মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
আজ কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম শুভ জন্মদিন
প্রকাশ: ১০:০৬ am ২৫-০৫-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:০৬ am ২৫-০৫-২০১৮
 
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
 
 
 
 


‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে/মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে/আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।’ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে বাঁধনহারা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার ছিল অবাধ বিচরণ। একাধারে লিখেছেন কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস; ছিলেন সফল গীতিকার, সুরকার ও সংগীত শিল্পী। তাকে আমরা পাই দ্র্রোহে, পাই মানবতায়, প্রেমে, সাম্যে। কোথায় নেই তিনি। বাঙালির সব আবেগ, অনুভূতিতে আছেন কবি। 

আজ শুক্রবার এই মহান কবির ১১৯তম জন্মজয়ন্তী। রাষ্ট্রীয় আয়োজন ছাড়াও দিনটিতে থাকছে নানা আয়োজন। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। তার বাবা ছিলেন স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম। ছোট বেলায় নজরুলের ডাকনাম ‘দুখু মিয়া’। ১৯০৮ সালে নয় বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে দশ বছর বয়সে তাকে কাজ করতে হয়। এসময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। একই সাথে হাজী পালোয়ানের কবরের সেবক এবং মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ শুরু করেন। বাল্য বয়সেই একটি লেটো (কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমান নাট্যদল) দলে যোগ দেন। লেটো দলেই সাহিত্য চর্চা শুরু হয়। এই দলের সাথে তিনি বিভিন্ন স্থানে যেতেন, তাদের সাথে অভিনয় শিখতেন এবং তাদের নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতেন। একইসাথে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অর্থাৎ পুরাণসমূহ অধ্যয়ন করতে থাকেন। সেই অল্প বয়সেই তার নাট্যদলের জন্য বেশকিছু লোকসঙ্গীত রচনা করেন। তখন থেকেই তাকে সবাই কবি নজরুল বলে ডাকত।

১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগ থেকে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে নজরুল ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন। তার সাথে থাকতেন এই সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা মুজফ্ফর আহমদ। এখান থেকেই তার সাহিত্য-সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু হয়। প্রথম দিকেই মোসলেম ভারত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায় তার কিছু লেখা প্রকাশিত হয়। ১৯২০ সালের জুলাই মাসে নবযুগ নামক একটি সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হওয়া শুরু করে। অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেরে-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক। এই পত্রিকার মাধ্যমেই নজরুল নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু করেন।

১৯২২ সালের ১২ই আগস্ট নজরুল ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করে। এটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো। ১৯২০-এর দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন এক সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এর পরপর স্বরাজ গঠনে যে সশস্ত্র বিপ্লববাদের আবির্ভাব ঘটে তাতে ধূমকেতু পত্রিকার বিশেষ অবদান ছিল।

১৯৪২ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান কবি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নজরুলকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি।

কবিতা: অগ্নিবীণা (কবিতা) ১৯২২, সঞ্চিতা (কবিতা সংকলন) ১৯২৫, ফনীমনসা (কবিতা) ১৯২৭, চক্রবাক (কবিতা) ১৯২৯, সাতভাই চম্পা (কবিতা) ১৯৩৩, নির্ঝর (কবিতা) ১৯৩৯, নতুন চাঁদ (কবিতা) ১৯৩৯, মরুভাস্কর (কবিতা) ১৯৫১, সঞ্চয়ন (কবিতা সংকলন) ১৯৫৫, নজরুল ইসলাম : ইসলামী কবিতা (কবিতা সংকলন) ১৯৮২ ।
কবিতা ও সংগীত: দোলন-চাঁপা (১৯২৩), বিষের বাঁশি (১৯২৪), ভাঙ্গার গান ( ১৯২৪), ছায়ানট (১৯২৫), চিত্তনামা (১৯২৫), সাম্যবাদী (১৯২৬), পুবের হাওয়া (১৯২৬), সর্বহারা (১৯২৬), সিন্ধু হিন্দোল (১৯২৭) , জিঞ্জীর (১৯২৮), প্রলয় শিখা (১৯৩০) , শেষ সওগাত (১৯৫৮) ।

সংগীত : বুলবুল (গান) ১৯২৮, সন্ধ্যা (গান) ১৯২৯, চোখের চাতক (গান) ১৯২৯, নজরুল গীতিকা (গান সংগ্রহ) ১৯৩০, নজরুল স্বরলিপি (স্বরলিপি) ১৯৩১, চন্দ্রবিন্দু (গান) ১৯৩১, সুরসাকী (গান) ১৯৩২, বনগীতি (গান) ১৯৩১, জুলফিকার (গান) ১৯৩১, গুল বাগিচা (গান) ১৯৩৩, গীতি শতদল (গান) ১৯৩৪, সুর মুকুর (স্বরলিপি) ১৯৩৪, গানের মালা (গান) ১৯৩৪, স্বরলিপি (স্বরলিপি) ১৯৪৯, বুলবুল দ্বিতীয় ভাগ (গান) ১৯৫২, রাঙ্গা জবা (শ্যামা সংগীত) ১৯৬৬। 
ছোট গল্প: ব্যাথার দান (ছোট গল্প) ১৯২২, রিক্তের বেদন (ছোট গল্প) ১৯২৫, শিউলি মালা (গল্প) ১৯৩১।
উপন্যাস : বাঁধন হারা (১৯২৭), মৃত্যু ক্ষুধা (১৯৩০), কুহেলিকা (১৯৩১) ।

নাটক: ঝিলিমিলি (নাটক) ১৯৩০, আলেয়া (গীতিনাট্য) ১৯৩১, পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক) ১৯৩৩, মধুমালা (গীতিনাট্য) ১৯৬০, ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক) ১৯৬০, পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক) ১৯৬৪।

প্রবন্ধ: যুগবানী (১৯২৬), ঝিঙ্গে ফুল(১৯২৬), দুর্দিনের যাত্রী (১৯২৬), রুদ্র মঙ্গল (১৯২৭), ধুমকেতু (১৯৬১)।

নি এম/চন্দন
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71