শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
অরূপ রাহা : যশোরের সন্তান, ভারতের বিমানবাহিনী প্রধান
প্রকাশ: ০৫:৫৩ pm ২৪-১১-২০১৫ হালনাগাদ: ০৯:৩৮ pm ২৮-০৯-২০১৬
 
 
 


ঢাকা: সেনাপ্রধান হিসেবে এর আগে দুই বঙ্গসন্তানকে পেয়েছে ভারত। তারা হলে জয়ন্তনাথ চৌধুরী এবং শঙ্কর রায়চৌধুরী। ষাটের দশকে একমাত্র বাঙালি নৌপ্রধান হয়েছিলেন অধরকুমার চট্টোপাধ্যায়। বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে অরূপ রাহার একমাত্র বাঙালি পূর্বসূরি সুব্রত মুখোপাধ্যায়। শুধু প্রথম বাঙালিই নন, স্বাধীনতার পর বিমানবাহিনীর প্রথম ভারতীয় প্রধান সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই। ১৯৫৪ সালে কার্যভার গ্রহণের পর ১৯৬০-এ আকস্মিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন তিনি। ৫৩ বছরের ব্যবধানে আবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর শীর্ষে বাঙালি। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বর্তমান বাঙালি এয়ার মার্শাল অরূপ রাহা।

অরূপ রাহা ১৯৫৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের যশোহর জেলার জাফরপুর গ্রামে যেখানে তাদের পৈত্রিক বাড়ি বিদ্যমান আছে৷ আজও সেই বাড়ি ভাঙ্গাচুরা অবস্থায় পড়ে আছে। পরে বাবারা চলে আসেন বৈদ্যবাটিতে৷ পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি৷ তাই বাংলার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়৷ বাবা ননীগোপাল রাহা ছিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কৃতী ছাত্র। তিনি স্হলসেনার ডাক্তার ছিলেন ৷  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বার্মা ফ্রন্টে গিয়ে যুদ্ধে আহত সেনানীদের চিকিৎসা করতে হয়েছিল তাঁকে। বাবার সেই দিনগুলো ছিল অরূপ রাহার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। পুরুলিয়ার সৈনিক স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরে চোখের সামনে যখন সিনিয়রদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে দেখতেন, তখনই সেই অনুপ্রেরণার সঙ্গে মিশে যায় সংকল্প।

তাঁর নিজের ভাষায় "পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে পড়াশোনা করেছি৷ তাই বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়৷ আমাদের পৈতৃক বাড়ি অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তানের যশোর জেলায়৷ পরে বাবারা চলে আসেন বৈদ্যবাটিতে৷ বাবা ছিলেন স্হলসেনার ডাক্তার ৷ দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে ছিলেন৷ আমি ছোটবেলা থেকেই পুরুলিয়ায়৷"

অরূপ রাহা যখন সৈনিক স্কুলের ছাত্র, সেই সময়েই কলকাতা ছেড়ে বৈদ্যবাটিতে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তাঁর বাবা। সৈনিক স্কুল থেকে বেরিয়ে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি ঘুরে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে অরূপ রাহাকে বেশি বেগ পেতে হয়নি। তিনি কৃতী ছাত্র, বিমানবাহিনীর কোনও পরীক্ষাতেই দ্বিতীয় হননি।

অরূপ রাহার ৩৪০০ ঘণ্টা যুদ্ধবিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। এক সময়ে দাপটে উড়িয়েছেন তিনি মিগ-২১, মিগ-২৭ সহ সবরকম যুদ্ধবিমান। মিগ বা সুখোই নিয়ে সীমান্তের আকাশে শত্রূর উপর নজর রাখতেন শ্যেন দৃষ্টিতে৷ পশ্চিম সীমান্তের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন৷  ৩৯ বছর ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।  ১৯৭৪ সাল থেকে তিনি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান স্কোয়াডে রয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি দেশের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তামিলনাড়ু–র বিমানবাহিনীর ফ্লাইং স্কুলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাকে ভারত সরকার পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, অতিবিশিষ্ট সেবা পদক, বায়ু সেনা পদক ও এডিস পদক দিয়েছে।

অরূপ এখন ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান। একসময় এয়ার ভাইস মার্শাল এই বাঙালি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রতিরক্ষা পরামর্শদাতা (সাম্মানিক এডিসি) ছিলেন৷ তিনি ইউক্রেনে এয়ার অ্যাটাশে (বিমানবাহিনীর দূত) হিসেবেও কাজ করেছেন। দীর্ঘ ৩৯ বছরের কর্মজীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন৷ তারমধ্যে পরমাণু স্ট্র্যাটেজি বিষয় অন্যতম৷

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে৷ বর্তমান বায়ুসেনা অধ্যক্ষ এয়ার চিফ মার্শাল এন এ কে ব্রাউনে অবসর নেবেন  ৩১ ডিসেম্বর ,২০১৪৷ ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ত্বভার গ্রহণ করেন ।

বর্তমানে তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ত্ব পালন করে যাচ্ছেন ।



এইবেলা/এইচ আর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71