রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
আমরা সংবাদিকের অধিকার চাই : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি
প্রকাশ: ১০:৫৩ pm ৩০-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৫৩ pm ৩০-০৩-২০১৭
 
 
 


মিজানুর রহমান সুহেল : আমি একজন খুদে সাংবাদিক "অস্ত্র ধরীনী কলম ধরেছি লক্ষ করেছি ঠিক" আমাদের ভুলে গেলে চলবে না সাংবাদিকতা পেশা ব্যবসা নয়।

বাঙালি জাতি জানে সাংবাদিক’ ও পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরা সমাজের অতন্দ্র প্রহরী। অথচ এরাই সমাজে অবহেলিত এবং নিন্দিত।সংবাদ, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, একজন সাংবাদিক ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের নিন্দুক আবার এরাই সংশ্লিষ্ট অঙ্গনের পরম দরদী।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তিনি তাঁর কলমে ষ্পষ্ট করেছেন, ‘নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো, যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।’অথচ আমরা সুনাম, সু-যশ শুনতে এবং প্রচার করতে ভালোবাসি, যখন আমাদের অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যায় অনাচার প্রকাশ পায় তখনই আমরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠি।

সংবাদ, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকরা অন্যায়, অসত্য, অসুন্দরের বিরুদ্ধে ঢিল মারবে এটাই নিয়ম। ভুলে গেলে চলবে না, আমরা সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কতটুকু দায়িত্ব পালন করছি।অথচ একজন সাংবাদিক নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল আন্তরিকতার সাথে সাংবাদিক দের স্বমান দেয়না।

কারন না বলে পারলাম না কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বড় বড় অনুষ্ঠানে সব অতিথিদের যেভাবে সম্মান দেয়া হয়, সমাদর করা হয়, সংবাদকর্মীদের করা হয় না কেন?অনুষ্ঠানের পরদিন কিন্তু তাদেরকেই জিজ্ঞাস করা হয় ভাই নিউজকি আসছে, আমার নামটা দিয়েছেন!

জনাব, পোগ্রামে সবার সব কিছুই ঠিক থাকে কিন্তু সাংবাদিকদের ছবি তোলার জায়গা, বসার জায়গা  র কথা ঠিক থাকেনা কেন?একজন সংবাদকর্মী কত কষ্ট করে সংবাদ সংগ্রহ করে একটু ভাববেন কি!আপনারা অনুষ্ঠানের পর বিছানায় চলে যান ক্লান্ত বলে, আর একজন সাংবাদিক বসে যায় কাজে, কার কাজে আপনাদের কাজে।

সাংবাদিকেরও পেট আছে, আছে পরিবার, তাদের কাছ হতে সুন্দর প্রতিবেদন আশা করেন কিন্তু কাজের সময় মূল্যায়নের খবর কেউ রাখেন না!কাউকে ছোট করার জন্যে লিখিনাই তবে অধিকার আদায়ে লিখতে বাধ্য হলাম।

আর সাংঘাতিক নয় সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ আপনি একজন চেয়ার পেয়ে চুপ করে বসে থাকবেন না, আপনার আরেকজন সহকর্মী সেই সুবিধা পেয়েছেন কিনা দেখবেন, জানি অনেক সাংবাদিক ভাই আমার লিখাটি সমর্থন করবেন আবার কিছু কিছু সাবাদিক আমাকে কটুক্তি করবেন (যারা এক সময় ছোট পত্রিকায় থেকে এখন নামীদামী পত্রিকায় আছেন) তাই বলছি যে কোন পোগ্রামে উপযুক্ত সম্মান না পেলে তাদের নিউজ কভারেজ বয়কট করুন হোক সে আকাশ চুম্বী নেতা, তাতে সাংবাদিকদের কিছুই আসে যায় না।

আর নেতাদের প্রতি অনুরোধ আপনাদের কর্মীদের অনুষ্ঠানের সময় আমাদের একটু সুযোগ দিতে বলবেন, দেখা যায় আপনারা বক্তব্যে দেয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে তাদের সরতে বললে চোখ লাল করে কি যেন বলতে চায়, কিন্তু তারা হয়ত অতিরিক্ত আনন্দে, আশেক মাশুকের প্রেমে মত্ত হয়ে কলমের শক্তির কথা ভুলে যায়, মনে করে সাংবাদিকরা মানুষ নয় শুধুই সাংবাদিক।

আমাদের লেখনির মাধ্যমে তারা নেতা হয় কিন্তু আমাদের দিকে তাকায় কোণা চোখে, যেন করুণার পাত্রের মত, তাই চুপ থাকার দিন শেষ যে যার অবস্থান মত প্রতিবাদ করুন, অধিকার আদায়ে এক হোন।

কষ্ট নিয়ে লেখা?বাংলাদেশে  সাংবাদিকতায়: দুঃসাহসী অভিযানে বাধা কোথায়?

‘‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য দরকার সাহস, যোগ্যতা, কমিটমেন্ট এবং সততা৷ এছাড়া দরকার সংবাদমাধ্যম-এর সমর্থন ও সহযোগিতা৷সত্য প্রকাশে উন্নত মম শির।  সাংবাদিকতার সংজ্ঞা হিসেবে উইকিপিডিয়াতে বলা হয়েছে যে ,

“সাধারণত: সাংবাদিক বা নিউজম্যান শব্দটি দ্বারা যে ব্যক্তিকে বোঝানো হয় তার পেশা হলো সাম্প্রতিক ঘটনার ওপর তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পত্রিকায় ও ম্যাগাজিনে লেখা অথবা রেডিও, টেলিভিশনে সংবাদ সম্পাদনা করা ও প্রকাশ করা।

ব্যাপক অর্থে, সাংবাদিকতা শব্দটিতে সংজ্ঞাভূক্ত করা যায় বিজ্ঞাপন এবং জনসংযোগ কর্মী ও গণযোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত পেশাজীবী ব্যক্তিদের।বিখ্যাত ব্রিটিশ-আইরিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক (১৭২৯-১৭৯৭)-এর মতে, “সাংবাদিকরা হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ ইন্দ্রিয়”। আর সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট একবার বলেছিলেন, “আমি ৪টি সংবাদপত্রকে ১ লক্ষ বেয়োনেটের চেয়েও বেশি ভয় করি!”

যে-কোন দেশ-জাতি-সমাজের জন্য সংবাদপত্র একটি দর্পন-স্বরূপ, যাতে আমরা মানব-জাতির কল্যাণের একটি দিক-নির্দেশনা লাভ করতে পারি |কিন্তু মাঝে মাঝে সংবাদ কর্মীদের ত্রুটি বিচ্যুতিগুলি অনেক সময় সমাজ এবং ব্যক্তি বিশেষের জীবনকে বিষিয়ে তোলে।

প্রবাদে আছেঃ “ডাক্তারগণ তাদের ভুলকে সমাধিস্থ করেন, উকিলরা তাদের ভুলকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলান; আর সাংবাদিকরা তাদের ভুলকে পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাঁপিয়ে দেন!” এবং এর ফলাফল কি হতে পারে তা আমরা দেখতে পাই প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মার্ক টোয়েনের লেখাতে, তিনি বলেছলেন।

“একটি সংবাদপত্র কেবল সংবাদ প্রকাশেরই নয়, বরং পাঠককে সেই বিষয়ে কিছু করার জন্য উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমও বটে"তবে এ কথা সত্য যে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। এ সম্মানটুকু বজায় রাখার দায়িত্বও সাংবাদিকদের।

আমাদের সমাজে এ পেশার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে সমাজের প্রতি, মানুষের প্রতি তারও কিছু দ্বায়বদ্ধতা রয়েছে।এ দ্বায়বদ্ধতা নিয়ে মহান পেশাতে নিয়োজিত থেকে সমাজের মানুষের জন্য, ভালো কিছু করার সদা সচেষ্ট থাকাই হচ্ছে সাংবাদিকতার নৈতিকতা। 

নীতিবোধ ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এ পেশাকে কলংকিত করা প্রকৃত সাংবাদিকের কর্তব্য নয়।নৈতিকতা ও নীতিবোধের মধ্যে থেকে সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করাই সাংবাদিকের কাজ।আমাদের ভুলে গেলে চলবে না সাংবাদিকতা পেশা ব্যবসা নয়। সমাজের সঠিক তথ্যচিত্র তুলে এনে জনগণকে সরবরাহ করাই সাংবাদিকতার নৈতিকতা।

সব পেশারই একটি দায়বদ্ধতা আছে। প্রশ্ন আসতে পারে সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা কোথায় এবং কার কাছে ?একজন রাজনীতিকের দায়বদ্ধতা তার জনগণের কাছে , শিক্ষকের দায়বদ্ধতা তার ছাত্রের কাছে, ডাক্তারের দায়বদ্ধতা তার রোগীর কাছে তেমনি সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা তার পাঠকের কাছে।

রাজনীতিবিদরা যেমন জনগণের সাথে প্রতারণা করতে পারেন না, শিক্ষকরা যেমন তার ছাত্রকে অনৈতিক শিক্ষা দিতে পারেন না, তেমনি সাংবাদিকরা তার ভোক্তাকে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করতে পারেন না। এটি নৈতিকতা বিবর্জিত।

সমাজ থেকে সঠিক, নির্ভূল ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ সংগ্রহ করে পাঠকের সামনে তুলে ধরা একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়ীত্ব ও কর্তব্য।এটিই তার নৈতিকতা। আর এজন্যে পাঠকের কাছে সাংবাদিকদের রয়েছে দায়বদ্ধতা।

একজন রিপোর্টার অসীম সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে মুক্তো আরোহণ করতে পারেন এবং করতে পারেন তার প্রদর্শনীও কিন্তু তাকে চিন্তা করতে হবে সেই প্রদর্শনী সমাজ কিভাবে গ্রহণ করবে।সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে যেমন সীমারেখা থাকা উচিত তেমনি সংবাদ সরবরাহের ক্ষেত্রেও একটা সীমান্ত থাকা উচিত।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না সাংবাদিকতা হচ্ছে একটি সেবামূলক পেশা।এ পেশায় স্বাধীনতা থাকতে পারে কিন্তু স্বেচ্ছাচারিতা থাকা বাঞ্চনিয় নয়।জনগণকে তথ্য সরবরাহ করার ব্যবসায়ীক মনোভাব পরিত্যাগ করা উচিত।সুস্থ্য জাতি ও সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের হতে হবে সচেতন ও দ্বায়ীত্বশীল।

আর সেই সাথে থাকতে হবে সততা, নিষ্ঠা ও সত্য বলার সৎ সাহস। আমরা সচরাচর বলে থাকি সাংবাদিকরা হচ্ছে জাতির বিবেক, সমাজের দর্পন। বাস্তবে কি তাই ?

এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে যে মিথ্যা তথ্য সরবরাহের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, এটি অত্যন্ত মর্মবিদারক।ন্যায় নীতি ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে মহান এ পেশাকে কলুষিত করা কোনো সাংবাদিকের উচিত নয়।মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্প তৈরী করা সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না , সংবাদের প্রয়োজনে ঘটনা তৈরী করা সাংবাদিকের নৈতিকতা নয়।

মনে রাখতে হবে সংবাদের প্রয়োজনে ঘটনা সৃষ্টি হয় না সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিই সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়।এর সাথে এটাও মনে রাখা উচিত কুকুর মানুষকে কামড়ালে সেটা কোনো সংবাদ হয় না, কিন্তু মানুষ কুকুরকে কামড়ালে সেটা সংবাদ হিসেবে পরিবেশন করা যায়! একজন সাংবাদিকের রাগ অনুরাগ বা বিরাগ থাকতে নেই এসবের উর্ধে উঠে কাজ করলেই তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।নৈতিকতা বিবর্জিত সাংবাদিকতা সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।

পেশাগত দ্বায়ীত্ববোধ ব্যতিরেকে সাংবাদিকতা সমাজে মূল্যহীন।সত্যিকার অর্থে একজন সাংবাদিক যখন কোনো বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরী করবে তখন তাকে নিরপেক্ষ ভাবে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে রাগ অনুরাগের উর্ধ্বে উঠে বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।এতে করে সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

সমাজে একজন সাংবাদিকদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে তা বিসর্জন দিলে আর কোনো মূল্য থাকবে না।সমাজে দায়বদ্ধতা নিয়ে একজন সাংবাদিক সততা ও নিষ্ঠার সাথে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করে জনগণের সামনে তুলে ধরবে।

সাংবাদিকদের এরকম তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করে জনসমক্ষে প্রকাশ করলে সহজেই যে কেউ অনিয়ম, দুর্নীতি করার সাহস হারিয়ে ফেলবে।এতে করে প্রকাশ পাবে একজন সাংবাদিকের সৎ গুণাবলী। নৈতিকতা ঠিক রেখে সামাজিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে এ পেশা চালিয়ে যাওয়াই হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকতা।

কারণ জাতি একজন সাংবাদিকের ওপর অনেক কিছু আশা করে।জনগণের আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটার জন্য সাংবাদিকদের হতে হবে সৎ ও নির্ভিক কলম সৈনিক।মনে রাখতে হবে সংবাদপত্র হচ্ছে জনস্বার্থের অতন্ত্র প্রহরী। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার সহায়ক শক্তি।

তাই ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন রচনা করে জনগণের এ মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত করা সাংবাদিকের কাম্য নয়। দেশ ও জাতি গঠনে সাংবাদিকের ভূমিকা অপরিসীম।বিভ্রান্তি ও উস্কানিমূলক কোনো প্রতিবেদন তৈরি করে জনসমক্ষে প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যেমন ঠিক নয় তেমনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানাও কোনো সাংবাদিকের কাজ নয়।তথ্য জানা জনগণের মৌলিক অধিকার।কিন্তু জনগণকে ভুল তথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্ত করা একটি অপরাধও বটে।

সাংবাদিকতার জগতে সৎ পেশাদারি সাংবাদিকতার বিপরীতে হলুদ সাংবাদিকতা জন্ম নিয়েছে। এ হলুদ সাংবাদিকতা আজ সমাজে কালো ছায়া ফেলেছে।হলুদ সাংবাদিকদের এমন কিছু কার্যকলাপের জন্য গোটা সাংবাদিক সমাজ সমাজের কাছে আতঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত।সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে তা প্রতিটি সংবাদকর্মীকে বুঝতে হবে। এ দ্বায়বদ্ধতার কারণে এ পেশা আজ সমাজের চোখে মহান পেশা।

পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিটি সংবাদকর্মীকে কাজ করতে হবে। সামাজিক দৃষ্টিতে মহান ও সম্মানজনক এ পেশাকে সমাজের কাছে চির উন্নত রাখাই সাংবাদিকদের কর্তব্য।

সমাজে মানুষ যখন এক শ্রেণির লোকদের দ্বারা অত্যাচারিত ও নিষ্পেষিত হয়ে কোথাও কোনো বিচার না পায় তখন বাধ্য হয় সাংবাদিকদের নিকট শরণাপন্ন হতে।তখন নিষ্পেষিত ওই লোকটির সাংবাদিকই একমাত্র ভরসা। সাংবাদিকতাই হোক আর অন্য যে কোনো পেশাই হোক নীতিবোধে অটল থাকাই বাঞ্চনীয়।

একজন পেশাজীবীর নৈতিকতা বিসর্জন দিলে তার আর কিছুই থাকে না। সংবাদ পরিবেশনায় বিভ্রান্তি বা উস্কানির কোনো গ্রহণ যোগ্যতা নেই।এজন্য একজন সাংবাদিককে হতে হবে দ্বায়ীত্বশীল সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্ব। আর থাকতে হবে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নৈতিকতা।এখন অনেকেই বলছেন এখন তথ্য ব্যবসার যুগ। সাংবদিকতা ম্রিয়মান। বিষয়টা সাংবাদিকদের অনেকেই বুঝতে পারলেও তারা কিছুই করতে পারছেন না।

সাংবাদিকতার মানসে নয়-শুধু মুনাফার লক্ষে। মুনাফা আর্থিক এবং ব্যবসায়িক, ও প্রভাব বিস্তার।রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণ বা নিজের সুবিধা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করা এখন মিডিয়া মালিকের প্রধান উদ্দেশ্য।এটাকে তাই বলা হচ্ছে তথ্য ব্যবসা।

এতে পাঠকও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।সাংবাদিকতা ও তথ্য ব্যবসার একটি সরল সোজা পার্থক্য হল: তথ্য ব্যবসায় তেমন দায়িত্ব নেই, কিন্তু সাংবাদিকতায় দায়িত্ব রয়েছে।যে-খবর মানুষ বেশি পড়বে বলে মনে হয় তা প্রকাশ করাই তথ্য ব্যবসা। আর খবর প্রকাশের পর এর কী প্রভাব সমাজের ওপর পড়বে সেটি ভেবে সংবাদ প্রকাশ করা হল সাংবাদিকতা।

প্রশ্ন হল সামাজিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্য ছাড়া তথ্য ব্যবসাকে কী সাংবাদিকতা বলে আখ্যা দেয়া যায়?সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়িত্ব বা দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গটি বিংশ শতাব্দীতে সারাবিশ্বে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।রয়েল কমিশন অন দ্য প্রেস (১৯৪৯- গ্রেট বৃটেন) এবং আ ফ্রি এন্ড রেসপন্সিবল প্রেস (১৯৪৭-ইউএসএ) রিপোর্ট দুটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে জনগণের সামনে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের উদ্বুদ্ধ করে।

এই সময় সাংবাদিকতা পেশাকে আদর্শবাদের আলোকে দেখতে শুরু করেন সাংবাদিকরা।তবে ভারতে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আদর্শবাদি সাংবাদিকতার সূত্রপাত ঘটে উনবিংশ শতাব্দীতেই।যারা এখনো কেবল তথ্য ব্যবসার জোয়ারে পুরোটা ভেসে যাননি, তাদের টিকে থাকার ওপরই নির্ভর করছে সাংবাদিকতার মর্যাদা।

সাংবাদিকদের অনেক সময় দুঃসাহসী অভিযানের মাধ্যমে অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিয়ে খবরের পেছনের খবর বের করে এনে দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরতে হয় ।এ কারণে তাদের অনেক বাঁধা বিপত্তি ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়।অনেক সময় সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে গিয়ে বিপদ ও জীবন নাশের হুমকির সন্মুখীন হতে হয়।

এত ঝুঁকির পরও অবিরাম গতিতে চলে সাংবাদিকতা।নানা পিচ্ছিল পথ অতিক্রম করে চলতে থাকে সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড।যে কারণে বলা হয়ে থাকে এ যেন দিগন্ত জয়ের দুরন্ত নেশার স্পর্ধিত তারুণ্যের দুঃসাহসী অভিযান।

এইবেলাডটকম/এফএআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71