শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
অ্যাডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী
প্রকাশ: ০৭:৪৫ pm ০৭-০৬-২০১৫ হালনাগাদ: ০৭:৪৫ pm ০৭-০৬-২০১৫
 
 
 


বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকারী শেখ রাজ্জাক আলীর জন্ম খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুর গ্রামে। ১৯২৮ সালের ২৮ আগস্ট তিনি এক ব্যবসায়িক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন অ্যাডভোকেট। তার শিক্ষাজীবন ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি (১৯৫২) ও বাংলা সাহিত্যে (১৯৫৪) মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর এলএলবি সম্পন্ন করেন শেখ রাজ্জাক আলী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি সক্রিয়ভাবে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।

১৯৫৮ সালে তিনি খুলনা জেলা জজকোর্টে ওকালতি শুরু করেন।

১৯৬৩ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্ট বারের সদস্য হন ও ১৯৬৪ সালে খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়াও তিনি খুলনা ল’কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সহঅধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন। এরপর রাজ্জাক আলী দীর্ঘ ২৫ বছর এ কলেজেরই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।

শেখ রাজ্জাক আলী সিটি ল’কলেজ খুলনা, সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয় খুলনা, সবুরন্নেসা মহিলা কলেজ খুলনা, বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাইকগাছা ডিগ্রি কলেজ, শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাইকগাছা, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, শিরোমণি খুলনা, সিটি ল'কলেজ মসজিদ, হিতামপুর জামে মসজিদ এবং কপিলমুনি শাহ্ জাফর আউলিয়া মাজার সংলগ্ন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা।

এবাদেও তিনি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ খুলনা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ, খুলনা মহিলা আলিয়া মাদ্রাসা ও হাজী ফয়েজউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বয়রা’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

শেখ রাজ্জাক আলী Bangladesh Legal Aid and Services Trust (BLAST)-এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে না পারলেও শেখ রাজ্জাক আলী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের টেট্রা ক্যাম্পে চলে যান এবং রেডক্রসে যোগ দিয়ে অনেক আহত মুক্তিযোদ্ধার সেবা করেন।
বিএনপির এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ শেখ রাজ্জাক আলী দলীয় মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি যোগ দিয়েছিলেন লেবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি)।

ন্যাপ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও পরে এলডিপির রাজনীতিসহ ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন শেখ রাজ্জাক আলী। ২০১৩ সালের ১ জুন খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ‘সম্মিলিত নাগরিক কমিটি’ মনোনীত মেয়র প্রার্থী খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেকের পক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন।
সাবেক এই স্পিকারের জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছে একাকী ও নিভৃতে। বয়সের ভারে নানাবিধ রোগব্যাধি বাসা বেঁধেছিল তার শরীরে। সর্বশেষ, ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি।


এরপর থেকে অনেকটাই অন্তরালে চলে যান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। চিকিৎসার জন্য মাঝে-মধ্যে ঢাকায় যেতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সংবাদমাধ্যমসহ রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছ থেকেও দূরে ছিলেন। একমাত্র ঘরোয়া পরিবেশে মেয়ে, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় পার করতেন।

রাজ্জাক আলীর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি আজীবন লড়াকু সৈনিক মওলানা ভাসানীর হাতে। তিনি ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি যোগ দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদে।

১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে জাসদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হন। ১৯৭৮ সালে বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বে গঠিত জাগদল-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন তিনি।

১৯৮৯ সালে এই দলের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) করা হলে এবং দল থেকে সে বছরের নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একই আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও রাজ্জাক আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এ বছরের ৫ এপ্রিল ডেপুটি স্পিকার ও ১২ অক্টোবর স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯২ সালে শ্রীলঙ্কার কলোম্বোতে প্রথম সার্ক স্পিকার্স সম্মেলনে যোগদান করেন ও সার্ক স্পিকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ রাজ্জাক আলী।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর শেখ রাজ্জাক আলীর সভাপতিত্বেই জাতীয় সংসদে স্বল্প সময়ের অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়।

শেখ রাজ্জাক আলী ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের কয়েক দিন আগে ২০০৬ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। বিএনপি ছেড়ে সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি।

এরপর সংস্কারপন্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ গঠিত এলডিপিতে যোগ দেন। রাজ্জাক আলী এলডিপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে ও পরে এলডিপির কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন।

তবে এলডিপি ভেঙে গেলে তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে নিভৃতে সময় কাটাতে থাকেন।

শেখ রাজ্জাক আলী ১৯৫৩ সালে প্রখ্যাত সমাজসেবী, ভাষা-সৈনিক ও লেখিকা অধ্যাপক বেগম মাজেদা আলীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তাদের পাঁচ মেয়ে-সন্তানের সবাই নিজ নামে খ্যাতিসম্পন্ন ও সুপ্রতিষ্ঠিত। বড় মেয়ে ড. রানা রাজ্জাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। দ্বিতীয় মেয়ে ডা. সাহানা রাজ্জাক স্ত্রীরোগ (গাইনি) বিশেষজ্ঞ হিসেবে খুলনায় কর্মরত। তৃতীয় মেয়ে জার্মানিতে কর্মরত ডা. অ্যানা রাজ্জাক মেডিসিন ও আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ।

চতুর্থ মেয়ে লীনা রাজ্জাক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং কনিষ্ঠ মেয়ে ব্যারিস্টার ড. জনা রাজ্জাক ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের আইন বিভাগের অধ্যাপক।

সাবেক স্পিকার, বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ও রাজনীতিবিদ  অ্যাডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী ২০১৫ সালের ৭ জুন
রোববার  বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে ৮৭ বছর বয়সে শেষঃনিশ্বাস ত্যাগ করেন । 
এইবেলা ডট কম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71