শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯
শুক্রবার, ৬ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
আজ বহুল আলোচিত ছাত্রলীগের এইট মার্ডারের ১৫ বছর: শিবিরের নাম (এখানে হবেঃ "ভাসুরের নাম")
প্রকাশ: ১২:৩১ pm ১২-০৭-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:৩১ pm ১২-০৭-২০১৫
 
 
 





সুব্রত মণ্ডল : আজ চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বহুল আলোচিত 'এইট মার্ডার'রে ১৫ বছর। এদিন শিবিরের ব্রাশ ফায়ারে ছাত্রলীগের ৬ জন নেতাকর্মী ও ২ ড্রাইভার ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডে দেশের প্রগতিশীল ছাত্র সমাজে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করে। এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্র সমাজ ফুলে ওঠে আন্দোলনে।  এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় রায়ে এখনো কার্যকর হয় নি। এ নিয়ে সংঘটনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ  রয়েছে । এ হত্যা দিবসটি উপলক্ষে ছাত্রলীগ দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের শেরশাহ পলিটেকনিক এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে  অংশ গ্রহণ করার জন্য বাকলিয়াস্থ সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি বহদ্দারহাট পুকুরপাড় এলাকায় আসলে আরেকটি মাইক্রোবাস তাদের সামনে এসে গতিরোধ করে। গতিরোধ করার মুহূর্তের মধ্যেই ব্রাশফায়ার শুরু করে বর্বর শিবির ক্যাডাররা। এ সময় গাড়ির ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন এতে ছাত্রলীগের ছয় নেতা, তাদের মাইক্রোবাসের চালক ও একজন অটোরিকশার চালক। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট (পলিটেকনিক এলাকাস্থ) ছাত্র সংসদের ভিপি হাসিবুর রহমান হেলাল, এজিএস রফিকুল ইসলাম সোহাগ, ইনস্টেটিউটের ছাত্র জাহাঙ্গীর হোসেন, বায়েজিদ বোস্তামী ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শেরশাহ কলেজ ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আবুল কাশেম, জাহিদ হোসেন এরশাদ, মাইক্রোবাস চালক মনু মিয়া এবং অটোরিকশা চালক কাশেম ।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি 'এইট মার্ডার' হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। মামলায় আসামি করা হয় ২২ জনকে। বিচার চলাকালে ২ জন আসামি মারা যায়। ঘটনার আট বছর পর ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ মামলাটির রায় দেন চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ একরামুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপরে ৪৩ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২০০৮ সালে ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ডিত দণ্ডিত করে রায় দেন। 

রায়ে ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন খান, মো. আলমগীর কবির ওরফে বাট্টা আলমগীর, মো. আজম ও মো. সোলায়মানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া আরও তিনজন শিবির ক্যাডার হাবিব খান, এনামুল হক ও আবদুল কাইয়ুমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা এখনো পলাতক। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন খান ভারতের কারাগারে, অন্য তিনজন দেশের কারাগারে বন্দী রয়েছে।

এই ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন চার আসামি। একইসঙ্গে ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য তা ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। এ মামলায় পরবর্তীতে ২০১৪ সালের এপ্রিলে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আব্দুল হাই ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেব নাথের ডিভিশন বেঞ্চ চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বহুল আলোচিত 'এইট মার্ডার' হত্যা মামলায় ফাঁসির ৪ আসামিকে খালাস দেন হাইকোর্ট।  রায়ে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, সাজ্জাদ হোসেন খান ওরফে সাজ্জাদ, আলমগীর কবির ওরফে মানিক, আজম ও মো. সোলায়মান।

এ হত্যা দিবসটি উপলক্ষে  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দিন ব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে । পাশাপাশি সংগঠনের নেতাকর্মীর সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলোতে হত্যা দিবসটি উপলক্ষে ক্ষোভ মূলক স্টাটাস দিচ্ছেন । বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার  সহ-সভপাতি সুকান্ত ব্রহ্ম শান্ত তার ফেসবক স্ট্যাটাসে দিবসটি বিবরণ তুলে  হত্যার বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । তার স্ট্যাটাসের শেষ অংশটি ছিল, ‘‘আমরা এই ৮ হত্যার যথাযথ বিচার পাই নি। এ নিয়ে সুশীল সমাজের কোন মাথাব্যাথা নেই। কারণ যারা হত্যা করেছে তারা মিডিয়ার ভাষায় দূর্বৃত্ব, শিবিরের নাম (এখানে হবেঃ "ভাসুরের নাম") তো তাদের মুখে আসে না। আর দূর্ভাগ্য যাদের হত্যা করা হয়েছে, তারা ছাত্রলীগ এটাই তাদের অপরাধ! সেদিনে শিবিরের বর্বরতায় নিহত-অম ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি ।’


এইবেলা ডটকম/এসএম
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71