শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
৭০০ কোটি টাকা অনিয়মের প্রমাণ সংসদীয় কমিটিতে
অগ্রণী ব্যাংকের ঋণপ্রাপ্তিতে সই-স্বাক্ষরও লাগে না!
প্রকাশ: ০১:১৭ pm ২১-০৯-২০১৬ হালনাগাদ: ০১:১৭ pm ২১-০৯-২০১৬
 
 
 


ঢাকা : রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফের ৬৮০ কোটি ৩১ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকার অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই পছন্দের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এসব টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে কোনো কাগজপত্র এমনকি সই-স্বাক্ষরও নেয়া হয়নি। ব্যাংকের লেজারে টাকার পরিমাণ উঠিয়ে রেখেই দায়িত্ব শেষ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। অতিদ্রুত এসব টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছেন তারা। 

সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য একেএম মাঈদুল ইসলাম, মো. আবদুস শহীদ, মো. শামসুল হক টুকু, মঈন উদ্দীন খান বাদল এবং রেবেকা মমিন অংশ নেন। সিঅ্যান্ডএজি মাসুদ আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ অডিট অফিসের কর্মকর্তা, অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ঋণ পুনঃতফসিল ও সুদ মওকুফ কার্যক্রমের ২০০৯-১০ অর্থবছরের হিসাবের ওপর বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এই প্রতিবেদনের ২৪টি অনুচ্ছেদে নিয়মবহির্ভূত কাজের সত্যতার বিষয়টি তুলে ধরে অডিট অধিদফতর। 

উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়া অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানির জন্য বারবার ক্যাশ এলসি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ টিআর, পিএডি ও পুনঃতফসিলকৃত ঋণ আদায়েও ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকের ক্ষতি ২২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কমিটি সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়া এলসি খোলায় সহায়তাকারী দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা, অপসারিত কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, রিট পিটিশন ভ্যাকেট এবং দায়ী কোম্পানী যাতে অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ভিন্ন নামে এলসি খুলতে না পারে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। 

এদিকে ঋণের দায় পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে অনিয়মিতভাবে পুনঃতফসিলীকরণের পরেও ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের ১৫০ কোটি ৮৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৯ টাকা টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটি যেসব কর্মকর্তা জমির মূল্য বেশি দেখিয়ে মূল্য নিরূপণের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে। 

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, প্রকল্প ও সিসি হাইপো ঋণের দায় পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি অনেক ক্ষেত্রে। উপরন্তু এসব প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মিতভাবে পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এরপরও ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের ৪৮ কোটি ১৭ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া  পুনঃতফসিলীকরণ আদেশে অর্জিত সুদ ব্লকড হিসেবে প্রদর্শনের নির্দেশনা না থাকা সত্ত্বেও তা করায় ব্যাংক ৪৮ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫৬ টাকা আয় হতে বঞ্চিত এবং নিয়মিত ঋণের দায় ব্লক হিসেবে স্থানান্তর করায় ব্যাংকের আরো ৩৫ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৬৩ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংকের বন্ধকী সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য নিরূপণ না করে সুদ মওকুফ এবং মওকুফ অবশিষ্ট টাকা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে আরো ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কমিটি দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়েরকৃত মামলার তদারকি জোরদারকরণ এবং অনধিক ৬০ দিনের মধ্যে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে অডিট অফিসের মাধ্যমে কমিটিকে অবহিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। 

এসব অনিয়ম ছাড়াও ব্যাংকটি বারবার পুনঃতফসিলীকরণ ও অনিয়মিতভাবে কস্ট অব ফান্ড কভার না করে সুদ মওকুফসহ পুনঃতফসিলীকরণের পরেও ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ৬৯ কোটি ১৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয়ের ব্যবস্থা না করে এবং এককালীন মূল্য আদায় ছাড়া মেসার্স কওয়াটী ডিটারজেন্ট অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করায় ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, মেসার্স মাসাহা নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের খেলাপি দায় থাকা সত্ত্বেও ব্যাক টু ব্যাক এলসি স্থাপন এবং মালামাল রফতানি করতে ব্যর্থ হওয়ায় সৃষ্ট ডিমান্ড লোন পুনঃতফসিলীকরণ ও পুনরায় ডিমান্ড সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার ২৯৫ টাকা এবং ডেট কালেকশন খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণের দায় চুক্তিপত্র অনুসারে আদায় না হওয়া সত্ত্বেও কমিশন প্রদান করায় ব্যাংকের আরো ৪৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এইবেলাডটকম/এএস

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71