রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
অভিজিৎ রায়সহ ব্লগার হত্যার রহস্য উন্মোচন শিগগির: মাসরুকুর রহমান খালেদ
প্রকাশ: ১০:৪০ am ২৩-০৮-২০১৬ হালনাগাদ: ১০:৩০ pm ২৩-০৮-২০১৬
 
 
 


ঢাকা:: ব্লগার ও লেখক হত্যা মামলার তদন্তে বড় সফলতার দাবি করছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, শনাক্তের পর গোয়েন্দা জালে আনা সম্ভব হয়েছে প্রায় এক ডজন জঙ্গিকে। তারা মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিজিৎ রায়, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নাজিম উদ্দিন সামাদসহ কয়েকজনের হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ ডিবির উপ-কমিশনার মাসরুকুর রহমান খালেদ  বলেন, ‘শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে হামলার আসামি সুমন পাটোয়ারি ওরফে শিহাব ওরফে সাবিক ওরফে সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি থেকে বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে এবং তাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন অভিজিৎ হত্যায় জড়িত। তাদের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তথ্য চেয়ে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সে অনুযায়ী তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই সফলতা পাব।’

ডিবি পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা  জানান, গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশের গ্রন্থমেলা চলাকালে শাহবাগের জনাকীর্ণ স্থানে খুন হন মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ড. অভিজিৎ রায়। এরই মধ্যে এ মামলার অন্যতম আসামি শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরীফ ওরফে সালেহ ওরফে হাদি (৩৫) ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। আরেক সন্দেহভাজন জঙ্গি সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী-২-এর বিষয়ে তথ্য দিতে দ্বিতীয় দফায় ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে ডিএমপির পক্ষ থেকে। সেলিমকে ড. অভিজিৎ রায় ও জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেলিম আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) শীর্ষস্থানীয় নেতা। সেলিম এবং তার কয়েক সহযোগীকে গোয়েন্দা জালে আনা সম্ভব হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেফতার করা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নাজিম উদ্দিন সামাদকে ৬ এপ্রিল পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলার কয়েকজন আসামিকেও ইতিমধ্যে গোয়েন্দা জালে আনা সম্ভব হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এ ছাড়া ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও ফয়সাল আরেফীন দীপন হত্যা মামলার একাধিক আসামিকে গোয়েন্দা জালে আনা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্লগার ও লেখক হত্যায় এবিটির সদস্যরা জড়িত। ঘুরেফিরে একাধিক গ্রুপই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডে ৫ থেকে ৭ জন গ্রুপভিত্তিক অংশ নিয়েছে। তাদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, ড. অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় বছর পর রোববার সন্দেহভাজন খুনিদের সাতটি ভিডিও প্রকাশ করে ডিএমপি। এসব ভিডিওতে অভিজিতের অনুসরণকারী সন্দেহভাজন খুনিদের শনাক্ত করে তাদের ধরিয়ে দেয়ার বা তাদের বিষয়ে তথ্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি। ফুটেজে থাকা শরীফ ওরফে হাদী-১ ইতিমধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অপর ৫ জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ফুটেজে দেখা যায়, ড. অভিজিৎ ও তার স্ত্রী বন্যা বইমেলায় অবস্থানকালে তাকে অনুসরণ করে কয়েক তরুণ। একটি ফুটেজে অভিজিৎ ও বন্যার পেছনে এক তরুণ মোবাইল হাতে টিপতে টিপতে তাদের অনুসরণ করে। সময় ছিল রাত ৮টা ৪৪ মিনিট। পাশে ব্যাগ কাঁধে এক তরুণকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এ ছাড়া তার পাশে চশমা পরিহিত এক তরুণও ছিল। দ্বিতীয় ভিডিওটিতে অভিজিৎ ও বন্যা বইমেলার গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় তাদের পেছনে তিনজনকেই দেখা যায়। তারা মোবাইলে কারও সঙ্গে বারবার কথা বলছিল। তারা অভিজিতের খুব কাছেই ছিল। অপর ফুটেজে দেখা যায়, সন্দেহভাজন এক তরুণ বইমেলার মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। সময় তখন বিকাল ৪টা ১ মিনিট। তার হাতেও মোবাইল। গায়ে শর্ট পাঞ্জাবি। মুখে হালকা দাড়ি। এই তরুণ মেলার ফটকের পাশে চেয়ারে বসে ছিল।

আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, সন্দেহভাজন দুই তরুণ মেলার ভেতরে যাচ্ছে। প্রায় একই সময়ে অপর এক তরুণ বাইসাইকেল নিয়ে মেলায় প্রবেশ করছে। তখন সময় বিকাল ৪টা ২৪ মিনিট। সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে সাদা শার্ট গায়ে আরেক তরুণকে মেলা থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ডিএমপির উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েই খুনি চক্রের অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতার করা গেলে আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ব্লগার হত্যা মামলার তদন্তে কিছু সফলতা এসেছে। শিগগিরই অভিজিৎ রায়সহ কয়েকটি মামলার রহস্য জানা যাবে।

সূত্র: যুগান্তর

 

এইবেলাডটকম/প্রচ/এমআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71