সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯
সোমবার, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬
 
 
অসুস্থ বনশ্রী সেনগুপ্ত, ভর্তি এসএসকেএমে
প্রকাশ: ০১:১৯ pm ০৭-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:৪৯ pm ০৭-১১-২০১৬
 
 
 


পিজি হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডের দোতলায় উঠতেই ভেসে এল সুর৷ চেয়ারে বসে এক মহিলা গান গাইছেন৷ শুনছেন কয়েকজন নার্স৷ চোখেমুখে একরাশ মুগ্ধতা৷ একটু পরেই শুরু হল ‘আমার অঙ্গে জ্বলে রংমশাল’৷ তারপর এক এক করে ‘আজ বিকেলের ডাকে তোমার চিঠি পেলাম’, ‘ছি ছি ছি এ কী কাণ্ড করেছি..’৷

একজন নার্স এবার থামিয়ে দিলেন গায়িকাকে৷ বললেন, “আজ আর নয়৷ ডাক্তারবাবু দেখলে ভীষণ বকবেন৷ আপনি এবার একটু খেয়ে নিন৷” থামলেন না গায়িকা৷ শসা খেতে খেতেই বলে চললেন, “এখানে না এলে হয়তো মরেই যেতাম৷ জানো অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়ে আমায় বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে পিজি কর্তৃপক্ষ৷ তাই আনন্দে গান গাইছি৷”

রোগীর নাম বনশ্রী সেনগুপ্ত৷ স্বর্ণযুগের স্বনামধন্য এই শিল্পী এখন বেশ অসুস্থ৷ পিজির উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি৷ শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কিডনির সমস্যাও রয়েছে৷ তবে, গলায় এখনও সেই সুরলহরি অনায়াসে তার সপ্তকে উঠে গেয়ে দিচ্ছেন ‘আমার অঙ্গে জ্বলে রং মশাল’৷ কোথাও এতটুকু নড়ছে না সুর৷ নিজের মুখেই জানালেন, নবমীর দিনও দেড় ঘণ্টা অনুষ্ঠান করেছেন বারাসতে৷ কালীপুজোর দিন হঠাৎই খুব অসুস্থ বোধ করেন৷

ডাক্তার এখন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন সত্তরোর্ধ্ব শিল্পীকে৷ বেশি কথা বলাও বারণ৷ কিন্তু কে শুনছে? মন ভাল থাকলেও জোরে গেয়ে উঠছেন গান৷ খারাপ থাকলে গুনগুন করে নিজের মনে চলছে সুরালাপ৷ শিল্পীর নিজের মুখে গান শুনতে অন্য ওয়ার্ডের নার্সরাও ঢু মারছেন ‘৭এ’ ওয়ার্ডে৷ পিজি (এসএসকেএম) হাসপাতালের এমএসভিপি ডা. করবী বড়াল জানিয়েছেন, “উনি শারীরিকভাবে অসুস্থ৷ কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে৷ তবে, স্বামী শান্তি সেনগুপ্তর মৃত্যুর পর একাকীত্ব মানসিকভাবে ওঁকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে৷ তাই আমরা ওঁর ওয়ার্ডে আরও একজন রোগীকে রেখেছি৷ ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষেণের ব্যবস্থা করেছি৷”

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে৷ করবীদেবীর মোবাইলে ফোন করেন বনশ্রীদেবী৷ জানান, “প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও৷ তোমরা না নিয়ে গেলে মৃত্যু ছাড়া আমার আর কোনও উপায় থাকবে না৷” বিষয়টি করবীদেবী সঙ্গে সঙ্গেই পিজির রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা রজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে জানান৷ অরূপবাবুর নির্দেশে অ্যাম্বুল্যান্সে করে প্রতাপাদিত্য রোডের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয় বনশ্রীদেবীকে৷ অরূপবাবু এদিন জানান, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিল্পীর চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে উডবার্ন ওয়ার্ডে৷” হাসপাতালের তরফে বিষয়টি পর্যটন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকেও জানানো হয়৷ যদিও বাড়ির লোক না থাকায় ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সমস্যা হয়েছিল৷ পরে হুগলি থেকে শিল্পীর কয়েকজন আত্মীয় আসেন৷ এখন বিকেলে নিয়মিত শিল্পীকে দেখতে যান করবীদেবীও৷ জানালেন, “এই পিজিতেই কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছিল শিল্পী অখিলবন্ধু ঘোষের৷ কোনও শিল্পীর ক্ষেত্রেই যেন তেমন ঘটনা না ঘটে৷”

পিজি হাসপাতালে এসে মুগ্ধ বনশ্রীদেবী৷ জানালেন, “ভাবতাম সরকারি হাসপাতালে বুঝি কুকুর-বিড়াল ঘোরে৷ এখানে এসে ধারণা বদলে গেল৷ কী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুন্দর৷ ডাক্তার-নার্সরা কত কেয়ারিং৷ আমি আর কখনও বেসরকারি হাসপাতালে যাব না৷’’

banashree-sengupta

 

এইবেলাডটকম/নীল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71