বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
আমার চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়: ইমরান সরকার
প্রকাশ: ০৯:১৯ pm ০৭-০৬-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:১৯ pm ০৭-০৬-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, যেই সব প্রশ্ন করতে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেসব প্রশ্ন শাহবাগে দাড়িয়ে করা যেত। আমি এসে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে গাড়িতে তোলা হয়।

আমার চোখে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং হাতে হাতকড়া পরানো হয়। আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় তা আমি প্রথমে বুঝিনি, পরে সেখান থেকে ফেরার পথে বুঝতে পারলাম কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইমরান এইচ সরকার একথা জানান।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, বুধবার (৬ জুন) যেই ঘটনা ঘটেছে, যেই প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা কোনও ভাবেই কাম্য নয়। কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়া সিনেমাটিক স্টাইলে নিয়ে যাওয়াও কাম্য নয়।

তারা আমাকে মাদক বিরোধী অভিযানের যৌক্তিকতা বুঝাতে চেয়েছেন। আমিও তাদের বলেছি আমরা মাদকের বিরুদ্ধে, আমি এও বলেছি কেন আমরা বিচার বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে। অভিযানের প্রতি আমাদের শতভাগ সমর্থন আছে। কিন্তু অভিযানের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোন ভাবেই কাম্য নয়। বিচার করতে চাইলে সরকার আলাদা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করেও করতে পারে।

ইমরান আরও বলেন, শাহবাগে সমাবেশের অনুমতি আমাদের আগে থেকেই নেওয়া ছিল। পুলিশ কমিশনার এবং শাহবাগ থানায়ও অবহিত করা হয়েছিল। সমাবেশের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন করা র‍্যাবের এখতিয়ারে নেই। পুলিশ চাইলে অনুমতির ব্যাপার খতিয়ে দেখতে পারে। 

ইমরান অভিযোগ করে আরও বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে র‍্যাবের অংশ আছে। কারণ বেশিরভাগি র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। এখন ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তারা তুলে নিয়ে গেছে কিনা এটাও একটা প্রশ্ন। কারণ তারা আমাকে সেখানে নিয়ে যা প্রশ্ন করেছে এগুলো শাহবাগে দাড়িয়ে করা যেত। অযথা হামলা করে আহত করে সমাবেশ করতে না দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা আমি দেখিনা। নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্র নেতাদের যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যেভাবে পিটানো হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব, প্রতিবাদ করা নাগরিকের সমাবেশে যদি বাঁধা দেওয়া হয় সেটা খুবই দুঃখজনক। আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই, কোনও মামলা নেই তারপরও আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের ঘোষিত সমাবেশের আগেই মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে কোনও প্রকার ওয়ারেন্ট ছাড়াই আটক করে নিয়ে যায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছয় ঘণ্টা আইন বহির্ভূতভাবে তাকে আটক রেখে রাত ১১টায় ছেড়ে দিলেও, যথাযথ অনুমতি থাকা সত্ত্বেও গণজাগরণ মঞ্চের বিকেলের সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। 

একদিকে রাষ্ট্রের সংবিধান ও সুনির্দিষ্ট আইনের তোয়াক্কা না করেই মাদক বিরোধী অভিযানে একের পর এক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক সংগঠিত এই অপরাধের প্রতিবাদ যারা করছেন তাদের ওপর নেমে আসে রাষ্ট্রীয় খড়গ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ ধারা অনুযায়ী সমাবেশ করার অধিকার সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ‘মৌলিক অধিকার’ অংশ দ্বারা রক্ষা করা হয়েছে। গতকাল শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের পূর্ব ঘোষিত সমাবেশের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছিল। তারপরও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অস্ত্রের জোরে যেই তান্ডব চালিয়েছে তা নজিরবিহীন।

তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু রাষ্ট্র তার সিদ্ধান্ত কখনই আইন বহির্ভূত ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে না যাওয়ার কারণে বড় বড় অপরাধিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। 

সুনির্দিষ্ট আইন থাকার পরেও বিনা বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এসব প্রশ্ন করা আমাদের অধিকার। বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড কোন সভ্য দেশে ঘটতে পারেনা। মাদক ব্যবসায়ীদের যেসব সিন্ডিকেটের কথা আমরা গণমাধ্যমে জানতে পারি তাতে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে রাঘব বোয়ালদের নাম যেন প্রকাশিত না হয় সে কারনেই কি বিনা বিচারের হত্যাকাণ্ড ?

মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, আমরা দেখেছি বিশ্বের সব জায়গায়তেই মাদক বিরোধী অভিযানে রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু অভিযানের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করা যাবেনা। অপারেশন সার্চ লাইটের সময় থেকে আমরা বলছি বিচারিক আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। 

সরকারের কি বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা নেই? বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা সকল নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। গতকাল নাটকীয় ভাবে হ্যান্ড শেক করার বাহানায় ইমরান এইচ সরকারকে ধরে নিয়ে গেছে। পত্রিকায় র‍্যাবের বক্তব্য দেখলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। র‍্যাবের এখতিয়ারে নেই সমাবেশের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার। সেটা পুলিশের কাজ। কালকে ইমরান এইচ সরকারকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সারা দেশ থেকে যেই পরিমাণ চাপ এসেছে সেই কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মাদক বিরোধী অভিযানের পক্ষে, কিন্তু বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড আমাদের সংবিধান পরিপন্থী। ইমরান ধরে নিয়ে গেলেও কিন্তু আমরা ভীত হচ্ছিনা, আমাদের সংগ্রাম চলমান থাকবে।

এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।সূএ: পূর্ব-পশ্চিম

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71