সোমবার, ২০ মে ২০১৯
সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
অভয়নগরে রাস্তার কাজে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার : এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ
প্রকাশ: ১২:২১ pm ০৬-০২-২০১৯ হালনাগাদ: ১২:২১ pm ০৬-০২-২০১৯
 
অভয়নগর প্রতিনিধি
 
 
 
 


অভয়নগরে রাস্তার কাজে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার করায় এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ। উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের বারান্দি ফকির বাড়ি মোড় থেকে বারান্দি বিলের মধ্যে দিয়ে আজিজ গাজীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার মাটির কাঁচা রাস্তাটি পিঁচ দ্বারা পাকাকরনের কাজে চলছে। রাস্তার কাজে নিন্মমানের ইট, ইটেরখোয়া ও বালু সহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসি সূত্রে যানা যায়, পায়রা-সমশপুর-বারান্দি গ্রামের মানুষের ডুমুরিয়া-জামিরা-কাঠেংগা যাওয়ার প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় বৃষ্টির সময় প্রচুর কাঁদা হয়, ফলে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ ওঠে চরমে। বিভিন্ন ধরনের মাঠের ফসল এই রাস্তা দিয়ে নেওয়ার সময় কৃষকদের পড়তে হয় বিপাকে। রাস্তাটি পাঁকাকরনের জন্যে বর্তমান সরকার একটি লোকাল গর্ভানমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এলজিইডি)’র সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাঙ্কস্টাকচার ডিভোলপমেন্ট প্রোগ্রাম (বিএআইডিপি) (ইমপ্রুভমেন্ট অফ ফকির বাড়ি মোড়-বারান্দি বিলের রাস্তা) আমেরিকার জনগনের পক্ষ থেকে ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে আইডি-বাজেটে ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪৭৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।। এই কাজটি সম্পন্ন করার দায়িক্ত পায় বরিশালের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মতিউর রহমান নান্নু এন্টারপ্রাইজ। 

রাস্তার উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে এবং কাজ শেষ করার নির্দেশ ছিলো ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে সময় বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। কাজ শুরু করার পর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড় বইতে শুরু করেছে রাস্তা সংলগ্ন গ্রামের অধিকাংশ চায়ের দোকান ও হাট-বাজার গুলোতে। রাস্তা উন্নয়নের জন্যে স্ট্রিমেট অনুযায়ী রাস্তার বেড তৈরীতে ১নম্বর ইট ও বিট বালু দেওয়ার জায়গায় সেখানে রাস্তা সংলগ্ন গ্রামের কৃষকদের নাম মাত্র টাকা দিয়ে পুকুর থেকে বালি-মাটি, পলি ও জোবার কাঁদা দিয়ে করা হয়েছে রাস্তার বেড তৈরীর কাজ। যা যেকোনো সময় একটি ছোট্র মিনি ট্রাক-পিকআপ গেলে বসে যেতে পারে বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। মনিরামপুর দিপ্র ব্রিকস থেকে ১নাম্বার ইটের জায়গায় ৩ নাম্বার ইট ও পিকেট ইট ভাজ দিয়ে সবার সামনে বুক ফুলিয়ে কাজ করে চলেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী মতিউর রহমান নান্নু। 

নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক একজন বলেন, তিনি (ঠিকাদার-মতিউর রহমান নান্নু) এলাকার কিছু রাজনৈতিক সাঙ্গ-পাঙ্গদেরকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে সহকারী বালির ঠিকাদারের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের পুকুর, মাচ চাষের ঘের, ধানের জমি থেকে বালি-মাটি, পুকুর থেকে পলি-বালি ও জোবা-কাঁদা রাস্তায় দিয়ে কাজ করে এখন চলছে কার্পেটিং দিয়ে রাস্তাটি লেপে দিতে পারলে সটকে পড়বেন তিনি। খুলনা থেকে এক ধরনের ইঞ্জিন চালিত মোটরের দ্বারা গ্রামের পুকুর ও মাছের ঘেরের বালু-মাটি পানির সাথে উঠিয়ে সংগ্রহ করে রাস্তার বেড তৈরীর উন্নয়নমূলক কাজেও করেছেন ঠিকাদার মতিউর রহমান নান্নু।

মনিরামপুর দিপ্র ব্রিকস এর ম্যানেজার আখতার বলেন, আমাদের কাছে সব ধরনের ইট আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে ধরনের ইট চেয়েছে আমরা তাই বিক্রয় করেছি। এ প্রতিবেদককে সহকারী ঠিকাদার সান্টু বলেন, আমাদের কাজ শতভাগ সঠিক আছে বলে দাবী করেন। যদি সমস্যা থাকে, প্রমাণ দেন। নতুন করে কাজ করবো। সব সময় উপজেলা থেকে অফিসাররা তদারকি করেন।

জানতে চাইলে ঠিকাদার মতিউর রহমান নান্নু জানান, রাস্তার কাজ করতে গেলে একটু সমস্যা হতে পারে। তবে কাজের মান কোনো ভাবে খারাপ হচ্ছে না। তাই বলে পত্রিকায় লেখার দরকার নেই। আমি কাজের পাশে আছি। আসেন চা খাই, সব কথা মোবাইলে বলবো না।

মুঠোফোনে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম বলেন, ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে কাজটি হচ্ছে যার উর্দ্ধতণ কর্মকর্তারা এসে রাস্তার কাজ পরিদর্শন করে গেছেন। আমার জানা মতে কাজে কোনো ত্রুটি নেই।

এক্রিকিটিভ ইঞ্জিনিয়ার (এলজিইডি) যশোর থেকে মুঠোফোনে মনজুরুল আলম বলেন, আমার কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম তদন্ত করে সত্যতা পাইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তার কাজ সঠিকভাবে হবে। সূএ: ডি বাংলা

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71