বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইদের রক্ত শুষে নিচ্ছে কারা?
প্রকাশ: ১১:২১ am ১০-০৪-২০১৬ হালনাগাদ: ০২:৫৪ am ১১-০৪-২০১৬
 
 
 


চন্দন সরকার ||

বেশ কিছুদিন আগে International Youth Forum এর ডিরেক্টর Ruslan এসেছিলেন ঢাকায়। তাকে তুলে দিতে গিয়েছিলাম এয়ারর্পোটে। তখন দেখলাম এক দীর্ঘ লাইন আমাদের শ্রমিক ভাইদের। লাইন দেখে Mr. Ruslan আমাকে বললেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল বড় অবদান এই শ্রমিকদের। আমি শুধু বললাম, ‘অবশ্যই, কিন্তু এদের ভাগ্য মোটামুটি একই।’ সে বলল, ‘কেন কেন?’ উত্তরে বললাম, ‘তোমার চেক আপের সময় হয়ে গেছে।’ কেন’র উত্তরটা বলা হয়নি। হয়ত কোনদিনই বলা হবে না Ruslan কে। বাস্তবতাটা ভিন্ন!

আমরা প্রায়ই একটি কথা শুনি এবং শুনতে শুনতে অভস্ত হয়ে পড়েছি যে, আমাদের শ্রমজীবী ভাইদের যদি আরও বেশী বেশী বিদেশে পাঠাতে পারতাম তাহলে প্রচুর বিদেশী মুদ্রা আমাদের ঘরে আসতো এবং আমদের দেশের দা্রিদ্র্য দূর হয়ে যেতো। জিনসটাকে এক ভাবে দেখলে যুক্তির কথা বটে এবং এটা করা অবশ্যই উচিত কিন্তু ব্যপারটাকে যদি আমরা একটু অন্যভাবে চিন্তা করি তাহলে কি দাড়ায়?

ধরে নিচ্ছি গ্রামের এক তরতাজা যুবক নিন্ম বা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে বিদেশ যাবে বলে তাদের গ্রামের যে জমিটা ছিল তা ৩ লক্ষ টাকায় বেঁচে দিল এবং ২ বছরের জন্য তার ভাগ্যের উন্নয়নে বিদেশ যাত্রা করল। গন্তব্য মালেশিয়া অথবা মধ্যপ্রাচ্য। সেখানে গিয়ে সে দিন রাত পরিশ্রম করে ধরে নিচ্ছি ৯-১০ লক্ষ টাকা উর্পাজন করলো (অনেকের ক্ষেতে এটা আরও কম)। এখন আসি দারিদ্র্য কমার মাপকাঠিতে কি দাঁড়ালো তার হিসেবে।

অর্থনীতির ভাষায় যুবকটির বিনিয়োগ ৩ লক্ষ টাকা ২ বছরের জন্য এবং এর জন্য তাদের গ্রামের জমিটুকু বিক্রয় করেছে। আর একজন মধ্যবিত্ত মানুষ যে জমি টুকু বিক্রয় করল পরে তাদের জমি না থাকারই কথা। যুবকটি মধ্যপাচ্যের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ২ বছরের আয় ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছে ৩ লক্ষ টাকা। কাজেই তার আয় দাড়াচ্ছে ৭ লক্ষ টাকায় এবং থাকা খাওয়া বাবদ খরচ প্রতি মাসে ১৫০০০ টাকা যদি ধরি তাহলে (খরচ ২৪*১৫০০০ = ৩৬০,০০০ টাকা) তাহলে যুবকটি আয় দাড়াচ্ছে (৭০০,০০০- ৩৬০,০০০) = ৩৪০,০০০ টাকা । এখন আসি তার বাড়ির খরচ প্রতি মাসের বাজার ঘাট এবং বিদেশে থাকে বলে আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু, বান্ধবদের জন্য বিদেশ থেকে আসার পর একটা খরচ সব মিলিয়ে ধরা যাক আরও ১০০,০০০ টাকা ।

তাহলে আসি নিট মুনাফায় - যুবকটির বিনিয়োগ ৩০০,০০০ টাকা, আর ২ বছরের হাড় ভাঙা খাটুনীর পর হাতে থাকবে (৩৪০,০০০-১০০,০০০)= ২৪০,০০০ টাকা।

এখন আসি, যুবকটির জমিটির বর্তমান মূল্যের দাম কত। প্রতি বছর বাংলাদেশে জায়গা-জমির দাম বাড়ে। আনোয়ার স্যারের মতে ১/৫ গুণ হারে, তাহলে ৩০০,০০০ টাকার জমির দাম হবে ৬৭৫,০০০ টাকা ১ বছর পরে। যুবকটির মধ্যপাচ্য থেকে নিয়ে এলো ২৪০,০০০ টাকা। মোট ক্ষতির পরিমাণ (৬৭৫,০০০- ১৪০,০০০) = ৫৩৫,০০০ টাকা হল যুবকটির মোট ক্ষতি। সে যে হাড় ভাঙা খাটুনি বা পরিশ্রম করলো তা সব ফাও।

বিদেশে যাওয়ার জন্য লাভ আসলে কার? দু বছরের জন্য হিসেবটা নাই করলাম, তাহলে অনেকে বলবে অর্থনীতির লোকতো খালি হিসেব করে ওটা আপনাদের জন্য রেখে দিলাম।

বিদেশে যাবার সময় তার যে জমিটি বিক্রয় হলো তা আসলে কে কিনে নিচ্ছে - তাদের আমরা গ্রামের মোড়ল মামু বলতে পারি। এই মামুই আসলে (Rent Seeker) জমিটি কিনে নিয়ে, আগের চেয়ে বেশী ক্ষমতাবান হচ্ছে এবং গ্রামের দারিদ্র–বৈষম্য–অসমতা বৃদ্ধিতে যোগ করছে এক নতুন মাত্রা। মধ্যপ্রাচ্যের মালিকটি কম মুজুরিতে যা বানানোর বানিয়ে হচ্ছেন বড় মাপের Rent Seeker, আর আমাদের দেশের গ্রামের মামুরা হয়ে যাচ্ছেন দিনে দিনে দাপুটে মামু বা দাপুটে Rent Seeker.

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক এবং নির্বাহী সম্পাদক, এইবেলা ডটকম।

 

এইবেলাডটকম/সিএস/এমআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71