মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
অভিজিৎকে হত্যার নির্দেশ দেয় মেজর জিয়া
প্রকাশ: ০১:০৯ pm ২১-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ০১:০৯ pm ২১-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে প্রথমে তার বাসায় হত্যার পরিকল্পনা করেছিল আনসার আল ইসলামের সামরিক কমান্ডার বহিষ্কৃত মেজর জিয়া। পরে সে আবার সিদ্ধান্ত বদলায়। অভিজিৎকে বইমেলাতেই হত্যার নির্দেশ দেয়। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আনসার আল ইসলামের সদস্য আবু সিদ্দিক সোহেল আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এসব কথা জানিয়েছে। গত ৬ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম আহসান হাবীবের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সোহেল। এর একদিন আগেই মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

সোহেল স্বীকারোক্তিতে বলে, ‘২৪ ফেব্রুয়ারি আমরা অভিজিৎ রায়কে ফলো করি। সে ইন্দিরা রোডের একটি বাসায় যায়। আদনান ভাই ওই বাসার দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করে স্যার ওই বাসায় থাকে কিনা। দারোয়ান বলে, সে এই বাসায় বেড়াতে এসেছে। ইন্দিরা রোডের বাসা হতে ফেরার পর বড় ভাই (মেজর জিয়া) বলে অভিজিৎকে বই মেলায় হত্যা করা হোক।’

সোহেলের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃত মেজর জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী বইমেলাতেই হত্যার প্রস্তুতি নেয় আনসার আল ইসলামের একটি স্লিপার সেল, যেখানে দু’টি পৃথক দল ছিল। এর মধ্যে একটি দল সরাসরি অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করে। আর ‘ইন্টেল গ্রুপ’ নামে অন্য দলটি অভিজিৎকে টানা চারদিন অনুসরণ করে। গ্রেফতার হওয়া সোহেল ইন্টেল গ্রুপের সদস্য ছিল। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্মমভাবে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়কে, যার বাবা অজয় রায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।

সোহেলের ভাষ্য, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি আমরা বইমেলায় যাই্ কিন্তু অভিজিৎকে না পেয়ে আমরা চলে আসি। ২৬ ফেব্রুয়ারি আমি, আবীর, হাসান, সায়মন ওরফে শাহরিয়ার এলিফ্যান্ট রোডের অফিসে যাই। সায়মন আমাদের বুঝিয়ে দেয়, আমরা বইমেলায় কে কোথায় থাকবো, কিভাবে অভিজিৎ রায়কে ফলো করবো। প্রতিদিন রেকিতে যাওয়ার আগে আমাদের চার জনকে চারটি অপারেশনাল মোবাইল সায়মন ভাগ করে দিত। এগুলো দিয়ে আমরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতাম।’

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা জিয়াসহ ছয় জনের নাম বলেছে সোহেল। এর মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন নামে একজনকে তিন দিন আগে গ্রেফতার করেছে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলছেন, মোজাম্মেলেরই সাংগঠনিক নাম হলো সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, যে অভিজিৎ হত্যায় ইন্টেল গ্রুপের নেতৃত্বে ছিল।

অভিজিৎ রায়কে অনুসরণ ও হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় সোহেল বলে, ‘আমরা বইমেলায় যাই। আমি শুদ্ধস্বরের স্টলের কাছাকাছি সামনের দিকে বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করি। কিছুক্ষণ পর সায়মন ভাই আমাকে জানায় অভিজিৎ মেলায় এসেছে। অভিপ্রায় স্টলের সামনে আমরা তাকে দেখি। সায়মন ভাই আবার আবির ভাই ও হাসানের সঙ্গে কথা বলে। তারপর আমরা বের হয়ে টিএসসি মোড় এলাকায় অবস্থান নেই। রাত অনুমানিক সাড়ে ৮টার সময় অভিজিৎ রায় বইমেলা থেকে বের হলে শাহবাগ থানার রাজু ভাস্কর্যের উত্তর-পূর্ব রাস্তার ফুটপাতের ওপর আমাদের সংগঠনের অপস শাখার চার জন অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। অভিজিতের স্ত্রী বাধা দিলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় তারা। অপস শাখার মুকুল রানা, ওরফে শরীফ ভাই এই অপারেশনের নেতৃত্ব দেয়। বড় ভাই (মেজর জিয়া), সেলিম ভাইসহ আমরা ঘটনাস্থলে অপস শাখার লোকদের চারপাশে গার্ড হিসেবে ছিলাম। অপারেশন শেষে আমরা যার যার মতো চলে যাই। বাসায় গিয়ে টেলিভিশনে নিউজ দেখে কনফার্ম হই অভিজিৎ রায় মারা গেছে।’

নাস্তিক হিসেবে অভিজিৎকে হত্যার পরিকল্পনার প্রসঙ্গে সোহেল জবানবন্দিতে বলে, ‘সায়মন ওরফে শাহরিয়ার ভাই প্রটেক্টেড টেক্সট আইডিতে এলিফ্যান্ট রোডের অফিসে যাওয়ার জন্য মেসেজ দেয়। ওখানে গেলে সায়মন জানায়, একজন বড় নাস্তিক ব্লগার দেশে এসেছে, তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ফলো করতে হবে। ব্লগারের নাম অভিজিৎ রায় জানিয়ে তার ছবি দেখায় ও ফেসবুক লিংকও দেয়। ওইদিন আমি, আবীর ভাই ও হাসান ভাই বইমেলায় যাই। সায়মন ভাই আলাদাভাবে যায়। আমরা মেলার বিভিন্ন স্টলে যাই, অভিজিৎ রায়ের প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনার স্টলে যাই। সেখানে আমরা অপেক্ষা করি কিন্তু সেদিন অভিজিৎ রায় আসে নাই।’

পরে টানা কয়েকদিন অভিজিৎকে অনুসরণ করে সোহেল ও অন্যরা। ২২ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে অভিজিৎকে অনুসরণ করে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর পর্যন্তও একটি রেস্টুরেন্টে যায় জঙ্গিরা। এসময় তারা ওই রেস্টুরেন্টের আশপাশেই অবস্থান করে। রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর অভিজিৎ দ্রুত গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেলে তাকে ওই দিন আর অনুসরণ করতে পারে না তারা।

আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রসঙ্গে আবু সিদ্দিক সোহেল বলে, ‘আমি ২০১৪ সালে এই সংগঠনে যোগ দেই রেজাউল করিম নামে একজনের মাধ্যমে। আমার সাংগঠনিক নাম সাজিদ ওরফে শাইয়াব। হাসান ভাই নামে একজন আনসার আল ইসলামের দাওয়ায় মাসুল অর্থাৎ দাওয়া বিভাগের দায়িত্বশীল ছিলেন। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে রেজাউল ভাই আমাকে ফোন করে জানায়, শ্যামলীর একটি বাসায় আমার ইন্টারভিউ আছে। পরদিন আমি শ্যামলী পৌঁছালে ফুট ওভারব্রিজ থেকে হাসান ভাই আমাকে ওই বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তিন জন ছিলেন। বড় ভাই  (মেজর জিয়া) আমার ইন্টারভিউ নেয়।’

সংগঠনের সদস্য হওয়ার পর প্রযুক্তির মাধ্যমে সব ধরনের যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ হতো। সোহেলের ভাষ্য, ‘আমি সংগঠনে কাজ করতে রাজি হলে বড় ভাই (মেজর জিয়া) একটি প্রটেক্টেড টেক্সট আইডি খুলে দেন এবং বলেন, এই আইডিতে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ হবে। তিনি প্রতি সপ্তাহে আইডি চেক করার জন্য বলেন। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে তিনি মেসেজের মাধ্যমে আমাকে বেসিক দাওরা কোর্স করার নির্দেশ দেন। নভেম্বর মাসে নির্দেশমতো একদিন আমি হাজী ক্যাম্পের সামনে গেলে আবীর ভাই আমাকে রিসিভ করে দক্ষিণখানের একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমি, সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, তালহা, হাবিব, ওরফে মাসরুর দাওরা ট্রেনিং করি।’

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71