বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
আশাপূর্ণা দেবীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০৪:০৫ pm ০৮-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:০৫ pm ০৮-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আশাপূর্ণা দেবী বয়স তখন তেরো কী চৌদ্দ পরিবারের চাপে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল সুবর্ণকে। একান্নবর্তী সংসার, ছেলে-মেয়েকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল তাঁর জীবন। প্রথাগত শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি। সুযোগ পাননি সংসারের বাইরে কিছু ভাবার। নতুন কিছু করার। সমাজের এমন সুবর্ণদের কথা নিজের সাহিত্যে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন আশাপূর্ণা দেবী। আজ তাঁর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী। বিংশ শতাব্দীর নারীদের পরিস্থিতি, সামাজিক অবস্থান, তাঁদের মনস্তত্ত্ব বারবার ফুটে উঠেছে তাঁর লেখায়।

১৯০৯ সালে ৮ জানুয়ারি কলকাতার পটলডাঙায় মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আশাপূর্ণা দেবী। বাবা হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত ছিলেন চিত্রশিল্পী। মা সরলাসুন্দরী ছিলেন বিদূষী মহিলা। ঠাকুমা নিস্তারিণী দেবীর নির্দেশে প্রথাগত শিক্ষা থেকে দূরে রাখা হয়েছিল আশাপূর্ণা দেবী সহ পরিবারের বাকি মেয়েদের। তবে বাবা-মার থেকে পেয়েছিলেন অক্ষর জ্ঞান। বাংলা ছাড়া আর কোনও ভাষা জানা ছিল না সেভাবে। এক সময় স্মৃতিচারণ করতে দিয়ে আশাপূর্ণা দেবী বলেছিলেন, “স্কুলে পড়লে মেয়েরা বাচাল হয়ে উঠবে তা আর কেউ জানুক না জানুক, আমার ঠাকুমা ভালোই জানতেন।”

তবে ঠাকুমার সঙ্গে বেশিদিন থাকতে হয়নি আশাপূর্ণা দেবীকে। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে বাবা-মার সঙ্গে আপার সার্কুলার রোডে (বর্তমানে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোড) চলে আসেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ছোটোবেলা থেকে বেশ ডাকাবুকো ছিলাম। ছেলেদের সঙ্গে পা মিলিয়ে ঘুড়ি ওড়াতাম, খেলতাম।” একবার তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চিঠিও লিখে পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির উত্তরও পেয়েছিলেন। এরপর মাত্র ১৫ বছর বয়সে কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা কালিদাস গুপ্তর সঙ্গে বিয়ে হয় আশাপূর্ণা দেবীর। 

১৯২২ সালে সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত। তেরো বছর বয়সে শিশুসাথী পত্রিকায় কবিতা পাঠিয়েছিলেন আশাপূর্ণা দেবী । ছাপাও হয়েছিল সেটি। তাঁর প্রথম গল্প পাশাপাশি। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জীবন, বিশেষত সাধারণ মেয়েদের জীবনযাপন ও মনস্তত্ত্বের চিত্র ছিল তাঁর রচনার মূল বিষয়। ব্যক্তিজীবনে নিতান্তই এক সাধারণ নারী ছিলেন। তাঁর প্রথম প্রতিশ্রুতি-সুবর্ণলতা-বকুলকথা উপন্যাসত্রয়ী বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলির অন্যতম বলে বিবেচিত হৃয়। দেড় হাজার ছোটোগল্প ও আড়াইশোর বেশি উপন্যাস লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রেম ও প্রয়োজন, অনির্বাণ, মিত্তির বাড়ি, যোগ বিয়োগ, নবজন্ম, কল্যাণী, নির্জণ পৃথিবী, ছাড়পত্র ইত্যাদি। তাঁর লেখা উপন্যাসকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ছবি, ধারাবাহিক। 

উপন্যাস, ছোটোগল্পের জন্য পেয়েছিলেন একাধিক পুরস্কার। তিনি সম্মানিত হয়েছিলেন জ্ঞানপীঠ পুরস্কার সহ দেশের একাধিক সাহিত্য পুরস্কার, অসামরিক নাগরিক সম্মান ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রিতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে প্রদান করেছিল পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ রবীন্দ্র পুরস্কার সম্মান। ভারত সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান সাহিত্য অ্যাকাডেমি ফেলোশিপে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয়। ১৯৯৫ সালে প্রয়াত হয়েছিলেন তিনি।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71