মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯
মঙ্গলবার, ১১ই আষাঢ় ১৪২৬
 
 
ইতিহাস গড়লো বাংলার বাঘিনীরা
প্রকাশ: ০৪:০১ pm ১০-০৬-২০১৮ হালনাগাদ: ০৪:০১ pm ১০-০৬-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ফাইনালে টানা ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন পরাক্রমশালী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তৈরী করেছে বাংলার বাঘিনীরা। মেয়েদের হাত ধরেই ক্রিকেটে প্রথমবারের বহুজাতিক কোনও টুর্নামেন্টে এই প্রথম শিরোপা আসলো বাংলাদেশের ঘরে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমি ওভাল মাঠ থেকেই বিজয়ের ঢেউ ছড়িয়ে পড়লো পুরো বাংলাদেশে।

প্রচণ্ড তাপদাহে জীবন ওষ্ঠাগত। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। চারদিকে দুঃসংবাদের ছড়াছড়ি। এমন পরিবেশেও বাংলাদেশের মানুষের আশা-ভরসার একটা জায়গা ছিল, ক্রিকেট। কিন্তু ভারতের দেরাদুন থেকে চরম হতাশাই উপহার দিয়েছিল সাকিব আল হাসানরা। আফগানিস্তানের মত দলের কাছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পুড়তে হলো পুরুষ ক্রিকেট দলকে। সেই আশা-ভরসার ক্রিকেটও যেন পথ হারিয়ে বসেছিল দেরাদুনে গিয়ে; কিন্তু সত্যিই কি ক্রিকেট এত সহজে হারতে পারে? পারে না।

পারে না বলেই, পুরুষ ক্রিকেটাররা না পারুক, নারী ক্রিকেটাররাই বয়ে নিয়ে এলো বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক গৌরব। তৈরি করলো এক গৌরবোজ্জল ইতিহাস। ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশকে প্রথম কোনো ট্রফি জয়ের স্বাদ দিলো বাংলাদশের নারী ক্রিকেটাররা। কুয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমি ওভাল মাঠে নারী ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতে নিলো বাংলাদেশ। ঈদের আগেই বাংলাদশকে ভাসালো ঈদের আনন্দে।

ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১২ রানে মহানন্দাকে রান আউটের ফাঁদে ফেলে টাইগ্রেসদের উল্লাসের শুরু। এরপর ২৬ রানে দীপ্তি শর্মা, ২৮ রানে মিতালি রাজ, ৩২ রানে আনুজা পাতিল ফিরে গেলে বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। সেখান থেকে অন্যপ্রান্তে উইকেট আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন হারমনপ্রীত। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ইনিংসের শেষ বলে ফেরত যান হারমনপ্রীত। ৫৬ রানের ইনিংসে ৭টি দর্শনীয় চার মারেন হারমনপ্রীত। বাংলাদেশের পক্ষে রোমানা ও খাদিজা ২টি এবং সালমা ও জাহানারা ১টি করে উইকেট লাভ করেন। 

১১৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দারুন সূচনা করে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। ৭ ওভারেই দলীয় স্কোর ৩৫ রান করেন শামীমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান। এরপরই ছন্দপতন বাংলাদেশের । পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর উইকেটে এসে ফারহানা হক নিগার সুলতানকে সঙ্গে নিয়ে ২০ রানের জুটি গড়েন। এরপর আবারও উইকেটের পতন। এবার ফিরে যান ফারহানা হক। দলীয় ৮৩ রানে ফিরে যান নিগার সুলতানা। 
এরপর ফাহিমা খাতুনের সঙ্গে রুমানা আহমেদ এসে উইকেটে জুটি গড়েন। কিন্তু বেশি দূর এ জুটি এগুতে পারেনি। দলীয় ৯৬ রানে ফাহিমা আউট হলে বাংলাদশের জয় পাওয়াটা অনেক দূরেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু অন্যপাশে অভিজ্ঞ রুমানা বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন। ঝুলন গোস্বামীর এক ওভারে তিনটি চার মেরে খেলাকে বাংলাদেশের হাতে নিয়ে আসেন রুমানা। মূলত ওই ওভারেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ঝুলন ওই ওভারে ১৭ রান দেন। 

শেষ পর্যন্ত রুমানা জয় থেকে ২ রান দূরে থাকতে আউট হন। শেষ বলে জাহানারা আলম দুই রান নিলে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ। ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ২৩ রান ও ২ উইকেট তুলে নেয়ায় প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান রুমানা আহমেদ। আর টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কল্যাণে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কান পান ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর। ভারতের পক্ষে পুনম ইয়াদব ৪টি ও অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর ২টি উইকেট লাভ করেন। 

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71