মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
আই.এস-কে প্রতিরোধ করবে ধর্মসেনা
প্রকাশ: ০৯:০০ pm ২০-০১-২০১৬ হালনাগাদ: ১০:০৭ pm ০৫-০২-২০১৬
 
 
 


দেবজ্যোতি রুদ্র: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আই.এস) প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে এবার ভারতে গঠিত হয়েছে হিন্দু ধর্মসেনা। এরই মধ্যে ধর্মসেনায় নাম লিখিয়েছে ২০ সহস্রাধিক তরুণ-যুবক।

ভারতের বার্তা সংস্থা জি নিউজ জানাচ্ছে, দেশটির উত্তরখণ্ড সীমান্তে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে হিন্দু স্বাভিমান সংঘ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের যোদ্ধাদের নাম দেয়া হয়েছে ধর্মসেনা। বর্তমানে সারা বিশ্বে ইসলামিক স্টেট'র নেতৃত্বে চলমান ধর্মসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এই ধর্মসেনারা।

ধর্মসেনারা প্রাথমিক পর্যায়ে তলোয়ার চালানো শিখছে। ধাপে ধাপে তাদেরকে যাবতীয় অস্ত্র চালানো শেখানো হবে। আর ‘জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ হিন্দুত্ববাদের এই ভাব মনের গভীরে প্রবেশ করানোর জন্য গীতার শ্লোক পড়ানো হচ্ছে ধর্মসেনাদের।

এ প্রসঙ্গে হিন্দু স্বাভিমানের অন্যতম সংগঠক ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দুর্গা বাহিনীর সদস্য চেতনা শর্মা বলেন, “অন্যায়ের প্রতিরোধে মানুষকেই অবতার হিসেবে প্রকট করেন ঈশ্বর। যুগে যুগে তা-ই দেখিয়েছে হিন্দু ধর্মশাস্ত্র। আমাদের চিন্তা অতি সরল— আমরা কারো উপর বলপ্রয়োগ করবো না, হিন্দুধর্ম আমাদেরকে সেই শিক্ষা কখনোই দেয়নি। কিন্তু আমার দেশ কিংবা ধর্মকে কেউ আক্রমণ করলে তাকে নির্মূল হতেই হবে।”

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী ৮ বছর বয়সী স্থানীয় এক কিশোরী টাইমস্‌ অব ইন্ডিয়া-কে বলে, “আমি অস্ত্র তুলে নিয়েছি, কারণ আমার মা-বোন আজ হুমকির মুখে। আমার দেশে আজ আক্রমণ করা হচ্ছে। আমার ধর্ম আমাকে শিখিয়েছে দুর্বলকে রক্ষা করতে। মাতৃভূমি রক্ষা করতে আমরা যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে পারি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদেরকে তা-ই শিখিয়েছেন।”

এই উদ্যোগের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় ধর্মগুরু নরসিংহানন্দ সরস্বতী। তিনি বলেন, “আমাদের উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ মাদ্রাসা তার ভাবশিষ্যদেরকে এই ধর্মীয় সন্ত্রাসের জন্য তৈরী করেছে। তারাই মূলতঃ ধর্মসন্ত্রাসী দলগুলোর আদর্শিক গুরু। আমরা মনে করি, এদেরকে প্রতিরোধের এখনই সময়। ইসলামিক স্টেটের জবাব একটাই— হিন্দু স্টেট। গুলির জবাব আমরা গুলি দিয়েই দেবো। এটা ঠিক, ওদের আছে রকেট লঞ্চার আর আমাদের কাছে সাধারণ পিস্তল। কিন্তু জয় আমাদেরই হবে, কারণ আমরা সত্যের জন্য, ন্যায়ের জন্য লড়ছি। আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদীদের মাধ্যমে আই.এস এতো শক্তি অর্জন করেছে। আমাদের তা নেই বটে, কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে সেই শক্তিও অর্জন করবো নিশ্চয়ই।”

ধর্মসেনার সদর দপ্তর করা হয়েছে গাজিয়াবাদের দশনা মন্দিরকে। সংগঠনের নেতৃত্বে খোলা হয়েছে ৫০টি প্রশিক্ষণ শিবির, মীরাট আর মুজাফ্ফরনগরে আছে আরো ৬টি কেন্দ্র। এসব শিবিরে ৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করছে।

নরসিংহানন্দ জানান যে, প্রতিদিন অন্ততঃ ২টি পঞ্চায়েতের সাথে তারা মতবিনিময় করেন। তারপর তাদেরকে সংগঠিত করেন নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ শিবিরে সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে কিশোর-যুবাদেরকে ‘সৈন্য’ বানানোর জন্যে। তারা সবাইকে সশস্ত্র হওয়ার পরামর্শ দেন। ফলে তাদের ‘মাথা তুলে বাঁচতে হলে হাসি মুখে মরতে হবে’ মন্ত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে তরুণ-যুবা সমাজে।

এর ফলাফল কী হতে পারে? নরসিংহানন্দই দিচ্ছেন তার উত্তর, “একটা ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সন্নিকটে দেশ। মোদি সরকার এই যুদ্ধকে কিছুতেই সামাল দিতে পারবে বলে মনে হয় না। আমরা মরবো, তবে লড়ে মরবো। আমাদের চোখের সামনে প্রিয়জনের ধর্ষিতা লাশ পড়ে থাকবে আর আমরা শান্তি ও সহিষ্ণুতার বাণী কপচাবো, তা কিছুতেই হতে পারে না।”



এইবেলা ডটকম/এমআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71