সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
আর্ন্তজাতিক নারী দিবসের আহ্বান ২০৩০ সালের মধ্যে সমতা
প্রকাশ: ০৬:২৩ am ২০-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০৬:২৩ am ২০-০৩-২০১৫
 
 
 


জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে নারী  ও পুরুষের মধ্যে সমতা অর্জনের লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

আর্ন্তজাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ে উচ্চপর্য্যায়ের এক বিতর্কে তিনি একথা বলেন। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রহতি পর্য্যালোচনার পটভূমিতে পালিত হচ্ছে এবছরের আর্ন্তজাতিক নারী দিবস।

জাতিসংঘ রেডিওর সংবাদদাতা ডেরিক এমবাথা জানাচ্ছেন যে দুই হাজার সালে বিশ্ব নেতারা সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে যে আটটি বিষয় ঠিক করেছিলেন তার মধ্যে ছিলো নারীর সমতা এবং ক্ষমতায়নের প্রসার ঘটানো।

শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি স্যাম কোটেসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে এই উচ্চপর্য্যায়ের আলোচনা। মহাসচিব বান সাধারণভাবে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনয়নে এপর্য্যন্ত অর্জিত অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি এক্ষেত্রে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, বৈষম্য দূরীকরণে আইন প্রণয়ন , মাতৃমুত্যুর হার কমানো , মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার বৃদ্ধি এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তবে, মি বান বলেন যে আমাদেরকে এখনও অনেক কিছু করতে হবে।

মি বান বলেন যে আসুন আমাদের একজোট হওয়ার আওয়াজ হোক ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা হবো পঞ্চাশ পঞ্চাশ – অর্থাৎ, সমান সমান।এই মহান লক্ষ্য অজর্নের জন্য বর্তমানের চেয়ে আর উপযুক্ত সময় আগে কখনও ছিলো না। এখনকার প্রজন্মই হচ্ছে প্রথম যারা দারিদ্রের অবসান ঘটাতে পারে, আর আমরাই হচ্ছি শেষ প্রজন্ম যাদের জীবদ্দশায় জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিকর দুর্যোগ এড়ানোর উপায় নিশ্চিত করতে পারি। মি বান বলছিলেন যে আমরা এসব সমস্যা এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ততোক্ষণ পর্য্যন্ত মোকাবেলায় সফল হবোনা যতোক্ষণ পর্য্যন্ত বিশ্বের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক – নারীর সুপ্ত ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে না পারি ।

রাজনীতির জগতে বাধার দেওয়াল অতিক্রম করেছেন যে অল্প কয়েকজন, তাঁদের একজন হলেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট – এলেন জনসন সারলিফ। মিস সারলিফ সাধারণ পরিষদের এই বিশেষ বিতর্কে বলেন যে অনেক অগ্রগতি সাধিত হওয়া সত্ত্বেও পরিবর্তনের বর্তমান ধারা যথেষ্ট নয়।

    রুপান্তর বর্তমানে যে গতিতে চলছে তা অব্যাহত থাকলে নারী পুরুষের সমতা অর্জনে সময় লাগবে একাশি বছর - এলেন জনসন সারলিফ

মিস সারলিফ বলেন যে রুপান্তর বর্তমানে যে গতিতে চলছে তা খুবই শ্লথ এবং এটি অব্যাহত থাকলে নারী পুরুষের সমতা অর্জনে একাশি বছর সময় লাগবে। কর্মস্থলে র্শীষসারিতে রয়েছে পুরুষের প্রাধান্য এবং পুরুষ ও নারীর মধ্যে সমমূল্যের কাজের জন্য মজুরির সমতা আনতে সময় লাগবে পঁচাত্তর বছর। আর সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার অর্জনে সময় লাগবে ত্রিশ বছরেরও বেশি।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা, ইউ এন উইমেন এর প্রধান ফুমুজেলা ম্লামবো এমচুকা  ২০৩০ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

মিস ম্লামবো এমচুকা বলেন যে আমি তিনটি গুরুত্বর্পূণ প্রয়োজনীয় শর্তের কথা তুলে ধরতে চাই। প্রথমত: অবিচল এবং অব্যাহত রাজনৈতিক অঙ্গীকার, দ্বিতীয়ত, নারী এবং মেয়েদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো এবং তৃতীয়ত, শক্তিশালী জবাবদিহিতার ব্যবস্থা যাতে নাগরিক সমাজের ভুমিকা অর্ন্তভুক্ত থাকবে।নারী পুরুষের সমতার বিষয়টি হচ্ছে এমন একটি অভিন্ন ভাবনা যাতে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের সমন্বয় ঘটে।কারণ নারী অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার এবং মানবাধিকার হচ্ছে নারীর অধিকার।

মিস এমচুকা পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলায় পুরুষ এবং ছেলেদের অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে সেটি সম্ভব হলেই ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71