বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
আগামিকাল ১৪জুন ভয়াল সেই মাগুরছড়া দিবস 
প্রকাশ: ০৪:১৯ pm ১৩-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:২১ pm ১৩-০৬-২০১৭
 
 
 


মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ আগামিকাল ১৪ জুন। ভয়াল সেই মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ২০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবস্থিত মাগুরছড়ায় ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও ত্র“টির কারণে বিকট শব্দের বিস্ফোরণে রাতের আকাশ লাল হয়ে ওঠে। ৬শ ফুট উচ্চতায় লাফিয়ে উঠে আগুনের লেলিহান শিখার ভয়াবহ এ বিস্ফোরণে চা বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, রেলপথ, গ্যাস পাইপলাইন, গ্যাসকূপ, স্ট্রাক্চার, গ্যাস রিজার্ভ, পরিবেশ, প্রতিবেশ, ভূমিস্থ পানি সম্পদ, রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টানা ১৫ দিন জ্বলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও প্রাণ হারায় পাখিসহ হাজারো বন্যপ্রাণী। মার্কিন এ কোম্পানির নানা টাল বাহানা আর অজুহাতে আজও ক্ষতিপূরণ আদায় না হলেও ভয়াবহ সেই স্মৃতি ভুলতে পারেনি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ তথা মৌলভীবাজারের মানুষ।

আজ মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ২০ বছর। প্রতিবছর শুধু মানববন্ধন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কেটে গেছে ২০টি বছর। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে মাগুরছড়ার ১নং অনুসন্ধান কুপ খননকালে হঠাৎ করে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ঘটে। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবস্থিত মাগুরছড়ায় মধ্যরাতে বিকট শব্দের এই বিস্ফোরণে রাতের আকাশ লাল হয়ে ওঠে। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গ্যাসকূপসহ আশপাশের এলাকা।

৬শ ফুট উচ্চতায় লাফিয়ে উঠে আগুনের লেলিহান শিখা। মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের খামখেয়ালিপনার কারণে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে চা বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, রেলপথ, গ্যাস পাইপলাইন, গ্যাসকূপ, মৌলভীবাজার স্ট্রাক্চার, গ্যাস রিজার্ভ, পরিবেশ, প্রতিবেশ, ভূমিস্থ পানি সম্পদ, রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষ্ফোরিত আগুনের তেজস্ক্রিয়তায় গলে যায় রেলপথ, জ্বলে ছারখার হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ। মারা যায় হাজার হাজার বন্যপ্রাণী ও পাখী। টানা ১৫ দিন জ্বলার পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। 

৩ হাজার ৭শ মিটার কূপ খনন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে ৮শ ৪০ মিটার খনন করার পরপরই ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ফলে ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, অক্সিডেন্টালের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। কিন্তু ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তার পুরোপুরি ক্ষতিপূরণ আজও আদায় করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে মাগুরছড়া তেল-গ্যাস-সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখলেও তাতে কোনো সফলতা আসেনি। যার ফলে মানুষের মনে ক্ষোভ অসন্তোষ বিরাজ করছে আজও। এ বিপর্যয়কে জাতীয়ভাবে প্রাধান্য না দেয়া হচ্ছে না বলেই ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ভয়াবহ মাগুরছড়া গ্যাসকুপ বিষ্ফোরণের পর পরই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তৎকালীন জালানী মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ১৯৯৭ সালের ৩০ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। রিপোর্টে বনাঞ্চলের মোট ক্ষতি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮শত ৫৮ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা। এসময় ছোট বড় ২৯টি চা বাগানের ৪৬ কোটি ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৩০টাকা ক্ষতি সাধিত হয়। তাছাড়া বনাঞ্চলের ৬৯.৫ হেক্টর এলাকার ২৫ হাজার ৬৫০টি পূর্ণ বয়স্ক গাছ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় ৩৩.৬১ কোটি টাকার।

তদন্তে ক্ষতি বাবদ ধরা হয় ৫০৭.১২ কোটি টাকা। এছাড়া বনাঞ্চলের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪০ হেক্টর ভূমি এবং ১৫,৪৫০ টি বৃক্ষ। ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার পেতে ১০ বছরে  ক্ষতির পরিমান ৪৮৪.৫৮ কোটি টাকা। বিস্ফোরণের ফলে ২ হাজার ফুট রেলওয়ে ট্র্যাক ধ্বংস হয়েছে, এতে ক্ষতি হয়েছে ৮১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩৯৫ টাকা (রাজস্ব ব্যতীত)। সড়ক পথের ক্ষতি ২১ কোটি টাকা। গ্যাস পাইপ লাইনের ক্ষতি ১৩ লক্ষ টাকা। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৯১৮৬ টাকা। খাসিয়া পানপুঞ্জির অধিবাসীদের পানের বরজ সমূহ প্রতিদিন ৪৭,৭৫০ টাকা হারে মোট ১২ লক্ষ টাকা।

তবে মাগুরছড়া গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বলেন, মূল ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়ে সড়ক, রেলপথ, পান পুঞ্জি এসব খাতে গোপনে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। কেন এই লুকোচুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া ভূ-গর্ভস্থ উত্তোলনযোগ্য ২৪৫ দশমিক ৮৬ বিসিএফ গ্যাস বিনষ্ট হলেও রহস্যজনক কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। পুড়ে যাওয়া ভূ-গর্ভস্থ ২৪৫ দশমিক ৮৬ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মূল্য ১৯৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪,৩৫৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বাকি সমূদয় ক্ষতি মিলিয়ে মাগুরছড়ার মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। অগ্নিকাণ্ডে মাগুরছড়া ও আশপাশের ৮৭ দশমিক ৫০ একর এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

১৯৯৭ সালের জুন মাসে স্থানটি রাতারাতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়। এখনো প্রতি বছর ‘মাগুরছড়া দিবস’- ছাড়াও মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনামে মাগুরছড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জনগণের সামনে আবির্ভূত হয়। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন ব্লো-আউটের পর থেকেই ক্ষতিপূরণের দাবীতে দীর্ঘ আন্দোলন করে আসছে ‘‘মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংশের ক্ষতিপুরণ আদায় জাতীয় কমিটি’’। কিন্তু ১৯৯৭-২০১৩ সময়কালে মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ, পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টাল-ইউনোকল-শেভরনের কাছ থেকে আদায় করতে পারেনি। প্রতিবছরই দিনটিকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারবাসী নানা কর্মসূচি পালন করে। অন্য বছরের ন্যায় এবারও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এইবেলাডটকম/কাঁকন/গোপাল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71