শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
ইরাকি বাহিনীর ‘মসুল জয়’, আইএস-এর খিলাফতের পতন ঘোষণা
প্রকাশ: ০৯:৪০ am ৩০-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৪০ am ৩০-০৬-২০১৭
 
 
 


আন্তর্জাতিক ডেস্ক::  ইরাকের মসুলে তাৎপর্যপূর্ণ জয় দাবি করেছে ইরাকি বাহিনী। তিন বছর আগে শহরটির ঐতিহাসিক আল নূরি মসজিদ থেকে কথিত খিলাফতের সূচনা করেছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। আট মাস লড়াই শেষে সেই মসজিদে পুনর্দখল প্রতিষ্ঠা করে ইরাকি সেনাবাহিনী বলছে, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) খিলাফতের পতন হয়েছে। 'কল্পিত রাষ্ট্রের' পতনের ঘোষণা এসেছে ইরাকি প্রধামন্ত্রীর তরফ থেকেও।  তবে এখনও সীমিত অঞ্চলে আইএস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে, অচিরেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে সেনাসূত্র।



আল নূরি মসজিদ
এক সময়কার ১৫ লাখ অধিবাসীর বহুজাতির মানুষের আবাসস্থল মসুল আইএস মুক্ত করতে লড়াই শুরু হয় গতবছরের অক্টোবরে। এই সোমবারে ইরাকি বাহিনী নুরি মসজিদের একেবারে কাছে পৌঁছে যায়। আর এখন তারা ৮৫০ বছরের পুরোনো রি মসজিদটি দখলে নিয়ে এক বড় ধরনের প্রতীকী জয় পেল। ইরাকের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া রাসুল রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেছেন, “তাদের (আইএস) কল্পিত রাষ্ট্রের পতন ঘটেছে।” এক বিবৃতিতে একই মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি।

মানচিত্রে মসুল
২০১৪ সালের ২৯ জুন সিরিয়ার আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা আর ইরাকের মধ্যাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে স্বঘোষিত খিলাফতের ঘোষণা দেন আবু বকর আল-বাগদাদী। খিলাফতের রাজধানী বানানো হয় সিরিয়ার রাকা শহরকে । এর মধ্য দিয়ে গঠিত হয় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত বা আইএসআইএল, যা সংক্ষেপে আইএস নামে পরিচিতি পায়। মার্কিনসমর্থিত ইরাকি বাহিনী মসুল পুনর্দখলে এগিয়ে আসার এক পর্যায়ে গত সপ্তাহেই আইএস ১২ শতকে নির্মিত আল-নুরি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তা ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে।
লে.জে. আব্দুল ওয়াহাব আল-সাদি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এপিকে জানান, সকালে আক্রমণ শুরুর পর মঙ্গলবার দুপুরে এলিট স্পেশাল ফোর্স কোম্পাউন্ডে প্রবেশ করে এবং আশেপাশের রাস্তাগুলোর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তার দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণে দখলীকৃত জায়গাটি বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আইএস জঙ্গিরা পিছু হটার সময় অনেক ক্ষেত্রেই বিস্ফোরকের ফাঁদ রেখে যায়।

মসুলের বেসামরিক জনতা
মসুল দখলের পরও টাইগ্রিস নদীর পশ্চিমে এক কিলোমিটারেরও কম অংশ (০.৫ মাইল) এখন কথিত আইএসের দখলে রয়েছে। প্রায় ৩০০ জঙ্গি এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে। ইরাকি কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, ৮ মাসের দীর্ঘ যুদ্ধটি আর কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।


দুই পক্ষের সংঘর্ষ আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বোমা হামলায় হাজারো সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। ঘরহারা হয়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন ৮লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। শহরটির একটি বড় অংশ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। গ্রীষ্মের তাপদাহে মৃতদেহের দূর্গন্ধ প্রকট আকার ধারণ করেছে ।

মসুলে ইরাকি সেনা
আইএসের দখলে থাকা মসুল থেকে পালানোর সময় নিহত হয়েছেন বেসামরিক নাগরিকরা। পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে আইএস সরাসরি সাধারণ মানুষকে টার্গেট করেছে। এছাড়া মার্কিন বিমান হামলায়ও প্রাণ হারাতে হয়েছে বেসামরিকদের। জাতিসংঘের হিসাবে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে সে সাস পর্যন্ত মসুলে কমপক্ষে ৮ হাজার বেসামরিক হতাহতের শিকার হয়েছে। ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ৬লাখ মানুষ।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71