শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
আজ পবিত্র শিব চতুর্দশী
প্রকাশ: ০৯:০৮ am ১৪-০২-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:১৫ am ১৪-০২-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


 আজ পবিত্র শিব চতুর্দশী তিথি। শ্রী শ্রী মহা শিবরাত্রি ব্রত পালন করা হয় আজকের এই দিনে। সূর্যের উত্তরায়নের তিথি-নাক্ষত্রিক বিচারে সবচেয়ে পবিত্র দিন এটি।

এই দিনের মাহাত্ম্য অনেক। রামায়ন, মহাভারত ও পুরানসমূহে শিবের সাধনা করতে মূলত পুরুষদেরকেই বেশি দেখা যায়। নারীরাও সমানভাবে শিবের উপাসনা করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি শিবরাত্রিকে নারীদের একটা ব্রতে পরিনত করেছে বাঙালি পুরুষতান্ত্রিক হিন্দু সমাজ।

তার পরিনতিও ভোগ করছে বাঙালি হিন্দুরা। শ্রীরামচন্দ্র, পরুশুরাম, শ্রীকৃষ্ণ, পঞ্চপান্তর, রাবন, ব্রক্ষ্মর্ষি বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্রসহ ঋষিগন সকলেই ছিলেন শিবের উপাসক।

শিবের উপাসনা করে শুধু দেবতা বা মানুষ নয়, অসুরেরাও বিভিন্ন সময় অর্জন করেছে প্রভূত ক্ষমতা। শিবের দৃষ্টিতে সবাই সমান। খুব অল্পেই সন্তুষ্ট হন শিব। আশুতেই (শ্রঘ্রই) সন্তুষ্ট হন বলে শিবের অপর নাম আশুতোষ। প্রকৃতপক্ষে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যই এই পূজা মহাফল প্রদান করে থাকে।

জেনে নিন শিব রাত্রি পালনের নিয়মাবলীঃ-

মহাশিবরাত্রি বিহিত শিবপূজাঃ শিবরাত্রির আগের দিন সংযম পালন পূর্বক শুদ্ধাচারে নিরামিষ ভোজন করতে হয়। শিবরাত্রির দিন সকালে স্নান ও নিত্যপূজা করে উপবাস শুরু করতে হয়।

শিবরাত্রির পূজায় চার প্রহরে, চার প্রকার দব্য দিয়ে স্নান করিয়ে চার প্রকার অর্ঘ্য প্রদান করে পৃথক পৃথক মন্ত্র উচ্চারনপুর্বক চারবার শিব পূজা করা বিধি।

এতে অসমর্থ হলে একসাথে পরপর চারবার শিবপূজা করা যাবে। প্রথমে স্নানের দ্রব্য দিয়ে স্নান করিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হবে। এরপর জল দিয়ে স্নান করাতে হবে। যেকোন পূজা বা ব্রত পালনের শুরুতেই আচমন করতে হয়।

আচমনঃ

ডান হাতের তালু গোকর্ণাকৃতি করে সামান্য পরিমান জল নিয়ে ‘ওঁ বিষ্ণু’ মন্ত্রটি পাঠ করুন। এইভাবে মোট তিনবার জলপান করে  আচমন করার পর হাত জোর করে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন-

ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যান্তি সূরয়ঃ

দিবীর চক্ষুরাততম্।

ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা।

যঃ স্মরেৎ পুন্তরীকাক্ষাং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিং।

প্রথম প্রহরে পূজাবিধিঃ

দুধ দ্বারা স্নানের মন্ত্রঃ                

ইদং স্নানীয় দুগ্ধং ওঁ হৌং ঈশানায় নমঃ

এই মন্ত্রটি বলে শিবকে দুধ দিয়ে স্নান করিয়ে একটি অর্ঘ্য হাতে নিয়ে নিম্নের মন্ত্রটি বলে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হবে-

 ওঁ শিবরাত্রি ব্রতং দেব পূজাজপপরায়নঃ

করোমি বিধিনবদ্দত্তং গ্রিহানার্ঘ্যাং মহেশ্বর । এরপর নিচের মন্ত্রটি বলে অর্ঘ্যটি শিবলিঙ্গের উপর দিতে হবে

 ইদম অঘ্যং ওঁ নমঃ শিবায় নমঃ

অর্ঘ্য নিবেদনের পরে শিবকে জল দিয়ে স্নান করাতে হবে।

 

দ্বিতীয় প্রহরে পূজাবিধিঃ

 দধি দ্বারা স্নানের মন্ত্রঃ

 ইদং স্নানীয় দধিং ওঁ হৌং অঘোরায় নমঃ

বলে শিবকে স্নান করিয়ে একটি অর্ঘ্য হাতে নিয়ে-

 ওঁ নম শিবায় শান্তায় সর্বপাপ হরায় চ।

  শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং প্রসীদ উময়া সহ।

এইপর নিচের মন্ত্রটি বলে অর্ঘ্যটি শিবলিঙ্গের উপর দিতে হবে।

 ইদম অর্ঘ্যং ওঁ নমঃ শিবায় নমঃ

অর্ঘ্যং নিবেদনের পরে শিবকে জল দিয়ে স্নান করাতে হবে।

 

তৃতীয় প্রহরে পূজাবিধিঃ

ঘৃত দ্বারা স্নানের মন্ত্রঃ

ইদং স্নানীয় ঘৃতং ওঁ হৌং বামদেবায় নমঃ

এই মন্ত্রটি বলে শিবকে ঘি দিয়ে স্নান করিয়ে এইটি অর্ঘ্য হাতে নিয়ে নিম্নের মন্ত্রটি বলে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হবে-

  ওঁ দুঃখদারিদ্র্যশো কেন দ্গ্ধহহং পার্বতীশ্বর।

  শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং উমাকান্ত প্রসীদ মে।।

 

এরপর নিচের মন্ত্রটি বলে অর্ঘ্যটি শিবলিঙ্গের উপর দিতে হবে।

ইদম অঘর্ঘ্যং ওঁ নমঃ শিবায় নমঃ

অর্ঘ্যং নিবেদনের পরে শিবকে জল দিয়ে স্নান করাতে হবে।

 

চতুর্থ প্রহরে পূজাবিধিঃ

মধু দ্বারা স্নানের মন্ত্রঃ

 ইদং স্নানীয় মধুং ওঁ হৌং সদ্যজাতায় নমঃ

এই মন্ত্রটি বলে শিবকে মধু দিয়ে স্নান করিয়ে একটি অর্ঘ্য হাতে নিয়ে নিমেন্র মন্ত্রটি বলে অর্ঘ্য নিবেদন করতে হবে।

 ওঁ ময়া কৃতান্যনেকাপি পাপানি হর শঙ্কর।

  শিবরাত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহান মে।

এরপর নিচের মন্ত্রটি বলে অর্ঘ্যটি শিবলিঙ্গের উপর দিতে হবে।

  ইদম অর্ঘ্যং ওঁ নমঃ শিবায় নমঃ

অর্ঘ্য নিবেদনের পরে শিবকে জল দিয়ে স্নান করাতে হবে।

 

চতুর্থ প্রহরের পূজা শেষ করে জোড় হাতে নিম্নলিখিত মন্ত্র পাঠ করতে হবে-

  ওঁ অবিঘ্নেন ব্রত্নং দেব তত প্রসাদাৎ সমর্পিতম্

  ক্ষমস্ব জগতাং নাত ত্রৈলক্যাধিপতে হর।

  জন্ময়াদ্য ত্রিতং পুন্যং তদ্রুদ্রস্য নিবেদিতম্।

  তত প্রসাদান্মায়া দেব ব্রতমদ্য সমাপিতম্।

 প্রসন্ন ভব মে শ্রীমনস মদ্ভুক্তি প্রতিপাদ্যতাম

 তদালোকেন মাত্রেন পবিত্রহস্মিন সংশয়।

অতঃপর পূজা সমাপ্ত করে ব্রতকথা শ্রবন করতে হবে।

 

পুষ্পাঞ্জলি :

সচন্দন পুষ্প ও বেলপাতা নিয়ে এই মন্ত্রে এক, তিন বা পাঁচবার অঞ্জলি দেবেন -

 ওঁ নমো শিবায় এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলি নমো শিবায় নম:

 

শিবের প্রনাম মন্ত্র :

   ওঁ নম: শিবায় শান্তায় কারনত্রয়হেতবে।

  নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্থ পরমেশ্বরম।

পারণ :

পরের দিন পারণ করতে হয়।পারণের সময় পঞ্জিকাতে দেয়া থাকে। এর মাঝে মহাদেবের অন্ন নিবেদন করে পারণ মন্ত্র উচ্চারণ পূর্বক উপোষ ভঙ্গ করতে হয়।

 

শিব রাত্রির পারণ মন্ত্র :

  ওঁ সংসার ক্লেশদগ্ধস্য ব্রতেনানেন শঙ্কর

   প্রসীদ সমূখ নাথ জ্ঞান দৃষ্টিপ্রদ ভব।।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :

উপবাস থাকার দিনে তেলমাখা, দিবানিদ্রা, সহবাস কনোরূপ ভোগবিলাস, পাশা/জুয়া খেলা, নেশাবস্তু গ্রহণ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। পারণের দিন ২বার খাওয়া সহবাস, প্ররিশ্রমের কাজ, দিবানিদ্রা, পরের অন্ন ভোজন, দূরপথে যাত্রা নিষেধ।

বারবার জলপান করলে বা দিবা নিদ্রা গেলে “ ওঁ নম: ণারায়ণায়” এই মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে হয়। সম্পূর্ণ উপবাস না করতে পারলে জল, দুধ, ফল, মূল, ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

 

 

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71