সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯
সোমবার, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
অশ্বস্তি গরমে মুহুর্তেই প্রশান্তি তরমুজ
প্রকাশ: ০৪:২০ pm ২৮-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:২০ pm ২৮-০৫-২০১৭
 
 
 


খুলনা প্রতিনিধিঃ এই অশ্বস্তি গরমে মুহুর্তেই প্রশান্তি আনে মৌসুমী ফল তরমুজ। শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার।

তরমুজের নানান রকম উপকারিতা রয়েছে। তরমুজে আছে অনেক পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছে ৯২ থেকে ৯৫ গ্রাম পানি, আঁশ ০.২ গ্রাম, আমিষ ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, ক্যালোরি ১৫ থেকে ১৬ মিলিগ্রাম। এ ছাড়াও তরমুজে ক্যালসিয়াম রয়েছে ১০ মিলিগ্রাম, আয়রন ৭.৯ মিলিগ্রাম, কার্বহাইড্রেট ৩.৫ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.২ গ্রাম, ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি২। তাই নিদারুণ গরমের মধ্যে তরমুজ খেলে সহজেই মিটে পানির তৃষ্ণা।

খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪০ মেট্রিকটন। বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে তরমুজের আবাদ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় অধিক লাভবান হচ্ছেন তরমুজ চাষীরা। আবাদ এলাকা পরিদর্শন করে চলতি মৌসুমের তরমুজের উৎপাদনকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছের সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ। 

সূত্রমতে, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় লবণ পানির চিংড়ী চাষ হওয়ায় বেশিরভাগ কৃষি জমি লবণাক্ত। ফলে মাত্রারিক্ত লবণাক্ততার কারণে ব্যহত হয় কৃষি ফসল উৎপাদন। লবণাক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন, এলাকায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২শ হেক্টর জমিতে উন্নত ড্রাগণ ও পাকিজা জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে দেলুটি ১৭৫ এবং গড়ইখালী ইউনিয়নে ২৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। 

সৈয়দখালী এলাকার কৃষক শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। উৎপাদিত তরমুজ তিনি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকিতে ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা বিঘা প্রতি আয় করছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে তিনি মনে করছেন।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা দুর্বল তাদের জন্য তরমুজ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। একটি তরমুজে প্রচুর পরিমাণে সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো এসিড থাকে যা শরীরকে প্রতিমুহুর্তে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ। তরমুজে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে যায়। এ ছাড়াও নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

চোখ ভালো রাখে। তরমুজে আছে ক্যারোটিনয়েড যা ক্যারটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ওজন কমাতে সহায়তা করে। লিকোপেন সমৃদ্ধ খাবারের আরেকটি গুণ হল হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো করে। এটি হাড়ের অক্সিডেটিভ উপাদান দূর করে, যা হাড়ের ব্যথার জন্য দায়ী। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। তাই, প্রাকৃতিকভাবেই আপনার হাড়ের সমস্যা দূর করবে তরমুজ। যৌনশক্তি বাড়ায়। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে এ ফলটি। কিডনির জন্য বেশ উপকারি ফল তরমুজ। কিডনি ও মুত্রথলিকে বর্জ্যমুক্ত করে ফলটি। কিডনিতে পাথর হলে, চিকিৎসকরা ডাবের পানি, তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসার সোসাইটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, খাবার শক্তিতে পরিণত করে ভিটামিন-বি। নিয়াসিনের মতো ভিটামিন-বি স্নায়ুতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ করে। তরমুজের বীজে রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাগনেসিয়াম ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এককাপ শুকনো তরমুজের দানায় ৫১ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। এর ১১ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট। বাকিটা পলিস্যাচুরেটেড, মনোস্যাচুরেটেড এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, মনো ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ফ্যাটি অ্যাসিডে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। এতে আছে পর্যাপ্ত আয়রন, যা চুলের শক্তি বাড়ায়। চুল পড়া কমায়। চুল পাতলা ও শুকনো হয় না। একটি পাত্রে একমুঠো তরমুজের বীজে ডায়াবেটিস দূর হয়। তরমুজের শুকনো বীজ চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল, বীজ রোপন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। এ জন্য অন্যান্য ফলের তুললনায় তরমুজের উৎপাদন খরচ অনেক কম।

 

এইবেলাডটকম/মহানন্দ/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71