রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা বিধবা আরতি রানী
প্রকাশ: ১১:০১ am ০৪-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:০১ am ০৪-০৫-২০১৮
 
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
 
 
 
 


অজ্ঞাত এক জটিল রোগে স্বামীর মৃত্যুর পর একই রোগে আক্রান্ত দুই সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় জীবন যাপন করছেন কালাইয়ের বিধবা আরতি রানী। সন্তান যেখানে বড় হয়ে পরিবারের সব দুঃখ, কষ্ট লাঘবের কথা ছিল। সেখানে তার কষ্ট দিনের পর দিন বেড়েছে শতগুণে। তিন বছর থেকে তার বড় ছেলে সজল রবিদাস (২১) নিথর দেহ নিয়ে বাড়িতে পড়ে আছে। আর ছোট ছেলে সহদেব রবিদাসেরও (১৬) একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালাই উপজেলার পুনটহাটের অদূরে পুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের কাছে কয়েকটি ঘর নিয়ে রবিদাস সম্প্রদায়ের বসতি। এরই মধ্যে ভাঙা একটি ঝুপড়ি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিধবা আরতি রানী ও জটিল রোগে আক্রান্ত তার দুই ছেলের বসবাস।

আরতি রানী বলেন, এক সময় স্বামী সন্তানদের নিয়ে আমার সংসার খুব ভালোভাবে চলছিলো। হঠাৎ স্বামী মতিলাল রবিদাস অজ্ঞাত জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। প্রাথমিকভাবে লক্ষণীয় বিষয়গুলো ছিলো- চলাফেরার সময় তার শরীর কাঁপতো, হাত-পা অবশ হয়ে কোনো কিছু ধরতে ও ঠিক মতো চলাচল করতে পারতো না, মুখ বাঁকা হতো, কথাগুলো ছিল অস্পষ্ট, কোন কিছু ঠিক মতো খেতে পারতো না, স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে অনেক খারাপ হচ্ছিল। শেষ পর্যায়ে তার শরীরে অসম্ভব ঝাঁকুনি বা কাঁপুনি ছিল। পথ চলতে চলতে হঠাৎ করে মাটিতে পড়ে যেত। অবশেষে তার অসুস্থতা এতই বেড়ে যায় যে, জুতা মেরামতের কাজ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। সংসারে আসে অনেক অভাব। তিনি বলেন, তখন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে স্বামী ও দুই সন্তানসহ মোট পাঁচজনের ভাত কোনোমতে জোগাড় করতাম। সেই অবস্থায় টাকার অভাবে বিনাচিকিত্সায় ২০১৪ সালে আমার স্বামী মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর কিছু দিন পরই বড় ছেলে সজল রবিদাসের একই ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়। ফলে তৃতীয় শ্রেণিতেই তার শিক্ষা জীবন শেষ হয়। চলাচল শক্তি হারিয়ে এখন বাড়িতে বন্দী জীবনযাপন করছে। 

২০১৫ সালে ধার দেনা করে এলাকার বিভিন্ন চিকিত্সকের শরণাপন্ন হলেও অর্থাভাবে তাদের পরামর্শ মোতাবেক স্বাভাবিক চিকিৎসাসহ কিছু পরীক্ষা করানো আর সম্ভব হয়নি। আবার ইতোমধ্যেই ছোট ছেলে সহদেব রবিদাসের শরীরেও একই উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করেছে। সহদেবকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার উচ্চতর পরীক্ষা করানো আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

অসুস্থ দুই সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে জীবন পার করছেন বিধবা আরতী রানী।

তিনি বলেন, সরকার বা কোনো সংস্থা কিংবা সহূদয়বান ব্যক্তির সহায়তা ছাড়া আমাদের এখন আর কোনো পথ নেই। দুই সন্তানের চিকিত্সার জন্য এগিয়ে আসতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

নি এম/ 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71