শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯
শুক্রবার, ১৩ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
অন্নপ্রাশন কি?
প্রকাশ: ০৬:০৫ pm ১১-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:০৫ pm ১১-০৩-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আক্ষরিকভাবে ‘অন্নপ্রাশন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘ভাত খাওয়ানো’। অন্যভাবে এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হয় ‘মুখে ভাত’। মানে হচ্ছে আপনার শিশুর জীবনে মায়ের দুধের পর প্রথম শক্ত খাবারের যাত্রা শুরু। অর্থাৎ এই অনুষ্ঠানের পর থেকে শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি শক্ত খাবার দেওয়া শুরু হয়। সাধারণত বাঙালীদের মধ্যেই এই অনুষ্ঠানের চল রয়েছে এবং দেশের বেশিরভাগ অংশেই কিছুটা ব্যতিক্রমীভাবে হলেও এই অনুষ্ঠানটি করা হয়ে থাকে।

কেন করা হয় অন্নপ্রাশন?

সাধারণত শিশুর ছয় মাস বয়সেই এই অনুষ্ঠানটি করা হয়ে থাকে। সনাতন ধর্মে বলা হয়, শিশুর দাঁত উঠার আগেই অন্নপ্রাশন করা উচিত। এর কারণ যদিও অজানা, তারপরও ধরে নেওয়া যায় যে, এসময়টাতে একটি শিশুর তরল খাবারে আর পুষ্টি সবটুকু চাহিদা পূরণ হয় না। তাকে তখন ভারী খাবার প্রয়োজন আছে বলেই সময়টাকে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ধর্মীয় বিধানে।তাছাড়া, এই ছয় মাস ইঙ্গিত দেয় যে, আপনার শিশু এখন ভারী খাবার খেতে সক্ষম।

কোথাও কোথাও ছেলে শিশুর জন্য বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ছয় থেকে আট মাস, অর্থাৎ জোড় মাস অন্যদিকে মেয়ে শিশুর জন্য বেজোড় হিসাবে পাঁচ থেকে সাত মাস।

এই অনুষ্ঠানটি কোথায় হয়ে থাকে?

সাধারণত নিজ বাড়িতে অথবা বিভিন্ন মন্দিরে অন্নপ্রাশনের আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রচলিত আছে, মামাকেই প্রথম ভাত তুলে দিতে হয় বোনের সন্তানের মুখে। অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ধর্মীয় কিছু বিষয় জড়িত বলে যারা এর আচার বিষয়ে জানেন, তাদের ডেকে নেওয়াই ভাল।

কিভাবে হয় এই অন্নপ্রাশন?
বাবা-মা বা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা এজন্য একটি শুভ দিনক্ষণ ঠিক করেন। বাচ্চাকে নতুন কাপড় পরানো হয়। সাধারণত শিশুর স্বাস্থ্য, কল্যাণ আর সমৃদ্ধি কামনা করে শুরুতেই ধর্মীয় কিছু আচার-আচরণ পালন করতে হয়। এরপরেই তার মুখে ভাত তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের উপরই নির্ভর করে কে এই ভাত তুলে দেবেন। মূলত এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে শিশুর জন্মের পর একটি পরিবারে নিকটজনদের পুনর্মিলনী।

ধর্মীয় বিভিন্ন আচারের মধ্যে একটি হচ্ছে, কলা পাতা বা কাঁসার বড় থালায় করে কলম, খাতা, টাকা, অলংকার, মাটি, ধান জাতীয় বেশকিছু জিনিস রেখে দেওয়া হয় এবং শিশুটির সামনে তা তুলে ধরা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, শিশুটি হাত বাড়িয়ে যে জিনিসটা ধরবে, অর্থাৎ সে সেই জিনিসটার প্রতি আকৃষ্ট হবে, বড় হয়ে সে সেটাই হবে। যেমন, কোন শিশু যদি কলম-খাতা ধরে তবে বলা হয় সে বড় হয়ে লেখাপড়া জানা মানুষ হবে, বিদ্বান হবে। আবার সে যদি টাকায় হাত দেয়, তার মানে সে ব্যবসায়ী জাতীয় কিছু হবে। মাটি ধরলে জমিবাড়ির মালিক হবে। ধান ধরলে কৃষিকাজে মনোযোগী হবে। মনে রাখতে হবে, এগুলো সবই ধর্মীয় বিধানথেকে উদ্ভুত ধারণা,

কি ধরনের খাবার সাধারণত শিশুকে দেওয়া হয়?

শিশুর প্রথম শক্ত খাবার হিসাবে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়াতে চাইলে ক্ষীর বা পায়েসই দেওয়া হয়ে থাকে। অথবা সাদা ভাত একটু ঘি দিয়ে নরম করে তারপর দেয় অনেকেই। অনেকে আবার এর সঙ্গে বিশেষভাবে রান্না করা ডালও যোগ করে থাকেন। তবে মজার বিষয় হলো, শিশুর সামনে সাধারণত নিরামিষসহ সব ধরনের খাবারই অল্প অল্প করে সুন্দর করে পৃথক বাটিতে সাজিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু খাওয়ানো হয় সামান্যই। পরে সেই খাবার অন্যদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71