মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ৮৩তম জন্ম বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০৮:২১ am ১৯-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:২১ am ১৯-০১-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

অভিনেতা, কবি, নাট্যকার, সম্পাদক, চিত্রকর এবং আবৃত্তিকার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (জন্মঃ- ১৯ জানুয়ারি, ১৯৩৫ )

একটি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ -“ বাইরে থেকে হয়ত লোকেরা চির সবুজভাবে কিন্তু আসলে তো কেউ চির সবুজ থাকে না। বিশেষ করে চিরসবুজ থাকার জন্য মানুষের মাঝে যে ইচ্ছে জন্মায় সেটা হয়ত একটি হতে পারে যে, আমি একখনও কর্মক্ষম আছি কিংবা কাজে ব্যস্ত আছি। এখনও নাটক করছি, নাটক লিখছি। এখনও প্রতিবছর বেশ কয়েকটা ছবিতে অভিনয় করি, কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানে নিয়মিত ডাকা হয় এবং আমি তাতে অংশগ্রহণ করি। হয়ত সে জন্যই লোকে ভাবছে যে, সমানতালে ঘোড়া ছুটছে। আর অসুখ বিসুখ কিছুটা তো আছেই, সেগুলো নিয়েই তো জীবনটা চলছে। ২০০৭ এ আমি একটু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আমাকে অনেকটাই ধরাবাধা নিয়মের মধ্যে চলতে হয়।

চলচ্চিত্র একটা ইন্ডাষ্ট্রি, সেখানে উত্থান পতন আছে। তবে বাংলা ছবির যে স্বর্ণ যুগ সেটা আমরা পেরিয়ে এসেছি। সেই রকম পরিচালক এখন কেউ নেই। সত্যজিৎ, ঋত্বিক, মৃণাল, তপন সিনহা, অজয়কর, এদের মাপের এখন কেউ নেই এখানে। কিন্তু কমবেশী চেষ্টা হয়ত করা হচ্ছে। মাঝখানে বাংলা চলচ্চিত্রের যে করুণ দশা হয়েছিল, যেমন সুদুর মুম্বাই কিংবা দক্ষিণ ভারতের ছবিকে যেভাবে ফ্রেম টু ফ্রেম অনুকরণ করা হচ্ছি্‌ল, সেটা থেকে একটু সরে এসেছে এবং আবার নিজের মত করে কাহিনী তৈরী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সাহিত্যের কাছে এখনও বাংলা ছবি ফেরেনি। বাংলা ছবির মূল বিষয়টিই ছিল সাহিত্যে। সাহিত্য নির্ভর ছবি বলেই হয়ত মানুষের এত ভাল লাগতো। ভাল লাগা ছাড়াও যারা ছবি করতেন তাদেরও কিছু বলার থাকতো ছবির মাধ্যমে। এখন অন্তত একটা চেষ্টা শুরু হয়েছে।

এক সময় আমি মুখস্ত করে আবৃত্তি করেছি। তবে এখন সামনে বই রাখি, তবে বইটা একটা সাপোর্ট হিসেবে রাখি। অধিকাংশ সময় হচ্ছে যে, আমি খুব ছোট বেলা থেকেই কবিতা ভালোবাসি, আর তা পড়তে পড়তে একসময় মুখস্ত হয়ে যায়। আমার কবিতার বইও অনেকগুলো আছে, তা সেটা বার-তেরো তো হবেই। এখনও কবিতা লিখি, আবৃত্তি করি, অভিনয় করি, আর যা যা সারা জীবন করে এসেছি এখনও তাই করছি। সত্যজিৎ রায়ের যে দান তা আমার নিজের অন্তরে ধারণ করে রেখেছি।

বাংলায় মুদ্রিত বড় বড় কাগজগুলো তাদের সাধারণ নিউজ কভারেজেই একদম দুর্বল। সেগুলোর কিছু কিছু হলুদ সাংবাদিকতাও বলা চলে। কোন চলচ্চিত্র তারকা কি করছেন তা নিয়েই ব্যস্ত। আপনি ভাবুন, এমনও দিন আমি দেখেছি যে কোন একজন চিত্র তারকার মৃত্যুতে প্রায় সমস্ত কাগজটা জুড়েই তার কথা। আর পৃথিবীর কোথায় কি হচ্ছে অথবা সেদিনই হয়ত কোথাও আত্মঘাতী বোমায় আশি জন মারা গেছেন সে সব খবর কোথাও কিছু নেই। সে দিক দিয়ে পশ্চিম বঙ্গের বাংলা কাগজগুলোকে বলবো খুবই দরিদ্র। এটা আসলে আমাদের ভাববার বিষয়।”

তার জন্ম নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। তাঁর পিতা মোহিত কুমার চট্টোপাধ্যায় আর মাতা আশালতা চট্টোপাধ্যায়। পিতার সঙ্গে পুত্রের ছেলেবেলা কেটেছে পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্নস্থানে। স্মৃতির মধ্যে স্বাধীনতা। ছেলে বেলা থেকেই তাঁর অভিনয়ে আগ্রহ এবং এর পাশাপাশি বই পড়ার প্রতি টান। তাঁর কলেজ জীবনে শিশির কুমার ভাদুড়ির সান্নিধ্য লাভ জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথম সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় অপুর সংসার ছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তী কালে তিনি মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত প্রখ্যাত পরিচালকদের সাথেও কাজ করেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর ভিতর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দর্শক সমাদ্রিত হল ফেলুদা। 
তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয়বাবা ফেলুনাথ ছবিতে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছেন। সিনেমা ছাড়াও তিনি বহু নাটক, যাত্রা এবং টেলিভিশনে ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। আর মঞ্চনাটকেও তাঁর ছিল পদচারণা। অভিনয় ছাড়াও নাটক ও কবিতা লিখেছেন অনেক। তিনি একজন উঁচু দরের আবৃত্তিকার। কিংবদন্তি অভিনেতা, এই পরিচয়টির পাশেই স্বতন্ত্র আলো নিয়ে দাড়িঁয়ে তাঁর কবি পরিচয়। 
একজন বাঙ্গালি হিসেবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই বিলিয়ে দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য। তিনি তাঁর রক্ত মাংসে চলচিত্রকে ধারণ করেছেন একজন সত্যিকারের শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে। তিনি সত্যজিৎ রায়ের ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেন। সত্যজিৎ রায় নির্মিত বিভিন্ন ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে আবির্ভূত হন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্যে সব থেকে জনপ্রিয় হল ফেলুদা। প্রথমে ফেলুদা চরিত্রে তাঁর চেয়েও ভাল কাউকে নেয়ার ইচ্ছে থাকলেও তাঁর অভিনীত ফেলুদার প্রথম ছবি সোনার কেল্লা রিলিজ হওয়ার পর সত্যজিৎ রায় অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁর চেয়ে (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) ভাল আর কেউ ছবিটি করতে পারতেন না।

শুধু অভিনয় নয়, এমনকি আবৃত্তি কিংবা লেখালেখিও নয়, গত পাঁচ দশক ধরে নিরন্তর ছবিও এঁকে চলেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সে সব পেন্টিং, স্কেস এর প্রদর্শনী হয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনেসে। কি সাংঘাতিক কথা! একজন অভিনেতার কি অপরূপ বহু মাত্রিক তুলনাহীন পদচারণা সর্বক্ষেত্রে! 
পদ্মভূষণ, সঙ্গীত নাটক একাডেমি, দাদা সাহেব ফালকেসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত এই কিংবদান্তি অভিনেতার অতি সাম্প্রতিক কালে “রাজা লিয়ার” এর নাম ভূমিকায় তাঁর অনবদ্য অভিনয় সকল মহলে সমাদৃত। পাশাপাশি যৌবনে নির্মাল্য আচার্যের সঙ্গে “এক্ষণ” সাহিত্যপত্র সম্পাদনা এবং এখনও কাজের ফাঁকে কবিতা রচনা করেন নিয়মিত।

মা
মাকে আমি দেখিনা বহুকাল,
মা আমার যান না নিজ গ্রামে অনেক দিন;
পূর্বে তিতাস, পশ্চিমে বালিয়াধরের বিল
কচুরীপানার বেগুনী ফুল আর কালো জলের সুবাতাস,
সারি সারি ধঞ্চের দল, বাতাসে দুলছে তাদের কেশ
দৃশ্য সে এক নয়নাভিরাম।
মাকে আমি খুঁজে বেড়াই-
কখনও তিতাস, বালিয়াধরের তীরে কখনো বা-
কখনও ফিরে তাকাই বুকভরা অভিমানে
হৃদয় সরোবরে শুকিয়ে গেছে জল
মা আমার আসবে না আর ফিরে কোনদিন-
এই তিতাসের দেশে, মাতৃভূমির কোলে
বুক ভরা যন্ত্রণা আমার বেদনার পাহাড়-
আহত এই হৃদয় মাকে আমি দেখিনা কতকাল।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71