রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮
রবিবার, ৭ই শ্রাবণ ১৪২৫
 
 
আ’লীগ নেতার নেতৃত্বে হিন্দু বাড়িতে হামলা, আহত ৭
প্রকাশ: ১২:৪৮ pm ২১-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ১২:৪৮ pm ২১-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বরগুনার পাথরঘাটায় এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা করে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার অভিযোগ করে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন নির্যাতিত কার্তিক চন্দ্র শীল। হামলার ঘটনায় ওই পরিবারের বয়ঃবৃদ্ধা নারীসহ ৭ জন গুরুতর আহত হয়। তাদের ২ জনকে পাথরঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

অভিযোগের আঙুল পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আকনের দিকে। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড বড়ইতলা গ্রামে কার্তিক চন্দ্র শীলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কার্তিকের মা ৮৫ বছর বয়সের বৃদ্ধা রাধারানীও আহত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতিত কার্তিক চন্দ্র শীল পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সমম্মেলনে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তার প্রতিবেশী এনায়েত হোসেনের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ ব্যাপারে কোর্টে মামলা চললে ৩টি মামলার রায় তার পক্ষে যায়। পরে বুধবার দুপুরে বিরোধীয় সম্পত্তির ওপর পুরাতন ঘর মেরামত করার সময় প্রতিপক্ষ এনায়েত হোসেনের লোকজনে বাধা প্রদান করেন। 

এ বাধা উপেক্ষা করে ঘর মেরামত করতে গেলে বিষয়টি পৌরসভার মেয়রকে জানানো হয়। এ সময় মেয়র তার অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্তিক শীলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘর ভেঙে দিয়েছে। ওই পরিবারের বৃদ্ধাসহ যুবক যারাই বাধা দিতে গেছে তারা সবাই মেয়রের সাথে যাওয়া লোকজনের হাতে চড় থাপ্পর ও মারধরের শিকার হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্য, নির্যাতনের শিকার পাথরঘাটা কলেজে অর্নাস শ্রেণির ছাত্রী সীমা রানী বলেন, আমার বাবা বিমল শীলকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি মার খেয়েছি, লাঞ্ছিত হয়েছি। কার্তিক চন্দ্র শীলের ভাই বিমল শীল বলেন, দিনের বেলা মেয়র আমাদের মারে আবার রাতে বাড়িতে ভোট প্রার্থনা করতে যায়। হামলাকারিদের মধ্যে মেয়রসহ প্রতিবেশি এনায়েতের ভাগ্নে ছুটিতে থাকা পটুয়াখালীর পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, তার ভাই মোঃ খোকন, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক বিপ্লব রায়, পৌরসভার নৈশ প্রহরী বাদল ও রাখাল শীলের নাম উল্লেখ করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিমল শীল, শ্যামলী রানী, মিলন চন্দ্র শীল, সীমা রানী ও শেফালী রানী। শেফালী রানী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য হয়েও আওয়ামী লীগের নেতাদ্বারা নির্যাতিত হলাম। পাথরঘাটা থানার ওসি মোল্লা মোঃ খবীর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তবে কেউ থানায় মামলা করেনি।

পাথরঘাটা পৌর সভার মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আকন জানান, বিষয়টি নিয়ে পৌরভবনে দুপরের দিকে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ৭ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের পাথরঘাটা উপজেলা সভাপতি অরুণ কর্মকার উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুরে পৌরসভা ভবনে ঘটনাটির মিমাংসা হয়েছে। মেয়র ও অভিযোগকারি কার্তিক শীল পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করেছেন।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71