সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ইতিহাস ঐতিহ্যে অনন্য শহর উত্তরের সৈয়দপুর 
প্রকাশ: ০৩:৫০ pm ১৩-০৬-২০১৬ হালনাগাদ: ০৩:৫০ pm ১৩-০৬-২০১৬
 
 
 


এম এ মোমেনঃ উত্তরের বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুর শুধু বানিজ্যিক নয় রেলওয়ে শহর হিসেবেও পরিচিত। এশিয়ার বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের সর্ব উত্তরের নীলফামারীর ৬টি উপজেলার মধ্যে একটি হচ্ছে সৈয়দপুর। ১৯১৫ সালে সৈয়দপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮২ সালে মান উন্নীত থানা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। । উপজেলা শহরটি বাঙালি- বিহারীর এক বৈচিত্রময় শহর। স্বাধীনতার পর থেকেই এই শহরে প্রচার-প্রচারণায় বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে চলে। জেলা শহর থেকে ২০ কি. মি. দক্ষিণে সৈয়দপুর উপজেলার অবস্থান। সৈয়দপুরের দক্ষিণে রংপুরের বদরগঞ্জ ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর, পশ্চিমে চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলা, উত্তরে নীলফামারী সদর ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা। এই উপজেলার আয়তন ১২১.৬৮ বর্গকিলোমিটার। ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত উপজেলায় শিক্ষিতের হার ৫৪.৬। 

এক সময় সৈয়দপুর কামরুপ রাজ্যের অধীনে ছিল। গৌড় অধিপতি আলাউদ্দিন সৈয়দ হোসেন শাহ কামরুপ অভিযান করার প্রাক্কালে সৈয়দপুরের অদূরে কেল্লাবাড়িহাটে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। এ স্থান থেকে তিনি কামরুপ রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। পরবর্তী সময়ে সৈয়দ হোসেন শাহের বংশধররা এ স্থানে জায়গীর প্রাপ্ত হন। সৈয়দপুর উপজেলা নামকরণ নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও জনশ্র“তি রয়েছে, উক্ত সৈয়দ বংশধরের নামানুসারে প্রথমত সাইয়্যেদপুর এবং পরে সৈয়দপুর নামকরণ করা হয়। 

সময়ের প্রয়োজনে এই সৈয়দপুরে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা, বিমানবন্দর, সেনানিবাস, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ইতিহাস- ঐতিহ্যের নানা অবকাঠামো। এর মধ্যে শহরের ইসলামবাগে চিনি মসজিদ, ফিদা আলী ইন্সটিউট, সাহেবপাড়ায় মুর্তজা ইন্সটিউট, দর্শনীয় গির্জা উল্লেখযোগ্য।

রেলওয়ে কারখানা ঃ 
দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা এখানে অবস্থিত । ১৮৭০ সালে ১শ’ ১০ একর জমির উপর বৃটিশ আমলে নির্মিত এ কারখানার ২৪টি শপে শ্রমিকরা কাজ করে থাকেন। নাট- বল্টু থেকে শুরু করে রেলওয়ের ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের বগি মেরামতসহ সকল কাজ করা হয়। পলিটেকনিক ও কারিগরী শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা সফর বা পরিদর্শন করে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেন। এই কারখানার প্রধান হলেন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায় (ডিএস) নূর আহম্মদ হোসেন। তারই অফিসের সামনে সবুজ চত্বরে রাখা আছে বৃটিশ আমলের ন্যারোগেজ ইঞ্জিন। রেলগাড়ির ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম- ছড়ার এই ইঞ্জিন আজ অতীত। ৭২ সালে সর্বশেষ ইঞ্জিনটি চলতো বাগেরহাট- রুপসা সেকশনে। ১৯০১ সালে ইংল্যান্ডের ভলকান কোম্পানির তৈরি এ্ই ইঞ্জিনটিসহ এ ধরণের ৩টি ইঞ্জিনের ঠাঁই হয়েছে এখন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার লোকো ট্রান্সপোর্ট মিউজিয়ামে। কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই ইঞ্জিনগুলো। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে নতুন প্রজম্মের অনেকে আসে স্বচোখে দেখতে একনজর এই কয়লার ইঞ্জিন। এই কারখানায় প্রবেশ ও ছবি তুলতে গেলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। 

চিনি মসজিদ ঃ
ভারতবর্ষ পীর আউলিয়াদের দেশ হিসেবে পরিচিত। ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে অনেক পীর, আউলিয়া ও বুজুর্গের আগমন ঘটেছিল এখানে। আর তাদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণায় মুসলমান শাসক ও মোঘল আমলে অসংখ্য মসজিদ স্থাপিত হয় এই উপমহাদেশে। নীলফামারীর সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ শুধু উপসনালয় নয়, এই মসজিদ অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতীকও। এই মসজিদের নির্মাণ শৈলী ও সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে খুব সহজে। ইতোমধ্যে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি এ অঞ্চলের অন্যতম মসজিদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। তাই তো দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রতিদিন আসে একনজর দেখার জন্য এই মসজিদটি।

সৈয়দপুর শহরের উত্তরে ইসলামবাগ এলাকায় ১৮৬৩ সালে ঐতিহ্যবাহী চিনি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে এটি দোচালা ছোট একটি টিনের ঘর ছিল। পরবর্তীতে ১৯২০ সালে হাজী হাফিজ আব্দুল করিমের উদ্যোগে ৩৯ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তন বিশিষ্ট মসজিদটির প্রথম অংশ পাকা করা হয়। হাজী আব্দুল করিম নিজেই মসজিদটির নকশা এঁকেছিলেন। পুনরায় ১৯৬৫ সালে মসজিদের দক্ষিণ দিকে ২৫ বাই ৪০ ফুট আয়তন বিশিষ্ট দ্বিতীয় অংশ পাকা করা হয়। এই চিনি মসজিদের সারা অবয়ব রঙ্গীন উজ্জ্বল চীনা মাটির পাথরের টুকরো দ্বারা আবৃত। ১৯৬৫ সালে বগুড়ার একটি গ্লাস ফ্যাক্টরি চিনি মসজিদের জন্য প্রায় ২৫ টনের মতো চীনা মাটির পাথর দান করে। 
এছাড়া সেই সময় কোলকাতা থেকেও ২শ’ ৪৩ খানা শংকর মর্মর পাথর এনে লাগানো হয় এই মসজিদে। ঐতিহ্যবাহী চিনি মসজিদের ২৭ মিনারসহ ৩টি বড় গম্বুজ রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য উত্তরে ও দক্ষিণে একটি করে দরজা রয়েছে। মসজিদের দোতলায় একটি ভবনসহ পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ দেখার জন্য বহু বিদেশি পর্যটকদের আগমনের ইতিহাস রয়েছে। স্থাপত্যের নিদর্শন এই চিনি মসজিদ দেশের ক’জন রাষ্ট্র প্রধানও পরিদর্শন করে গেছেন। ইসলামের মহিমা প্রচার যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি ইসলাম অনুসারীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সৈয়দপুর চিনি মসজিদে স্থান সংকুলানের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। মসজিদটির ডানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বামে একটি ইমামবারা রয়েছে। আর পশ্চিমে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান।

মসজিদের নিজস্ব সম্পত্তি বলতে রয়েছে দক্ষিণে মসজিদের গাঁ ঘেঁষে ১২টির মত দোকানঘর। এইসব দোকানের ভাড়া ও মুসল্লীদের চাঁদায় মসজিদের আয়ের একমাত্র উৎস। যার উপর নির্ভর করে মসজিদের সকল ব্যয় ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। তাই সৈয়দপুর শহরের অতীত ইতিহাসের প্রতীক ‘চিনি মসজিদ’ এর সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য সরকারি সাহায্য প্রয়োজন। 

ফিদা আলী ইন্সটিটিউট ঃ
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর রেলওয়ে শহরের ইসলামবাগ এলাকায় ফিদা আলী ইন্সটিটিউট। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও চরম উদাসীনতায় ঐতিহ্য ও সম্পত্তি হারাতে বসেছে। ১৯৪০ সালে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারিদের চিত্তবিনোদনের জন্য প্রায় ১০ একর জমির উপর ফিদা আলী ইন্সটটিউট হয়। রেলওয়ে কারখানার চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারিদের অধিকাংশের আবাসস্থ'ল শহরের ইসলামবাগ তথা খালাসি মহল্লায়।

কারখানার এসব কর্মচারি কাজের শেষে চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি শিল্প- সাহিত্য চর্চা পাঠাগারের জন্য নির্মিত বিরাট মিলনায়তন ভবন। পাঠাগারে ছিল অসংখ্য বই পুস্তক, খেলাধূলার জন্য অনেক খেলার সরঞ্জাম, চিত্তবিনোদনের জন্য ভবনে ছিল বিরাট স্টেজ। শিল্পী- সাহিত্যিক ছাড়াও চিত্রজগতের অনেক নায়ক- নায়িকার পদভারে সবসময় মিলনায়তনটি ছিল মুখরিত। সেসময় চিত্রজগতের নায়ক রাজ রাজ্জাক, উজ্জ্বল, হাসমত, শর্বরী, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা, জাভেদ প্রমুখের অনুষ্ঠান সকলকে আন্দোলিত করে তুলে।  পাঠাগারের হাজারো বাংলা, উর্দু, ইংরেজি বইয়ের ভান্ডার এখন শুন্যের কোঠায়। টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, দাবা, কেরাম, ফুটবল ইত্যাদি খেলাধূলায় ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণ ছিল সর্বদা মুখরিত। বর্তমানে সবই ধ্বংস্ত'পে পরিণত হয়েছে।

চিত্তবিনোদনের জন্য কালের সাক্ষি ফিদা আলী ইন্সটিটিউট’র বিশাল ভবনটি - অবহেলায় আজ পরিত্যক্ত, বাদ্য যন্ত্র ঢোল, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, বাঁশি, মাইক, অভিনেতা- অভিনেত্রীদের পোশাক- আশাক  অভাবে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। প্রায় এক একর জমর উপরে পুকুর, ফুটবল খেলার মাঠ সবই বেদখলে। প্রভাবশালীরা রেলওয়ের একশ্রেনীর কর্মকর্তা- কর্মচারির যোগসাজসে সবই আত্মসাত করতে চলেছে। জমি ও মাঠ দখল করে ভোগ করলেও প্রতিবাদ করার কেউ নেই। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জনবল কাঠামো হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে এর ঐতিহ্য হারাতে বসে। দিনে দিনে খোয়া গেছে ইন্সটিটিউটের মূল্যবান সম্পদ। চিত্তবিনোদনের এই জায়গাটাতে জুয়া, গাঁজা, ফেনসিডিলের আসর বসছে নিয়মিত। ফলে এ কারণে অপরাধ কর্মকান্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন।

মুর্তজা ইন্সটিটিউট ঃ 
আজকের আধুনিক সৈয়দপুরের শুরুটা ছিল আসাম- বেঙ্গল রেলওয়েকে ঘিরে। এর আগে সৈয়দপুর ছিল সাধারণ গ্রাম। পলাশীর যুদ্ধে বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরজউদ্দৌলা পরাজিত হওয়ার পর ব্রিটিশরা নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থেই এদেশে গড়ে তুলতে থাকে রেলপথ। এরই এক পর্যায়ে সৈয়দপুর হয়ে উঠে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দীর্ঘ ১শ’ ৩০ বছর অথবা তারও আগেকার কথা। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন গড়ে উঠার পর এই অঞ্চলে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিস্তৃৃৃতি ঘটতে থাকে শহরের। তারপরই ১৮৭০ সালে ইংরেজ বেনিয়ারা সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠা করে বিশাল রেলওয়ে কারখানা, যা আজও বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা হিসাবে বিবেচিত। সেসময় ইংরেজদের চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে একটা সুরম্য মিলনায়তন গড়ে উঠে। তখন এর নাম ছিল ‘দি ইউরোপিয়ান ক্লাব’। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় মুর্তজা ইন্সটিটিউট।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা বিস্তৃৃৃতির কারণে এখানে ইউরোপিয়ানদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ইংরেজ সাহেবরা বিকালে ক্লাবে এসে জড়ো হতো, সঙ্গে থাকতো তাদের স্ত্রী অথবা বান্ধবীরা। তারা নিজেদের ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী আমোদফূ'র্তি করতো এই ক্লাবে। ক্লাবের এই অবস্থ'া ১৯৩০ সাল পর্যন্ত অক্ষুন্ন ছিল। এরপর থেকে ক্লাবের নিয়ম-কানুন কিছুটা শিথিল করা হয়। ১৯৩০ সালের আগে এ ক্লাবে ভারতীয়দের প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীকালে সাহেবদের পাশাপাশি ভারতীয় রেল কর্মকর্তারাও এ ক্লাবে প্রবেশের সুযোগ লাভ করে। পায় সদস্য পদ। 
এসময় আসাম- বেঙ্গল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন বিআর সিং। তাঁর নামানুসারে রেলওয়ে ময়দানের পশ্চিম পার্শ্বে একটি ভবনের নামকরণ করা হয় বিআর সিং ইন্সটিটিউট। যা বর্তমানে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। পরবর্তীকালে ইউরোপিয়ান ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে বিআর সিং ক্লাব রাখা হয়। এ নামই পরে কালপেপার ইন্সটিটিউট এবং আরও পরে মুর্তজা ইন্সটিটিউট হিসাবে রুপান্তরিত হয়।
মুলত: ১৯৩০ সালের পর থেকেই এ ইন্সটিটিউটে ইউরোপিয় সংস্কৃতির পরিবর্তে দেশীয় নাটক, যাত্রাপালার বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্থ'ান পায়। এসব সাংস্কৃতিক পরবর্তীতে আন্দোলনে রুপ নেয়। তখন থেকেই এ অঞ্চলে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দানা বেধে উঠে। ইংরেজ সাহেবরাও তখন একে একে স্বদেশ ফিরতে থাকেন। ফলে এই ইন্সটিটিউটের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেন ভারতীয় কর্মকর্তারাই। ‘৪৭-এর দেশ বিভাগের পর ইন্সটিটিউটের প্রথম জেনারেল সেক্রেটারীর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় মুর্তজা ইন্সটিটিট। মুর্তজা সেসময় সৈয়দপুরস্থ' বিভাগীয় মেডিকেল অফিসের হেডক্লার্ক ছিলেন।

ওই সময় মুলত: ইন্সটিটিউটটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে এই ইন্সটিটিউটে নিজস্ব প্রয়োজন ছাড়াও শহরের অন্যান্য নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের অনুষ্ঠান এখানে মঞ্চায়ন করছে। 
মুর্তজা ইন্সটিটিউটের মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে এর গ্রন্থ'াগার। এই গ্রন্থ'াগারে আছে প্রাচীণকালের দু®প্রাপ্য কিছু গ্রন্থ। গ্রন্থে'র সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। এছাড়া সংগ্রহে রয়েছে বাংলা ও ইংরেজী ভাষার অনেক বই। রয়েছে অতীতকালের সাক্ষী কিছু পত্র-পত্রিকাও। এছাড়া সংগ্রহে থাকা মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র ও চিত্রকলা ইতোমধ্যে খোয়া গেছে। এই মুহূর্তে অতীত ঐতিহ্য রক্ষায় এই মুর্তজা ইন্সটিটিউটটি মেরামত ও সংস্কার করে আধুনিক উপযোগি করার জন্য সচেতনমহল দাবি জানিয়েছেন। লাল ইটের গাঁথুনির উপর দাঁড়ানো এ ভবন আজও কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

উত্তরের ব্যবসা- বাণিজ্য কেন্দ্র সৈয়দপুর শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল বৃটিশ কোম্পানি শাসনামলে। সেসময়ে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের সৈয়দপুর ছিল একটি ছোট্ট রেলওয়ে স্টেশন। রেলওয়ে কারখানা স্থাপনে বৃটিশরা বিবেচনায় নিয়েছিল এর অবস্থ'ান, জলবায়ূ ও পরিবেশগত অবস্থ'ান। এ কারখানায় বাঙালি- বিহারীর সাথে কাজ করত বহু বৃটিশসহ এ্যাংলো ইন্ডিয়ান ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্ট খ্রীষ্টান। এদের বসবাসের জন্য গড়ে তোলা হয় বেশ কটি আবাসিক এলাকা। এর মধ্যে সাব-অর্ডিনেট কলোনি, সাহেবপাড়া ও অফিসার্স ক্লাব অন্যতম। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তাদের ধর্মীয় উপাসনার জন্য বৃটিশ সরকার সাহেবপাড়ার দু’প্রান্তে দুটি গির্জা নির্মাণ করে। এর একটি ছিল রোমান ক্যাথলিক ও অপরটি প্রোটেষ্টান্ট সম্প্রদায়ের। এ গির্জা দুটি উত্তরাঞ্চলের সর্বপ্রথম ও প্রাচীনতম গির্জা। এর নির্মাণ শৈলী রোমান ও ইউরোপীয় স্থ'াপত্য কলায় সমৃদ্ধ। এর মধ্যে রেলওয়ে কারখানা গেট সংলগ্ন গির্জাটি কুমারী মরিয়মের নামে উৎসর্গ করা হয়। এই সাহেবরা আজ নেই। কিন্ত তাদের গড়া ধর্মপল¬ী, দর্শনীয় গির্জা ও সেন্ট জোরোজা নামে একটি স্কুল। যেখানে সুনামের সাথে লেখাপড়া করছে ছেলে- মেয়েরা।

বিমানবন্দর ও সেনানিবাস ঃ
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক সেনারা স্থানীয় বাঙালিদের আটকিয়ে নির্যাতন করে সৈয়দপুর বিমাবন্দরের মাটি ভরাটসহ প্রাথমিক কাজ করে নেয়। পরবর্তীতে সরকার এটির অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করে বিমান চলাচলের উপযোগি করে তোলে। প্রথম অবস্থায় বাংলাদেশ বিমান চলাচল করলেও বন্ধ যায় এবং বর্তমানে বেসরকারি বিমান সপ্তাহে সাতদিন চলাচল করছে। বিমানবন্দরটি দেখার জন্য প্রতিদিন লোকজন আসেন। এর পাশেই রয়েছে সৈয়দপুর সেনানিবাস, ইএমই সেন্টার এন্ড স্কুল, সম্মলিত সামরিক হাসপাতাল, ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব।

বেনারসি ও কারুপন্য ঃ
সৈয়দপুরে রয়েছে সম্ভাবনাময় বেনারসি শিল্প। শহরের গোলাহাট, কাজীহাট, হাতিখানাসহ বেশ কিছু এলাকায় গড়ে ওঠেছে বেনারসি শিল্প। সেখানে কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে বেনারসি শাড়ি। মনকড়া ডিজাইনের এসব বেনারসি তৈরি হয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকার বড় শপিং মলসহ মিরপুরের বেনারসি পল্লীতে। এ কাজে কারিগররা রং, সুতা ও বিপননে জড়িয়ে পড়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ। যারা এ বেনারসি তাঁত শিল্পের ওপর নির্ভর হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। আপনিও প্রয়োজন মনে করলে রং ও ডিজাইন মোতাবেক ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় এসব বেনারসি শাড়ি তৈরি করে নিতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও বড় বড় শপিং মলে স্থানীয় মহিলাদের নকশা ও ডিজাইন করা আনকমন থ্রী পিস, সালোয়ার- কামিজ, শার্ট, ফতোয়া, বিছানার চাদর, কুশন কভার, শাড়ি, শাল প্রভৃত মিলছে। এসব স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কোলকাতার বাজার ধরেছে। শহরের গোলাহাটে এমসিসি (ম্যানোনাইট সেট্রারেল কমিটি) এ্যাকশন ব্যাগ হ্যান্ডি ক্রাফট বছরে কোটি টাকার পাট পণ্য রপ্তানি করছে। চিনি মসজিদ এলাকায় অবস্থিত এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। এদের তৈরি পাটজাত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে অতি আকর্ষণীয় এবং এর ব্যাপক চাহিদা। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জার্মানী, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া পভৃতি দেশে এসব রপ্তানি করা হয়। পাটের তৈরি এসব বিভিন্ন ব্যাগ নানা ডিজাইনের হয়ে থাকে। এগুলো হলো লন্ড্রী ব্যাগ, টয় (খেলনা) ব্যাগ, গেম ব্যাগ, সোলজার ব্যাগ, শপিং ব্যাগ প্রভৃতি। সৈয়দপুরের আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ২২টি ক্যাম্পে এবং ক্যাম্পের বাইরে কারচুপি ও পুঁথির কাজ সংসার চলছে অনেক পরিবারের সংসার চলছে, চাহিদামত সরবরাহ করা হচ্ছে সবখানে। 

এইবেলা ডটকম
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71