শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
শুক্রবার, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
ইতিহাস ও ধর্ম
প্রকাশ: ১২:২৫ pm ২০-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ১২:৪৬ pm ২০-১২-২০১৬
 
 
 


ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির আগমণ শুনেই লক্ষণ সেন ভয়ে কাপুরুষের মত পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলে বাংলা মুসলিম শাসনের অধিনে চলে আসে- এরকম ডাঁহা মিথ্যা ইতিহাস দিয়েই আমাদের চিন্তার ঊষা লগ্নের সূচনা ঘটে। এরকম ইতিহাস মুসলমান ঘরের ছেলেমেয়েরা মুখস্থ করে দুটি জিনিস রপ্ত করে তাদের জীবনের একদম শুরুতে- এক, নিজেকে একমাত্র মুসলিম পরিচয়ে আবিষ্কার করে মুসলিম বীরত্বে গর্বিত হওয়া, দুই- হিন্দুদের পরাজিত প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবতে শেখা।

বখতিয়ার খিলজি আদতেই ‘বঙ্গ বিজয়’ করেনি। তিনি ১২০৩ ও ১২০৪ সালে নদীয়া ও নবদ্বীপের কিছু অংশ জয় করেছিলেন মাত্র। এদিকে লক্ষণ সেন ১১৭০ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ও রাজত্ব করছিলেন। ইতিহাসবিদ ভিনসেন্ট স্মিথ মত দেন এ সময়কালে লক্ষণ সেন মারা গিয়েছিলেন। তাহলে কি করে বখতিয়ার খিলজির ভয়ে লক্ষণ সেন খড়কি দিয়ে পলায়ণ করেছিলেন? মুসিলম ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই সিরাজ তার ইতিহাস বইতে লক্ষণ সেনের কাপুরুষের মত পলায়নের কাহিনী লিপিবদ্ধ করেন বখতিয়ারের নদীয়া জয়ের ৪৩ বছর পর নিজামউদ্দীন ও সামসুদ্দীন নামক দুই ভ্রাতৃদ্বয়ের মুখে শুনে। এই একই বইতে তিনি নিজেই লিখেছেন তখন পর্যন্ত লক্ষণ সেনের বংশধররা পূর্ববঙ্গ রাজত্ব করছিল। ‘তবকাৎ-ই-নাসিরীগ্রন্থ মিনহাজ শেষ করেন ১২৬০ সালে। ১১৭০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে লক্ষণ সেনের তিন পুত্র মাধব সেন, বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেনের পূর্ববঙ্গ শাসনের তাম্রলিপি নির্দশন পাওয়া গেছে। তাছাড়া মিনহাজ নিজেই ১২৬০ পর্যন্ত বঙ্গে সেন রাজাদের শাসন চলার কথা স্বীকার করছেন। বুঝাই যাচ্ছে বখতিয়ার খিলজি সুবিশাল বঙ্গের নদীয়া ও নবদ্বীপের খানিকটা দখল করেছিলেন স্থানীয় সেন রাজাদের অনুগত কোন সামন্তকে পরাজিত করে।

এই নদীয়া জয়ের কাহিনীও যে অতিরঞ্জিত ও কাল্পনিক সেটা বখতিয়ারের ১৮ জন সৈন্য নিয়ে বঙ্গ বিজয়ের কথা শুনলেই বুঝা যায়। এই কাহিনী বিশ্বাস করতে হলে প্রচুর কল্পনা শক্তির অধিকারী হতে হয়। লক্ষণ সেনের বিরাট সৈন্য বাহিনীর কথা জেনেও বখতিয়ার কি করে মাত্র ১৮ জন সৈন্য নিয়ে নদীয়া-নবদ্বীপ দখল করতে সাহস করবেন? এ কারণেই পরবর্তীকালের সমস্ত ঐতিহাসিকরাই বখতিয়ার খিলজিকে ‘বঙ্গ বিজয়ী’ বলেননি। আসল সত্য হচ্ছে ত্রয়োদশ শতাব্দির পূর্বে বাংলায় মুসলিম শাসনের কোন অস্বিত্ব পাওয়া যায় না। ১২৮৯ সালেও মধু সেন নামের একজন শাসকের নাম পাওয়া যায় যিনি পূর্ববঙ্গ শাসন করছিলেন। কাজেই বেশির ভাগ ঐতিহাসিকের মতে বখতিয়ার খিলজির বঙ্গের রাজধানী নদীয়া বিজয়ের কাহিনী অলীক, কল্পাশ্রয়ী।

বখতিয়ারের বঙ্গ বিজয় ও লক্ষণ সেনের খিড়কি দিয়ে কাপুরুষের মত পলায়ন এই গল্প বঙ্গের মুসলিমদের কাছে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও প্রতিবেশী হিন্দুদের থেকে দুরত্ব তৈরি করতেই যুগ যুগ ধরে পঠিত হয়ে আসছে এতে কোন সন্দেহ নেই। আজো বাংলাদেশের পাঠ্যবইতে বখতিয়ারের এই কল্পিত বঙ্গ বিজয় ও লক্ষণ সেনের খিড়কি দিয়ে ‘কাপুরুষের মত’ পলায়ন কাহিনী অপরিবর্তিত থেকে যাওয়া সেই সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবার মিশনকে বাস্তবায়নের অবিরাম চেষ্টা মাত্র।

আরো পড়ুন :দশমহাবিদ্যার '' ছিন্নমস্তা''দেবী

এইবেলাডটকম/নীল

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71