মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
মঙ্গলবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৮
সর্বশেষ
 
 
অভয়নগরে ঘরে ডুকে এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করা হলো দেবাশীষ সরকারকে
প্রকাশ: ০৩:৩৩ pm ৩০-০৪-২০২১ হালনাগাদ: ০৩:৩৩ pm ৩০-০৪-২০২১
 
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
 
 
 
 


আলমারীর চাবি না দেয়ায় যশোরের অভয়নগরে দেবাশীষ কুমার সরকার ওরফে সঞ্জয় (৪৫) নামে এক ব্যাক্তিকে এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃত্বরা। আহত করেছে বৃদ্ধা মা ও মেয়েকে এবং কুপিয়ে জখম করেছে স্ত্রীকে। আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নেমেছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের পালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দেবাশীস কুমার সরকার চলিশিয়া গ্রামের মৃত গৌরচন্দ্র সরকারের একমাত্র ছেলে।

আহতরা হলেন- নিহত দেবাশীষ কুমার সরকার’র মা মিনতী সরকার (৬৫), স্ত্রী নিপা সরকার (৩১) ও একমাত্র মেয়ে দেবিকা সরকার (১৬)।

নিহতের মা মিনতী সরকার জানান, সোমবার ভোররাতে মুখোশধারী ৭/৮ জন দুবৃত্ব রান্না ঘরের জানালার গ্রীল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। তারা আমার ছেলের ঘরে গিয়ে আলমারীর চাবি দিতে বলে। না দিতে চাইলে তারা আমার ছেলেকে মারপিট শুরু করে। এ সময় ছেলের চিৎকারে আমি ওই ঘরে ছুটে আসি। এক পর্যা‌য়ে ডাকাত দলের সদস্যরা আমার ছেলেকে লোহার রড দিয়ে পেটাতে শুরু করে। স্বামীকে বাঁচাতে ছেলের স্ত্রী নিপা এগিয়ে আসলে ডাকতরা ছোরা দিয়ে তার গলা ও পিঠে কুপিয়ে জখম করে। এ দৃশ্য দেখে আমি ও আমার নাতি দেবিকা চিৎকার করলে তারা আমাদের দুজনকেও পিটিয়ে আহত করে। পরে ডাকাত দল আলমারী ভেঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং আমার কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা, গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, হাতের চুড়ি ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা আমাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. চন্দন সরকার জানান, হাসপাতালে আসার পূর্বে দেবাশীষ কুমার সরকার ওরফে সঞ্জয় নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। আহত দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত নিপা সরকারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত যশোর পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক রেজোয়ান জানান, ‘নিহতের ঘরে থাকা আলমারী ভাঙ্গা অবস্থায় পাওয়া গেছে। রান্না ঘরের জানালার গ্রীল কাটা ছিল। ঘরের মধ্যে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কি পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে গেছে তা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব নয়। হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘ডাকাতি না চুরি তা এখন বলা সম্ভব নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধিদের কাউকে চিনে ফেলায় ব্যবসায়ী সঞ্জয়কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদেরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।’

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2021 Eibela.Com
Developed by: coder71