সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
আজ ভোলার সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর
প্রকাশ: ০২:১৫ pm ১২-১১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৩:৪৫ pm ১২-১১-২০১৬
 
 
 


ঢাকা : আজ সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর। উনিশ'শ সত্তরের ১২ নভেম্বর ভোলা চট্টগ্রাম নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর পটুয়াখালী সহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভয়াল এক গোর্কি।

এর আঘাতে প্রাণ হারিয়েছিল ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। সেই দিনটির কথা মনে পড়লে আজো আঁতকে ওঠে এ অঞ্চলের মানুষ। ঘটনার এতদিন পরও জলোচ্ছ্বাস আতঙ্ক তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে উপকূলবাসীকে।

৪৬ বছর আগের এই দিনে এক রাতের ব্যবধানে ভোলার চার ভাগের একভাগ মানুষ নিমিষে নিঃশেষ হয়ে যায়। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় এখানকার বিস্তীর্ণ জনপদ। সাগর পাড়ের মনপুরা, কুকরী-মুকরী ঢালচরসহ ছোট ছোট দ্বীপচর এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোর বেশিরভাগ মানুষই প্রাণ হারায়। এমনকি ভোলা শহরও গোর্কির ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি।

তখন পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ শিরোনাম হয়েছিল 'ভোলার গাছে গাছে ঝুলছে লাশ'। গোটা এলাকা পরিণত হয়েছিল মানুষ আর গবাদিপশু'র লাশের স্তূপে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মা তার প্রিয় সন্তানকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সত্তরের সেই বিষাদ আর যন্ত্রণাময় স্মৃতি নিয়ে এখনো দিন কাটছে গোর্কির মুখ থেকে বেচে আসা মানুষগুলো।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর গোর্কির প্রত্যক্ষ সাক্ষী ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক আবু তাহের, মেঘনা তীরবর্তী ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল হক, মো. আবু তাহের, হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। বিকাল থেকেই টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছিল । অনেকেই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরেছিল। রাত ১১ টার পর থেকে পাহাড়সম উচ্চতায় ধেয়ে আসে পানি। এরই মধ্যে উড়িয়ে নিয়ে যায় বহু ঘড়ের চালা। কে কোথায় ভেসে যায় তার কোন হদিস ছিল না। পরদিন শুধু লাশ আর লাশ। লাশ দাফন করার জায়গাও ছিল না। জায়গার অভাবে গণকবর দেয়া হয়েছিল সেদিন।

১২ই নভেম্বরের ৩ দিন পরেও পাওয়া যাচ্ছিল মানুষের লাশ। ঘটনার ৩ দিন পর বিশ্ববাসী জেনেছিল এ খবর। প্রতিবছর ১২ নভেম্বর এলে এই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দিনটিকে গভীর শোক ও আতঙ্কের সাথে স্মরণ করে। কেননা প্রত্যেকেই হারিয়েছিলেন তাদের একাধিক প্রিয় স্বজনকে। উপকূলীয় অঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মিত হয়নি। ফলে যে কোন ঘূর্ণিঝড়ে এখনো প্রাণ হানীর ঘটনা ঘটছে।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71