সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০
সোমবার, ২৯শে আষাঢ় ১৪২৭
সর্বশেষ
 
 
আমার জীবনের গল্প: যশোদা জীবন
প্রকাশ: ১১:৩৭ pm ২৫-০৫-২০২০ হালনাগাদ: ১১:৩৭ pm ২৫-০৫-২০২০
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আমার ছোট বোনের নাম বন্দনা। স্বদেশ ওর বরের নাম, খুবই আন্তরিক। ওদের বিয়েতে যৌতুক হিসাবে কিছুই দেই নাই বা কিছু চায়ও নাই। ফরিদপুর থাকা কালীন সময়ই ওকে হটাৎ করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। তখন আমি শচীন সাহার বাড়িতে থাকতাম। বন্দনার বিয়ের সময় অর্থের অভাবে বাড়িতে পর্যন্ত অনুষ্ঠান করতে পারিনি, ছেলের বাড়ীতে উঠিয়ে এনে বিয়ে দিয়েছি, এটা একটা বিরল ঘটনা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। ছেলের বাড়ি থেকেও মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছে। মহত্বের পরিচয় দিয়েছের ছেলের ছোট বোনের স্বামী খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ। আমার বোনের বিয়ের সমস্ত কেনাকাটা এমনকি সোনাদানা কিনে বলেছেন এগুলো মেয়ের বাড়ি থেকে দিয়েছে যাতে আমাদের সম্মানহানি না হয়। শচীন সাহার বাড়ী থেকে বোনকে উঠিয়ে দিয়েছিলাম, শচীন সাহা, উনার স্ত্রী যাকে আমি মাসীমা বলি, স্বপন দা উনার বড় ছেলে ভীষন ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অমিতের বাবা মা যাকে আমি আমার ধর্ম বোন ভগ্নিপতি বলি। অমিতের বাবা মা শুধু উপকারিই নয় বন্দনাকে যখন নারায়ণগঞ্জে ছেলের বাড়িতে নিয়ে আসি, তারা সাথে এসে নিজ হাতে বিয়ের কাজটা সম্পাদন করে গেছেন। তাদের আন্তরিকতায় আমরা চিরকৃতজ্ঞ ও মুগ্ধ। শচীন সাহার বড় ছেলে স্বপন দাও এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জে। তাদের সহযোগিতার কথা আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। নারায়ণগঞ্জে বোনের বাড়িতে গেলে মনে হয় না আমি কোন আত্মীয়র বাড়িতে এসেছি। নিজের বাড়ির মতোই থাকতাম। রাতে বাড়িতে জাগা হতো না বলে আমি ওদের গদি ঘড়ে ঘুমাতাম। দুই এক বার বাবুলও ঘুমিয়েছে ঐ গদি ঘরে। বন্দনা'রা ভাড়া থাকতো তালুকদার বাড়িতে। ঐ বাড়ীর বড় একটা ছাদ ছিলো, সবাই বিকালে ঐ ছাদে হাটাহাটি করতো আমি গেলেও সেটাই করতাম। তখন আমার উটতি বয়স, কতো আর হবে ২৭ বা ২৮ বছর, দেখতে শুনতে মনে হয় খারাপ ছিলাম। তখন আইটির কাজ যারা করে, তাদেরকে স্মার্ট কাজ হিসাবে গন‍্য করতো আর আমি সেই আইটির কাজটিই করি। আমি তখন একটেলের ০১৮১৯ এই সিরিয়ালের মোবাইল ফোন ব‍্যবহার করতাম। তখন মোবাইল ফোনের ব‍্যবহারও ছিলো খুব কম আর নেটওয়ার্কের ব্যবহার ছিল ছোট পরিসরে, তখন আমার সাথে থাকতো কমপ‍্যাক ব্রান্ডের একটি ল‍্যাপটপ যা নিয়ে আমি প্রায়শই বিকালে বিল্ডিং এর সাদে বসে কাজ করতাম অথবা ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে গান শুনতাম।

আমি হর হামেশায়ই বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে চলে যেতাম। একদিন আমি বিকালে বিল্ডিং এর সাদে বসে ল‍্যাপটপ খুলে গান শুনছিলাম, হটাৎ করে সাদে দেখলাম তিন চারটি মেয়ে আমাকে দেখে হাসাহাসি করছে। মাঝে মধ্যে আমি আড় চোখে দেখলাম ওরা সত্যি আমাকে দেখেই হাসছে। ওদের চিনতে পারলাম না, তাই ওদের সাথে কথা বললাম না। রাতে ওদের বন্দনাদের বাসায় দেখলাম, ছোট বোনের বাসায়, আমি ওদের দেখে একটু রিজার্ভ থাকলাম, থাকতেই হয় ছোট বোনের বাসায় আমি। আমি একটু আড় চোখে দেখলাম ওদের, মেয়ে গুলি ভিশন মিষ্টি স্বভাবের, জানতে পারলাম ওদের নাম- সোমা, ঝুমা, রিক্তা, সিক্তা। সোমা, ঝুমা ইন্ডিয়াতে পড়াশুনা করে আর রিক্তা, সিক্তা ঐ বিল্ডিং এ ভারা থাকে। আমি সুজিতের কাছে জানতে চাইলাম ওদের পরিচয়, ওহ সুজিত বন্দনার ভাসুরের ছেলে। সুজিত বলল সোমা, ঝুমা তালুকদার বাবুর মেয়ে, ওরা ইন্ডিয়া পড়াশুনা করে আর রিক্তা, সিক্তা ওরা ভারাটিয়া। ওদের সাথে তেমন কোন কথাই হলো না পরিচয় পর্বও আমার। পরের দিন অফিস থাকায় সকালে আমার ঢাকায় চলে আসতে হলো। কিন্তু সমস‍্যা হলো সন্ধ্যায়, হটাৎ করে টিএনটি লাইন থেকে একটা ফোন আসলো আমার, কোন এক মেয়ের কন্ঠস্বর, দুই তিন মিনিট পর পর কণ্ঠস্বর চেঞ্জ হচ্ছে, কখনও রোমান্টিক আবার কখনও বা ইমোশনালি কথা, কিন্তু পরিচয় দিচ্ছে না। এক একটা কন্ঠস্বর পাঁচ মিনিটের উপরে না, আমি যেনো একটি গোলক ধাঁধার মধ্যে পড়লাম। এই রকম চলতে থাকলো সারা রাত, দিনের পর দিন, এমনকি পুরো সপ্তাহ, নরমালি ফোন গুলো আসে রাত দশটার পরে, কথা চলতে থাকে ভোর চারটা বা পাঁচটা পযর্ন্ত। কোন অবস্থাতেই বুঝতে পারছি না কে ফোন করছে। আর ও পাশ থেকেও ডিটারমাইন্ড, কোন পরিচয় দিবে না। এই রকম চলতে থাকলো দুই সপ্তাহের উপরে। আস্তে আস্তে আমি ঐ ফোনের আসক্ত হয়ে পরলাম। ফোন আসতে কখনো দেরি হলে খারাপ লাগতো আমার।

আমার ভিতরের পরিবর্তন মনে হচ্ছে, আমি যদি এভাবে ব‍্যাখ‍্যা করি আমার অনুভূতি কথা যেমনটি মনে হচ্ছে- নতুন প্রেমে পড়ার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। হয়তো একে স্বর্গীয় সুখের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। মনে হলো ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিতে চাই পৃথিবীময়। আবার মনে ব্যতিক্রমও হতে লাগলো। আবার মনে হয় ভালোবাসার কথা পেটের ভেতরেই রেখে দেই। এ যেন এক অন‍্যরকম অনুভূতি, যাই হোক না কেন, প্রেমের আগমন ঘটতে চলছে চাইলেও বুঝি ঠেকানো যাচ্ছে না। আবার মনে হচ্ছে আবেগের বসে কোন ভুল সিধান্ত হয়ে যায় কি-না? ভুল কাজ হয়ে যাচ্ছে বার বার, আবার মনে হচ্ছে সদ্য হওয়া প্রেম ছোট্ট একটা চারা গাছের মতোই। আমার মনের গভীরে ব্যাকুলতা কাজ করছে। কথা বলার ব্যকুলতায় মন ধুক ধুক করছে। মনে হচ্ছে নিজের ব্যক্তিত্ব খাটো হয়ে যাচ্ছে। শুধুই তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে।

আমি জানি না এটা কিসের পূর্বাভাস? অন‍্যরকম অনুভূতি দোলা দিচ্ছে মনে। কিছুতেই বুঝতে পারছিনা কে ফোন করছে? কখনই মনে পরে না ঐ কন্ঠস্বরের সাথে আমি পূর্বে কথা বলেছি। এদিকে আসতে আসতে একাধিক কন্ঠস্বর কমতে লাগলো, একটি কন্ঠস্বরই কথা বলতে থাকলো আমার সাথে, দিনের পর দিন বলতে বলতে কন্ঠস্বরটি আমার মুখস্ত হয়ে গেলো। কখনো রোমান্টিক, কখনো আবেগ আবার কখনো বা অভিমান সব মিলিয়ে এক স্বপ্নের জগতে যেনো চলে যেতাম। এরকম চলছে আরো এক দুই সপ্তাহ। হটাৎ করে বৃহস্পতিবার আমি বন্দনাদের বাড়ি গেলাম। আমি ওদের ড্রয়িং রুমে বসা, ঐ তিন চারটি মেয়ে বন্দনাদের পাশের রুমে গল্প করছে, হটাৎ করে কানে বেজে উঠলো একই কন্ঠস্বর যার সাথে আমি কথা বলি রাতের পর রাত। ডাক দিলাম ওদের চার জনকেই, ওদের সবারই মুখ বন্ধ, কথা বলেছে না কেউ, যেন সবাই বোবা হয়ে গেছে। একটা হাসির কথা উঠালাম আর ওরা খিল খিল করে হেসে উঠলো, দুই একটি কথা বলতেই বুঝে ফেললাম প্রথম দিকে ওরা চার জন‍ আমাকে বোকা বানানোর জন‍্য কথা বলতো পর্যায় ক্রমে সবাই। পরে যে কথা বলতো সে সোমা যে আমার সামনে বসে আছে। ধরে ফেললাম ওদের চালাকি। বিকালে সাদে গেলাম ওর সাথে দু-এক বার কথাও হলো ওরা কলকাতা কোথায় থাকে সেটা জানতে। কলকাতা পড়াশুনা করে ওরা, বড় বোন ওখানে বিয়ে হয়েছে, ওর মা সহ ওরা ওখানে থাকে। কলেজ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে এসেছে। আগামী মাসে চলে যাবে। চলে যাওয়ার কথাটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তেমন কোন কথাই বলতে পারলাম না। পারলাম না ফোনে যে কথা হয় ঔ কথাগুলো উঠাতে। পরের দিন অফিস থাকায় চলে আসতে হলো ঢাকায় কিন্তু মনটা পরে রইলো নারায়ণগঞ্জে।

অফিসে এসে কাজে মন দিতে পারছিলাম না, বোরহান ভাইকে বলে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় ভালো লাগছিল না, ওর সাথে যে কথা বলবো তারও উপায় নাই কারন ফোনটি ওর বাবার অফিসে এবং ফোনটির এক্সটেনশন নাম্বার ওদের বাসায়। ফোন করলেই অফিসে ওর বাবা ধরে। তাই ওকে একটা চিঠি লিখলাম আমার ল্যাপটপে, যেহেতু বাংলা ফ্রন্ট নাই তাই লেখাটা হলো ইংরেজিতে, পুরা A4 সাইজের পেজে। চিঠিতে আমার আবেগ, ইমোশন, ভালোলাগা সবকিছু মিলে এক ভরপুর প্রেম পত্র। রাতে ও ফোন করলো আমায়, কথা হলো অনেক, ওকে বললাম তুমি একটু তোমার বাবার অফিস রুমে যেতে পারবে। অফিস রুমটি বাসার নিচ তলায়। ও বলল কাউকে নিয়ে যাই। আমি না বললাম, বললাম তুমি একাই যাও, বলতে বলতে আমি আমার ভুতের গলি বাসার নিচে চলে আসছি ফ‍্যাক্স ফোনের দোকানে, ও ইতিমধ্যে অফিসে ঢুকে পড়েছে, আমার চিঠি'টি ওকে ফ‍্যাক্স করে দিলাম। ফোনে কনর্ফাম করলাম, ও পেয়েছে। আরও কিছু কথা বলে শেষ করলাম। জানি না বাসায় ঐ চিঠি নিয়ে কি হয়েছিল, ওর থেকে চিঠি'টা নিয়ে ওর বৌ'দি ওর বাবার কাছে দিয়েছে (পরে শুনতে পেরেছি)। ওর বাবা চিঠি দেখে হয়তো পজিটিভ ভেবেছে তাই পরের দিন আমার ছোট বোনকে ডেকে নিয়েছে, আমার সম্মন্ধে খোঁজ খবর নিয়েছে আর বলল আমাকে তার সাথে দেখা করতে। বন্দনা যথারীতি আমাকে বলল, তালুকদার বাবু তোকে দেখা করতে বলছে, কথা শুনা মাত্র আমার বুকের মধ্যে কম্পন শুরু হয়ে গেলো, ইতিমধ্যে আমিও শুনে ফেলেছি, আমার ঐ চিঠি'টা তালুকদার বাবু দেখে ফেলেছে। ভয়, দুশ্চিন্তা আবার একটু সাহস মনে মনে জুগিয়ে তার সামনে হাজির হলাম, উনি আমাকে বসতে বললেন, চা দিতে বললেন, মনে একটু স্বস্তি পেলাম, স্বস্তি পেলাম এই ভেবে যে, উনি আর চিঠির কথা উঠালেন না। আমার সম্মন্ধেই সব কিছু জিজ্ঞেস করলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলেন, বাড়ীতে কে কে আছে জানতে চাইলেন? কথা বলে আমি চলে আসলাম ঢাকায়। রাতে বন্দনা বলল, তালুকদার বাবু তোকে পছন্দ করেছে, উনি বাবার সাথে কথা বলতে চায়। এদিকে বাবা থাকে গ্রামে, উনি ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জে আসতে চান না। বাবা'কে ঢাকা আসার জন‍্য বললাম আর এদিকে আমার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী কর্মকার এক্সেল টেকনোলজি লিমিটেড এর ব‍্যবস্হাপনা পরিচালক, উনাকে রাজি করলাম বাবার সাথে যেতে, অন্তত কর্মকার বাবু তালুকদার বাবুর সাথে কথা বলতে পারবে। মেয়ে দেখার দিন ধার্য‍্য হলো শুক্রবার। যেতে রাজি হলেন কর্মকার বাবুও। বাবা মেয়ে দেখে হাতে কি দিবে এই নিয়ে চিন্তা করছি। চিন্তা এই ভেবে ঐ মেয়ের হাতে তো টাকা দেওয়া যায় না। তাই সোনার দোকানে যেয়ে ভরি দুয়েক ওজনের একটি চেইন কিনে ফেললাম। মনে হলো এটাই একটি উত্তম উপহার হবে যা ঐ মেয়ের হাতে দেওয়া যায়। দেখতে দেখতে চলে আসলো শুক্রবার, বাবা আগের দিনই ঢাকা চলে এসেছে। কর্মকার বাবুও রেডি হয়ে গেছে সকাল এগারোটার মধ্যে, উনাদের রওনা করে দিয়ে আমি বাসায় ফিরে এলাম আর অপেক্ষা করলাম মেয়ে দেখার পর্বটা যেনো সুন্দর ভাবে মিটে যায়। আমি একটা কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম যে কর্মকার বাবুকে পাঠিয়েছিলাম আমার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার জন‍্য আর উনি মেয়ের বাবা তালুকদার বাবুর কাছে আমার বিপরীতে উল্টা পাল্টা কথা বলছে। উনাকে তালুকদার বাবু ঐ ধরনের লোক হিসাবেই চিনতেন, আর চিনতেন বলেই তার কথা পাত্তা দেন নাই। দুপুরে মেয়ে দেখার পর্ব যথারীতি শুরু হলো বাবার মেয়েকে পছন্দ হলো। মেয়ে দেখে হাতে কিছু দিতে হয় আর যেটা আমি আগেই কিনে বাবার হাতে দিয়েছিলাম যেনো মেয়েকে দেখার পর দেয়, বাবা সেটাই করেছে, মেয়ে দেখার পর সোনার চেইনটি ওর হাতে দিলো, আর সাথে সাথেই পাশের মহিলারা এক যোগে উলুরধনি দিয়ে উঠলো, পরিবেশটাই অন্যরকম হয়ে গেল, সবার কাছে যেনো মনে হচ্ছে এটা সাধারণ মেয়ে দেখা না যেনো আশির্বাদ পর্ব হচ্ছে। তালুকদার বাবু হটাৎ করে রাজি হয়ে গেলেন, দিয়ে দিলেন বিয়ের সম্মতি, জরুরি ভাবে আমাকে ডেকে নেওয়া হলো, পুরোহিত ডাকা হলো, দিন ধার্য‍্য করা হলো ৬ আগষ্ট ২০০০ ইং সাল।

বিয়ের তারিখ তো ঠিকই হয়ে গেলো-চিন্তায় পরে গেলাম আমি। আমার বাড়ীর যা অবস্থা ওখানে নতুন বৌ নিয়ে উঠানো একটা অসম্ভব ব‍্যাপার। ঢাকায় আবার বাসা নিতে হবে আর এসব আমার একারই করতে হবে দুই মাসের মধ্যে। সময় আর একটু নষ্ট করলাম না। বাড়ির করার কাজে হাত দিলাম, কাজ বলতে ঐ ইটের দেয়াল আর উপরে টিন সেট। মিস্ত্রি বললো ৩০ দিনের মধ্যে করে দিতে পারবে। যথারীতি হাত দিলাম বাড়ী করার কাজ, শেষ ও হয়ে গেলো ত্রিশ দিনের আগেই, ছোট ছোট দুটো রুম আর একটা বারান্দা, একবারে না হলে নয় সেটুকুই করা হলো। এদিকে মেয়ের বাড়ী থেকে আমাকে আশির্বাদ করতে আসবে, তারা গ্রামের বাড়িতে যাবে, বিশ পঁচিশ জন লোক আসবে। তাদের আদর আপ্যায়ন করতে হবে, সবটাই যেন আমাকেই ব‍্যবস্হা করতে হচ্ছে। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কমলেশ, বাবুল'কে আসতে বললাম। ওরা আমার কলেজ লাইফ থেকেই বন্ধু। ওদের বললাম তোরা সকাল সকাল চলে আসবি। আত্মীয়রা চলে আসলো সারে বারটার মধ্যে, কমলেশ, বাবুল এবং পারার কিছু লোক তাদের আপ‍্যায়নে ব‍্যস্ত হয়ে পড়লো, বসতে দিলো উঠানের মধ্যে, তাছাড়া কিছু করার ও নাই, ঘড়ের মধ্যে সবার জায়গা হবে না। আত্মীয়ের মধ্যে কেউ কেউ বলে উঠলো- এতো বড় লোকের মেয়েরে কোথায় বিয়ে দিচ্ছে, কোন ঘর-বাড়ি নাই। অসিত দা তো বলেই ফেললো আমার হবু শশুরকে। কাকা কোথায় সোমাকে বিয়ে দিচ্ছেন? অসিত দা সোমার জেঠাতো বোনের বর। আমার হবো শশুর একজন বিচক্ষন মানুষ। উনি অর্থকরীর চেয়ে আমার মধ্যে কোয়ালিটি দেখতে পেরেছেন হয়তোবা, তাই তাদের কথায় কান দেন নাই। আশির্বাদ পর্ব শেষ হলো, শেষ হলো খাওয়া দাওয়ার পর্ব। বিকালে রওনা দিয়ে চলে আসলেন অথিতি। আমিও চলে আসলাম ঢাকায় পরের দিন সকালে। দুই রুমের বাসা ভাড়া নিলাম শান্তিবাগে। দেখতে দেখতে চলে আসলো বিয়ের দিন। বরযাত্রী হিসাবে ফরিদপুর থেকে আসা হলো না, রওনা হতে হলো ঢাকা থেকেই। আত্মীয় স্বজন বলতে বন্ধু বান্ধব, আর অফিসের কলিগরাই আমার সঙ্গী। বন্ধুরা বলতে, বাবুল, অজয়, কমলেশ, মাইকেল, তুষার, কাউসার, শামীম, ডিউক, সুমন আরো অনেকে, অফিসের কলিগ হিসাবে, ডেস্কটপের এমডি, বোরহান ভাই, খোরশেদ ভাই, সবুজ ভাই, অনিক ভাই, জাকির, মারুফ, কামরুল আরো ৪০/৫০ জন, সব মিলে ১৩০/১৪০ জনের কম হবে না। অত‍্যান্ত সুন্দর ভাবে বিয়ে হয়ে গেলো, অফিসের কলিগরা রাতেই চলে আসলো ঢাকায়। বন্ধুরা বলতে কমলেশ, বাবুল, কাউসার, শামীম, অজয় ওরা ওখানেই ছিল। জানি না রাতে ওরা কোথায় ছিল, পরে শুনেছি, ওরা নাকি সারা রাতই আনন্দ উল্লাস করে কাটিয়েছে। পরের দিন পরিচয় হলো পর্যায় ক্রমে সবার সাথে, দিনের শেষে চলে আসলাম ঢাকায়। ঢাকা বলতে শান্তিবাগের বাসায়। প্রস্ততি নিতে হবে বৌ ভাতের, যদিও আগে থেকে সোহাগ কমউনিটি সেন্টার ঠিক করা ছিলো, এই বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে খগেন্দ্র বাবু, স্বদেশ, বন্ধু বাবুল, কমলেশ, অজয় এরা অথিতি আপ‍্যায়নে কমউনিটি সেন্টারে আগে ভাগেই চলে এসেছে এবং যথারীতি নিমন্ত্রিত অথিতিরাও আসলো সাথে অনেক রাজনৈতিক ব‍্যক্তিবর্গ। বৌভাতের পর্ব শেষ হলো অত‍্যান্ত সুন্দর ভাবে। চলবে...

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 

 

E-mail: info.eibela@gmail.com

a concern of Eibela Ltd.

Request Mobile Site

Copyright © 2020 Eibela.Com
Developed by: coder71