শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
 মোটা চালের দাম কমেছে, কমেনি সরুও মাঝারির
প্রকাশ: ১০:৩৪ am ১৭-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৩৪ am ১৭-০৭-২০১৭
 
 
 


দাম কমেছে মোটা চালের। বেড়েছে আমদানিও। তা সত্ত্বেও অস্বস্তিতেই থাকতে হচ্ছে দেশের বড় অংশের মানুষকে। কারণ, মোটা চাল খেতে অভ্যস্ত নয় তারা। তাই মোটা চালের দাম কমার ও আমদানি বাড়ার খবর স্বস্তি দিতে পারছে না বেশির ভাগ মানুষকে।

দেশের পাইকারি বাজারে কেবল মোটা চালের দামই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সরু ও মাঝারি মানের চাল আমদানি হয়নি, তাই দামও কমছে না। তবে চালের আমদানি শুল্ক কমানো, বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দেওয়ায় এবং আমদানি করা মোটা চাল বাজারে আসার সুফল পেয়েছে দরিদ্র মানুষেরা।

রাজধানীর চালের পাইকারি বাজার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আড়তগুলোতে প্রতি কেজি ভারতীয় মোটা চাল ৪১ টাকা ও দেশি মোটা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি শুরু হওয়ার আগে মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৬ টাকায় উঠেছিল। অবশ্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৩০-৩৪ টাকা ছিল।

অন্যদিকে মাঝারি ও সরু চালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি দেড় টাকা। মাঝারি মানের বিআর-আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা দরে। সরু চালের মধ্যে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৯ থেকে সাড়ে ৫২ টাকা দরে, এ চালের দাম কেজিতে দেড় টাকা কমেছে। তবে সম্প্রতি সরু নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে, মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৬০ টাকা দরে।

ঢাকার বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় মিনিকেট চাল। এ চাল উৎপাদিত হয় বোরো মৌসুমে, বাজারে আসে মে থেকে জুন মাসে।অন্যান্য বছরগুলোতে মৌসুমের শুরুতে এ চালের দাম পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৪২ টাকার আশপাশে ছিল, যা বছর শেষে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
 
এ বছর মৌসুম শুরুই হয়েছে ৫৪ টাকা কেজিতে। কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, এখন রশিদ, এরফান, মোজাম্মেল, বিশ্বাস ইত্যাদি ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৫২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারেও মাঝারি ও সরু চালের দাম কমেনি বললেই চলে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ  বলছে,  মাঝারি চালের দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা কমেছে। সরু চালের দাম কমেনি।

কৃষি মার্কেটের দোকানগুলোতে এখন ভারতীয় স্বর্ণা নামের মোটা চালের সরবরাহ বেশি। দেশটি থেকে বছর দুয়েক আগে যে সরু চাল আমদানি হয়েছিল, তা এবার হচ্ছে না। 

কারণ জানতে চাইলে চাল আমদানিকারক খুলনা রাইস এজেন্সির মালিক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশি মানের সরু চাল আমদানি করতে গেলে প্রতি কেজির দর পড়বে  ৫১ টাকা। দেশি সাধারণ মানের মিনিকেটের দাম এর চেয়ে কম। ফলে ভারত থেকে আসছে শুধু মোটা চাল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের হুমকির কারণে মিলমালিকেরা সরু চালের দাম সামান্য কমিয়েছেন, এর সঙ্গে বাজারের সম্পর্ক নেই। রাজধানীর বাবুবাজার-বাদামতলীর চালের আড়ত শিল্পী রাইস এজেন্সির মালিক কাওসার রহমান বলেন, সরু ও মাঝারি চালের দাম খুব বেশি কমবে না। কারণ, এটি আমদানি হচ্ছে না। অন্যদিকে মিলমালিকেরা বেশি দরে ধান কিনে রেখেছেন। তাই তাঁরাও দাম কমাবেন না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর  হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। যার মধ্যে ১ কোটি ৯০ লাখ টন আসে বোরোতে। এবার বোরো মৌসুমে হাওরের ধান নষ্ট হয়ে যায়, যা চালের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। 

সরকারি গুদামে মজুত কমে যাওয়া ও বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ২০ জুন চাল আমদানিতে কর হার ২৮ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। এর আগে ব্যাংকগুলোকে নগদ অর্থ ছাড়া বাকিতে চাল আমদানির ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিতে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাজারে চাহিদার কারণে চাল আমদানিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,জুন মাসেই ৪ লাখ ৩৭ হাজার টন চাল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে।

 ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার টন চাল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। আর এ সময়ে দেশে প্রবেশ করেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার টন চাল।

দেশে আমন মৌসুমের ধান আবাদ হচ্ছে এখন। এ মৌসুমের চাল বাজারে আসবে নভেম্বরের শেষ দিকে। বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক বন্যাও চালের বাজারের নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

 সরু ও মাঝারি চাল আমদানির সম্ভাবনা কতটুকু জানতে চাইলে ভারতকেন্দ্রিক আমদানিকারক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বোরো মৌসুমে উৎপাদিত মিনিকেট ও আটাশ চালের সরবরাহে টান পড়বে  সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে।

 তখন দাম বাড়লে ভারত থেকে আমদানি হতে পারে। তিনি চাল আমদানিতে বাকি ১০ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়া ও বন্দরে ট্রাকের জট কমানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, একটি ট্রাক বন্দরে ১৪-১৫ দিন পড়ে থাকছে। এতে ভারতীয় অংশে ১০০ টন চালের ভাড়া পড়ছে ২ লাখ রুপি, যা ৬৫ হাজার রুপি ছিল।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71