রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯
রবিবার, ২রা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
 ৩ বছরেও অভিজিৎ হত্যার চার্জশিট হয়নি 
প্রকাশ: ০১:১৮ pm ২৬-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ০১:১৯ pm ২৬-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার তিন বছর পার হলেও এখনও চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা বলছেন, এ হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা আর ২/১ জনকে গ্রেফতার করা গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা এখনও পলাতক।

রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ মামলাটি আগে তদন্তের দায়িত্বে ছিল ডিবি পুলিশ। তিন মাস আগে মামলাটি সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর হয়েছে। মামলা হস্তান্তরের আগে এ মামলায় সাতজন গ্রেফতার ছিল। মামলার তদন্ত হাতে পাওয়ার পর সিটিটিসি এ মামলায় মোজাম্মেল হোসেন ওরফে সাইমন, আবু সিদ্দিক সোহেল ও আরাফাত ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে। এ তিনজনকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ছবি রয়েছে। পাশাপাশি আড়াই বছর আগে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে এ তিনজনসহ শনাক্তকৃত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

সিটিটিসির প্রধান আরও বলেন, এ তিনজনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে মূলত এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। তিনজনের মধ্যে দু'জন ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের আর একজন সরাসরি মিলিটারি উইংয়ের সদস্য ছিল। সার্ভিলেন্স ও অপারেশনের সঙ্গে তারা তিনজনই সরাসরি জড়িত ছিল। এ মামলায় আরও পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২/১ জনকে গ্রেফতার করতে পারলে তদন্ত সমাপ্ত করে চার্জশিট দেওয়া সম্ভব।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে অভিজিৎকে হত্যা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী ডা. রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন। অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে আসে এফবিআইর একটি প্রতিনিধি দল।

পুলিশের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা না হলেও তদন্তের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যতম সন্দেহভাজন মুকুল রানা নামের তাদের এক সহযোগী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছিল। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে মুকুল সরাসরি অংশ নিয়েছিল।

অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় সমকালকে বলেন, 'তদন্ত কতদূর এগিয়েছে আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জিজ্ঞেস করি না।'

মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, অভিজিৎ হত্যায় সরাসরি আনসার আল ইসলামের ১১ সদস্য অংশ নেয়। তাদের মধ্যে সাতজনের পূর্ণ নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। অন্যদের সাংগঠনিক নাম পাওয়া গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হলে সাতজনকে আসামি করা যেতে পারে। তবে চাঞ্চল্যকর একটি মামলা হিসেবে 'কিলিং মিশনে' অংশ নেওয়া সবার পরিচয় জেনে তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাই বিলম্ব হলেও তাদের পরিচয় জানার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় যেসব জঙ্গির ছদ্মনাম পাওয়া গেছে তারা হলো—শামীম, সিয়াম, তাহরিক, মারুফ, জামান, আকাশ, রাফি, আসাদ, আলম, তৈয়ব, জনি ও রায়হান। তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বেশ কিছু আলামত ও সন্দেহভাজনদের আলামত পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইর ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে পুলিশ। তবে এখনও সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71