রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৮ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
অমোচনীয় এই কলঙ্ক
প্রকাশ: ০৯:৩২ am ১১-০৮-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৩২ am ১১-০৮-২০১৭
 
 
 


ইতিহাসে এক অদ্ভুত চক্র দেখা যায়, একটি রাষ্ট্রের যিনি গোড়াপত্তন করলেন, নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি করলেন, সেই রাষ্ট্রেরই কেউ না কেউ সেই মহানায়ককে নৃশংসভাবে হত্যা করলো। আগস্ট মাসের শুরু থেকেই দৈনিক কাগজগুলোতে শোকের মাস বলে একটি আলাদা কলাম বের হচ্ছে। ইতিহাসের যে চক্রের কথা বলছিলাম। ভারতবর্ষ স্বাধীন হলো, ভারতের হিসাবে ১৫ আগস্ট, পাকিস্তানের হিসাবে ১৪ আগস্ট। ভারতে যাকে বাপুজি সম্বোধন করা হতো সেই মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতার এক বছর পরই উগ্র জাতীয়তাবাদী মানুষের হাতে নৃশংসভাবে নিহত হলেন। এই ঘটনা সারা ভারতবাসীর জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব ছিল; কিন্তু ঠিকই ঘটে গেলো। আর যে দিনটাতে ভারতবর্ষ বিভক্ত হলো, ভাগ হলো, সেই ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের মহানায়ক, যার হাতে একটি নতুন রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন ঘটলো, তাকে পঁচাত্তর সালের পনের আগস্ট সপরিবারে নৃশংসভাবে নিহত হতে হলো। তাও আবার বাংলাদেশের জন্মের মাত্র বছর চারেক পর। এটাও কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। বাঙালির পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব যে বাংলাদেশের মহানায়ককেও নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো।

বাঙালি জাতির গৌরব করবার মতো অনেক কিছুই আছে; কিন্তু এরকম কলঙ্কের ঘটনা, এই রাষ্ট্রের জন্মের বছর চারেকের মধ্যেই ঘটে গেছে। বারবার বলছি, কিছুতেই এটা মেনে নেওয়া যায় না; কিন্তু ঘটে তো গেছে!

ছয় দফা আন্দোলন শুরুর সময় থেকে একজন মানুষ হিমালয়তুল্য উচ্চতায় উঠে গেলেন। তিনি জাতির মহানায়ক জন্ম থেকেই হননি। হয়ে উঠেছেন তার একমাত্র কারণ নিজের জীবনটাকে তিনি বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গেই পুরোপুরি মিশিয়ে ফেলেছিলেন, আলাদা সত্তা আর রাখেননি। মুক্তিযুদ্ধের পর যে রাষ্ট্রটি একটা শিশু রাষ্ট্র হিসাবে জন্ম নিল, সেটা তার জীবত্কালের মধ্যেই একটি মহীরুহ রাষ্ট্রে পরিণত হলো।

স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পরে মাত্র সাড়ে চার বছরের মধ্যেই তিনি এই রাষ্ট্রের শুধু গোড়াপত্তনই নয়, তাকে উত্তুঙ্গ মহিমায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব করে উঠতে পেরেছিলেন; কিন্তু জাতি তার দাম দিল তারই প্রাণ হরণ করে! আমাদের এই বাংলাদেশ চিরকাল স্থায়ী হবেই আর এই কলঙ্ক চিহ্নও চিরকালই তার গায়ে লেগে থাকবে। এই আশির্বাদ ও অভিশাপ আমরা ভোগ করতে বাধ্য। মনে থাকবে অভিশাপের কথাই বেশি। মনে পড়বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের বক্তৃতা।

তিনি বলেছিলেন, ‘আর যদি একটি গুলি চলে, .... তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে তার প্রতিরোধ করবে। আমরা তোমাদের ভাতে মারবো, পানিতে মারবো, তবু বাংলাদেশ স্বাধীন করেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’ এই বক্তৃতার পরে মাত্র আড়াই সপ্তাহ পরে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়ে দিলেন। পাকিস্তানিরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে এক বছর আটকে রাখে বটে; কিন্তু তার অঙ্গ স্পর্শ করতে সাহস পায়নি বা সাহস করেনি। আর আমরা নিজেদেরকে কী বলবো জানি না, তিনি ফিরে আসার চার বছরের মধ্যেই তাকে নিহত হতে দেখলাম। সমগ্র জাতি এই অপরাধ করেনি, যারা করেছে তারা চিহ্নিত হয়েছে এবং কেউ কেউ শাস্তিও পেয়েছে; কিন্তু তারা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে বলে আমি মনে করি না। আমরা সেজন্য ১৫ আগস্টকে শুধু যে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালন করবো তাই নয়, একই সঙ্গে রাষ্ট্রের এই সমস্ত বিশ্বাস ঘাতকদের সমূলে উত্পাটন করার সংকল্পও গ্রহণ করবো।

[লেখক :কথাসাহিত্যিক]

এসএস   

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71