাক্ষর নেয়ার জন্য। কিন্তু আইনজীবীরা ওকালতনামায় তার স্বাক্ষর গ্রহণ করতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী প্যানেলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত রায় ‘সংবাদ’-এর কাছে অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের জামিন নেয়ার জন্য যে বিধান রয়েছে উকিল হিসেবে জামিনের আবেদন করার জন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেয়া প্রয়োজন ছিল। সকাল থেকে আদালতে থেকেও সেটা করা যায়নি।
অন্যদিকে রংপুরের সাংবাদিকরা সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতে অবস্থান করে টিটু রায়কে নিয়ে পুলিশ ও আদালতের গোপন কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিবি পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ জানিয়েছে, ‘টিটু রায় রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

টিটু রায়কে নিয়ে  রংপুর পুলিশ যা করেছে সেটা শুধু সংবিধান ও আইনের লঙ্ঘনই নয় তাদের সাম্প্রদায়িক তৎপরতারই একটি অংশ আর কিছু নয়। অভিযুক্ত টিটু রায়কে তার আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি, আইনজীবীদের ওকালতনামায় তার স্বাক্ষরও গ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে টিটু রায়কে সংবিধান ও আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো। জামিনের জন্য আবেদন করার অধিকার যে কোন অভিযুক্তের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার।

প্রশ্ন হচ্ছে, টিটু রায়কে তার আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো কেন? এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এবং ঘটনা প্রবাহ থেকে নিশ্চিতভাবেই বোঝা যায় পুলিশ তথা রাষ্ট্র যে কোন মূল্যে টিটু রায়কে দোষী প্রমাণ করার জন্য পরিকল্পনা করেছে। রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় ১০ নভেম্বর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার পরিকল্পনা, উসকানি ও সংগঠন করার পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসন শুধু নীরব ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকাই পালন করেনি বরং উসকানির জন্য ব্যবহৃত মাইক সরবরাহ করে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রত্যক্ষ অংশীদারও হয়েছে। পরে সাম্প্রদায়িক হামলার ইন্ধনদাতা ও হুকুমদাতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ভিকটিমকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এই ভূমিকার কারণেই পরবর্তী সময়েও সাম্প্রদায়িক ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ ও প্রশাসন। সেই কারণেই আইনি অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে টিটু রায়কে।

বাংলাদেশ কোন সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নয়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান সাম্প্রদায়িকতা অনুমোদন করে না। আইনি অধিকার থেকে রাষ্ট্রের কোন নাগরিককে বঞ্চিত করার অধিকারও সংবিধান পুলিশ, প্রশাসন ও সরকারকে দেয়নি। সুতরাং অবিলম্বে টিটু রায়কে আইনি অধিকার পাওয়ার সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সুযোগ দিতে হবে। সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রংপুরের সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা প্রয়োজন, রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক বানানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়নি।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71