শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
অতি বর্ষণে যশোর মৎস্যপল্লীর ক্ষতি ১০কোটি টাকা
প্রকাশ: ০১:১৮ am ১৩-০৭-২০১৫ হালনাগাদ: ০১:১৮ am ১৩-০৭-২০১৫
 
 
 


প্রণব দাস ॥ অতিবর্ষণে দেশের বৃহত্তর মৎস্যপল্লী যশোরের হ্যাচারির রেনু ও চারা পোনা ভেসে গেছে। এতে মৎস্যচাষিরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষতির পরিমান প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠবেন সেই দুশ্চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হ্যাচারি মালিকেরা।

এবছর বর্ষাঋতুর শুরুতেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তবে আষাঢ়ের শেষদিকে এসে এর পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ ৯জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১০ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা যশোরে ১শ’৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একদিনের বৃষ্টিপাতের হিসেবে যা গত কয়েক মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এমন টানা বৃষ্টির কারণে পুকুরের পানি বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিমান টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে হরিণার বিল,  ভৈরব ও বুড়ি ভৈরব নদ, কপোতাক্ষ নদে অনেক মাছ ভেসে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলে রেনু পোনা উৎপাদন ও বিকিকিনির কাজ। যশোর জেলায় ছোট-বড় ৫ হাজার নার্সারী, ৪২টি হ্যাচরী, ১২শ’ টি টেবিল ফিস (বাজার) ও ২শ’ টির বেশি চারামাছ বিক্রয় কেন্দ্র (হাপা) রয়েছে। এ কাজের সাথে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি মানুষ ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু কয়েকদিন আগের অতিবর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকার  রেনু পোনা উৎপাদন ও বিক্রির সাথে জড়িতরা বিপুল পরিমান এ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আব্দুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, অনেক চাষীই বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা করে থাকেন। বৃষ্টির পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় এখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কি করে তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন তা ভাবতে ভাবতে পাগল প্রায় তারা।

শামীম হোসেন নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ সিজনে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া তাদের কষ্টসাধ্য হবে। কারণ অনাবৃষ্টি দিয়ে সিজন শুরু হয়েছে। নতুন করে শুরু করতে গেলে আবারো ঋণের জালে জড়াতে হবে তাদের।

যশোরের মৎস্য পল্লী থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেনু ও চারা পোনা প্রেরণ করা হয়। কিন্তু এদিকে ১২ জুলাই যশোরের মৎস্যপল্লীতে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানান, গত তিনদিন ধরে চাহিদামত পোনা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলেন, যশোরে স্মরণকালে এ ধরণের ভারিবর্ষণ হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কম বেশি বৃষ্টি হয় কিন্তু এ বছরের বৃষ্টি মৎস্যচাষীদের জন্য জীবনে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। 

যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারী মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব ফিরোজ খান বলেছেন, অতিবৃষ্টিতে জেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি মৎস্যচাষীদের জন্য অপুরনীয়। তিনি অভিযোগে করে বলেন, ব্যবসায়ীরা এত বড় ক্ষতির শিকার হলেও একটি বার খোঁজও নেয়নি যশোরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তাদের লোকজন।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান গোলদার বলেন, এ বছর শুরুতে অনাবৃষ্টিতে মাছ উৎপাদন বা রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে ক্ষতির মুখেই ছিল চাষিরা। এরপর বৃষ্টির ফলে কিছুটা আশার আলো দেখেছিলো চাষিরা। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে জেলায় প্রায় ৭ হাজার নার্সারী, হ্যাচরী, টেবিল ফিস (বাজার) ও হাপার মালিকরা চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন যা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।

এইবেলা ডট কম/প্রতিনিধি/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71