শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন বিধিমালা হচ্ছে
প্রকাশ: ০৮:৪৭ am ২৯-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:১৩ am ২৯-০৫-২০১৭
 
 
 


জাতীয়::  সরকার-নিয়ন্ত্রিত 'ক' তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত প্রদান করতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা তৈরি করেছে। এটি চূড়ান্ত করতে শিগগির মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে বলে ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

 

সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় খসড়াটি অনুমোদন হলে তিন পার্বত্য জেলা বাদে সারাদেশের 'ক' তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, 'ক' ও 'খ' তালিকাভুক্ত সর্বমোট অর্পিত সম্পত্তির পরিমাণ ১১ লাখ ৫২ হাজার ৩২৩ একর। এর মধ্যে 'ক' তালিকায় দুই লাখ ২০ হাজার ১৯১ একর ও 'খ' তালিকায় জমির পরিমাণ নয় লাখ ৩২ হাজার ১৩২ একর।

 

সূত্র জানায়, 'ক' তালিকাভুক্ত জমি সংশ্লিষ্ট লিজ (একসনা বন্দোবস্ত) গ্রহীতাদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দিতে ওই বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এদিকে, সরকার 'খ' তালিকাভুক্ত সমুদয় জমি প্রচলিত আইনে সমস্যা সমাধানের ঘোষণা দেয় ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর। ঘোষণায় বলা হয়, এখন থেকে ওই জমি অর্পিত সম্পত্তি নয়। একই সঙ্গে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হয়। মোট অর্পিত সম্পত্তির ৮০ শতাংশই 'খ' তালিকাভুক্ত। বাকি ২০ শতাংশ 'ক' তালিকাভুক্ত।

 

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ  বলেন, অর্পিত সম্পত্তির সমস্যা সমাধানে সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা কীভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় এবং প্রকৃত উত্তরাধিকাররা যাতে জমি ফেরত পায়- তা গুরুত্বসহকারে ভাবা হচ্ছে।

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখার অতিরিক্ত সচিব এ কে ফজলুল হক  বলেন, "সংশ্লিষ্ট লিজগ্রহীতাদের মধ্যে 'ক' তালিকার জমি স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার লক্ষ্যে বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট লিজগ্রহীতারা বাজারমূল্য পরিশোধ করে স্থায়ীভাবে জমির বন্দোবস্ত গ্রহণ করবেন।"

 

খসড়া বিধিমালায় বলা হয়, স্থায়ী বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট লিজগ্রহীতাদের প্রচলিত বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির মূল্য পরিশোধ করতে হবে। স্থায়ী বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হবে না। বন্দোবস্তের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পর ওই জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাবে। মৌজাভিত্তিক মূল্য অনুযায়ী জমির বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে। জমিতে দালান, ঘরবাড়ি বা কোনো অবকাঠামো থাকলে গণপূর্ত বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে সেগুলোর দাম নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া গাছপালা থাকলে সেগুলোর দাম নির্ধারণ করতে হবে বন বিভাগের কর্মকর্তা দ্বারা।

 

খসরায় আরও বলা হয়, বিধিমালাটি কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে অর্পিত সম্পত্তির ইজারা প্রদান-সংক্রান্ত আগের সব নীতিমালা, সার্কুলার, স্মারক, আদেশের যে অংশ এই বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে, সেই অংশটুকু বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে জমির বন্দোবস্ত পাওয়ার তারিখ থেকে প্রচলিত নিয়মে ভূমি উন্নয়ন করসহ অন্যান্য কর দেওয়া হবে। স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজসহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন পেশ করতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

 

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, 'ক' তালিকাভুক্ত মোট জমি দুই লাখ ২০ হাজার ১৯১ একর। এর মধ্যে এক লাখ নয় হাজার ৬৮১ একর জমির বিপরীতে এক লাখ ১৯ হাজার ৩০০ মামলা করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। ২০১২ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সময় থেকে গত ছয় বছরে ১৫ হাজার ৭২৬ একর জমির বিপরীতে ১৫ হাজার ২২৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সরকার কর্তৃক লিজ দেওয়া জমিই মূলত 'ক' তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি, যা সর্বমোট অর্পিত সম্পত্তির ২০ শতাংশ।

 

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন প্রণয়ন করা হয় ২০০১ সালে। এর পর সরকার পরিবর্তনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের পর 'ক' তালিকাভুক্ত জমির মালিকানা দাবি করে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানোর শেষ তারিখ ছিল ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

 

জানা গেছে, বর্তমান সময়ে 'ক' তালিকার জমির আইনগত সমস্যা সমাধানের দাবিতে আবেদন করার সুযোগ নেই। এ পর্যায়ে জমি উত্তরাধিকার বা সহ-অংশীদারদের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়া বিধিমালাটি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিসভায় পেশ করা হলে মন্ত্রিসভা সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

 

অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী  বলেন, নিজের জমি ফেরত পাওয়ার আশায় অনেকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে মারাও গেছেন। অর্পিত সম্পত্তির ৯০ শতাংশই বেদখল হয়ে গেছে, যা স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে। মাত্র ১০ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারের দখলে থাকলেও অদ্যাবধি তারা মালিকানা বুঝে পাননি।

 

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত  বলেন, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে অর্পিত সম্পত্তির দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান সম্ভব। এ নিয়ে সরকারের একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত  বলেন, অর্পিত সম্পত্তির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা থাকলেও আমলাদের গণবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার কারণে গত ১৫ বছরেও এ সমস্যার সমাধান হয়নি। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেলের সমন্বয়কারী ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা  বলেন, মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য আদালত সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। আপিল ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায় অনুযায়ী প্রকৃত উত্তরাধিকারকে তাদের জমি বুঝিয়ে দিতে হবে।

 

জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলস জারি করে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু জনগোষ্ঠীর জমিকে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে ওই সম্পত্তির রক্ষাকারী হিসেবেও দায়িত্ব নিয়েছিল। পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ওই জমিকে অর্পিত সম্পত্তি উল্লেখ করে ১৯৭৪ সালে নয়া আদেশ জারি করেছিল।

 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71