শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯
শুক্রবার, ৬ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
 হিন্দু চা শ্রমিকদের দুর্বিসহ জীবন
প্রকাশ: ১২:১৫ pm ২২-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ১২:১৫ pm ২২-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সারাদিন কাজের পর আয় হয় ৮৫ টাকা, নেই নিজস্ব নৃতাত্ত্বিক জাতিগত পরিচয়, লেখাপড়ার সুযোগ নেই, নেই স্যানিটেশনও। চিকিৎসার অভাবে মারা যায় অনেকেই। শিক্ষিত হলেও ৮৫ টাকা রোজের নির্দিষ্ট কাজ করতে হয় নয়ত হারাতে হয় মাথা রাখার জায়গা। কাজ করতে গিয়ে অঙ্গহানী ঘটলেও কোনো সাহায্য নেই। নিজের অধিকার নিয়ে যেন সোচ্চার না হতে পারে সেজন্য মালিকপক্ষের সহযোগিতায় নেশার ঘোরে রাখা হয় শ্রমিকদের। পরিকল্পিত ভাবে প্রতিটি চা বাগানে আছে মদের দোকান।

এমনি এক হতভাগ্য জনগোষ্ঠী চা শ্রমিকরা। ব্রিটিশ শাসনামলে সুন্দর জীবনযাত্রার লোভ দেখিয়ে বঙ্গভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে আনা হলেও শুরু থেকেই তাদের কপালে জুটেছে শুধু অবহেলা-নির্যাতন। এরা যেন আজকের আধুনিক ক্রীতদাস।

স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও চা বাগানের শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসেনি। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তাদের জীবনযাত্রায়। এমনকি মৌলিক অধিকারও তারা ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। দেশে মোট চা বাগান ১৬৪টি। চা বাগানের প্রায় ১০ লক্ষ জনগোষ্ঠী এখনও ব্রিটিশ সামন্তবাদ আর স্থানীয় বাবু-সাহেবদের বেড়াজাল ছিন্ন করতে পারেনি।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্রমতে, দেশে চা জনগোষ্ঠী প্রায় ১০ লাখ। তার মধ্যে নিবন্ধিত শ্রমিক প্রায় ৯৪ হাজার, অনিয়মিত শ্রমিক প্রায় আরো ৪০ হাজার। একজন চা শ্রমিকের সাপ্তাহিক বেতন ৫৯৫ টাকা। সপ্তাহে দেয়া হয় ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম চাল বা আটা (বাজার দর হিসেবে যে পণ্যের দাম কম)।

৫-৬ সদস্যের অনেক পরিবার আছে যেখানে ১ জন কাজ পাচ্ছে বাকিরা এই ৮৫ টাকার উপর নির্ভর করেই দিন চালাচ্ছে। ছোট ভাঙাচোরা ঘরে থাকতে হয় গবাদি পশুসহ সন্তানদের নিয়ে। বাগান কর্তৃপক্ষের ঘর মেরামত করে দেয়ার কথা থাকলেও তা হয় না বছরের পর বছর। তাদের নেই নিজস্ব কোনো জায়গা। বাগানে কাজ না করলে থাকার জায়গাও হারাতে হবে।

২০১৬ সালের চুক্তি অনুসারে একজন শ্রমিককে অবসর ভাতা হিসেবে সে যত বছর কাজ করেছে তার মোট বছরের গড়ে দেড় মাসের বেতন হিসেবে পেনশন দেয়ার কথা। কিন্তু সেটা শুধু কাগজে কলমে। বৃদ্ধ বয়সে পরিবারের বোঝা হয়ে অর্ধাহার অনাহারে বিনা চিকিৎসায় মরতে হয় তাদের। মাত্র কয়েকটি বাগানে নামমাত্র চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও বেশিরভাগ বাগানে সেটা নেই।

চা শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এত কষ্টের মাঝেও তাদেরকে সব থেকে বেশি কষ্ট দেয় যখন সমাজের বিরাট অংশ বলে তারা ভারতীয়। যখন বঙ্গে আসেন তখন ভারতবর্ষ ভাগ হয়নি তারা শুধু একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় গেছেন। সুতরাং তারা এই দেশের। সবারই নিজস্ব জাতি পরিচয় থাকলেও চা শ্রমিকের সেটা নেই, তাদের নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি থাকলেও কোনো স্বীকৃতি তারা এখনও আদায় করতে পারেননি।

একজন শ্রমিককে বাগান ভেদে ১৬ থেকে ২৫ কেজি চা পাতা তোলার দৈনিক টার্গেট দেয়া হয়। তা তুলতে না পারলে সারাদিন বৃথা। কিন্তু টার্গেটের থেকে যদি 

এত বঞ্ছনার পরও তারা কেন প্রতিবাদী হতে পারে না এমন প্রশ্নে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন কৈরী বলেন, আমাদের কষ্টের কথা বলে শেষ করা যাবে না। নিজেদের ভালো মন্দ বুঝে শ্রমিকরা যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে সেজন্য মালিক পক্ষের পরক্ষ সহযোগিতায় মদের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করে তাদের মাতাল করে রাখা হচ্ছে। একজন চা শ্রমিক বাগানে কাজ না করলে তাকে বাগানে থাকতে দেয়া হয় না অথচ প্রায় প্রতিটি বাগানে নিম্নমানের মদের দোকান আছে যাদেরকে কোনো কাজ ছাড়াই থাকার জন্য জায়গাসহ সব ধরনের সুযোগ করে দিচ্ছে বাগানের মালিক পক্ষ।

বাংলাদেশ চা সংসদ সিলেট ভ্যালির সভাপতি জি এম শিবলী বলেন, চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে। প্রতিটি বাগানে প্রাথমিক স্কুল স্থাপন করা হচ্ছে। বাগানে মদের দোকান প্রসঙ্গে বলেন, এরা সরকার থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71