রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
ইতিহাসে ভ্যালেন্টাইনস ডে
প্রকাশ: ১০:১৪ pm ১৪-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:১৪ pm ১৪-০২-২০১৭
 
 
 


১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয় নানা আয়োজনে।

যদিও এ দিনে বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান, বন্ধু-বান্ধব সবার প্রতিই ভালবাসা প্রকাশ করা হয়; তবু এর ভিন্নমাত্রা দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে। এ দিন তারা একে অন্যের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে ভিন্ন মাত্রায়।

যদিও বলা হয় ভালবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ নেই; সপ্তাহের সাত দিন এবং বছরের ৩৬৫ দিনই ভালবাসার দিন। তবু ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভালবাসা প্রকাশের একটি প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। যে কারণে এ দিনটিকেই ভালবাসা প্রকাশের দিবস হিসেবে নেয়া হয়েছে, এর পেছনে কতগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে।

ইতিহাস থেকে যে কয়টি কারণ জানা যায়, এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ঘিরে কয়েকটি ঘটনা।

ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালপি। তিনি ছিলেন খিস্ট্রধর্মের অনুসারী। তৎকালীন রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস ছিলেন দেব-দেবি পুজারী। সম্রাট তাকে দেব-দেবি পুজা করতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সম্রাট ভ্যালেন্টাইনকে বন্দি করেন। পরবর্তীতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ থেকেই প্রেমিক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ দিনটি ভালবাসা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ঘিরে আরেকটি মত পাওয়া যায়। তরুণ-তরুণীদের অনেকেই ফুল উপহার নিয়ে কারারুদ্ধ সেন্ট ভ্যালেন্টাইকে দেখতে আসতেন। কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে আসতেন। একসময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যান। তার আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় দৃষ্টি ফিরে পায় মেয়েটি। যুবক-যুবতীদের প্রতি তার  ভালবাসা আর ভ্যালেন্টাইনের প্রতি তাদের ভালবাসার কথা জানতে পেরে সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ঘিরে আরো একটি মত পাওয়া যায়। রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস তার সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে দরকার হয় বিশাল সেনাবাহিনীর। এজন্য সেনাবাহিনীতে যুবকদের যোগদানে বাধ্য করতে বিবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন সম্রাট। তার এ ঘোষণায় দেশের যুবক-যুবতীরা ক্ষেপে যান। ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনও এ নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারেননি। তিনি গোপনে তার গির্জায় বিয়ে পড়ানোর কাজও করতে থাকেন। তিনি পরিচিতি পেলেন ‘ভালবাসার বন্ধু বা ‘Friend of Lovers’ নামে। কিন্তু এ বিষয়টি সম্রাট ক্লাডিয়াসের কানে গেলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি সৈন্যরা ভ্যালেন্টাইনকে হাত-পা বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে সম্রাটের সামনে হাজির করলে তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন। 

এর বাহিরে অন্য একটি মত প্রচলিত আছে, প্রাচীন রোমে দেবতাদের রাণী জুনোর সম্মানে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি পালিত হতো। রোমানরা বিশ্বাস করতেন জুনোর ইচ্ছা ছাড়া কোনো বিয়ে সফল হয় না। পরদিন তারা লুপারকালিয়া ভোজ উৎসবে তুরুণ-তরুণীদের মেলায় র‌্যাফেল ড্রর মাধ্যমে সঙ্গী বাছাই করতেন।

এমন অনেক প্রচলিত ঘটনা, তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে। একেকজন একেকভাবে এর যুক্তি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। তবে এ কথা ঠিক মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা চিরন্তন। আর এ ভালবাসা থেকেই ভালবাসা দিবসের উৎপত্তি।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে ভালবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানের হাত ধরে। লন্ডনে পড়াশোনার সুবাদে পাশ্চাত্যের রীতিনীতিতে তিনি ছিলেন অভ্যস্ত। দেশে ফিরে তিনিই ভালোবাসা দিবসের শুরুটি করেন। তার চিন্তাটি নতুন প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করে। সে থেকেই আমাদের দেশে দিনটির শুরু।

প্রেমিক-প্রেমিকারা এই দিনটিকে ঘিরে সারা বছর জুড়েই কল্পনার জগৎ সাজাতে থাকেন। এ দিনে  নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু'ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠে উপহারের অনুষঙ্গ। যদিও সময়ের পরির্বতেন পাল্টিয়েছে ভ্যালেন্টাইন ডে’র উপহারের ধরন। ফুলের পরিবর্তে ভালবাসর প্রকাশ নেমে এসেছে দামি কোনো দ্রব্যে।

ভালবাসা চিরন্তন। সব সময় ভালবাসার বন্ধন থাকুক অটুট। ভালবাসা সার্বজীন।ভালবাসা ছড়িয়ে পড়ুক হৃদয় থেকে হৃদয়ে।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71